দীর্ঘায়ুর মূল রহস্য কি নারী হওয়া? অন্তত ইতালির সার্দিনিয়া দ্বীপের একটি ক্ষুদ্র পার্বত্য গ্রামের শতবর্ষী প্রবীণদের ওপর চালানো সামপ্রতিক এক গবেষণা সেদিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্বের যেসব ভৌগোলিক অঞ্চলে শতবর্ষী বা দীর্ঘায়ু মানুষের বসবাস সবচেয়ে বেশি, সেগুলোকে চিহ্নিত করা হয় ‘ব্লু জোন’ হিসেবে। ১৯৯৯ সালে সার্দিনিয়ার মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি গ্রামগুলো মূলত অস্বাভাবিক দীর্ঘায়ু পুরুষদের বাসস্থান হিসেবে বিশ্বের পাঁচটি প্রধান ‘ব্লু জোন’–এর একটির স্বীকৃতি পেয়েছিল। তবে মূল ব্লু জোন থেকে প্রায় ১১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সার্দিনিয়ার কেন্দ্রীয় ‘মার্জিন’ এলাকার ‘বোলোতানা’ গ্রামটি এখন দীর্ঘায়ুর নতুন কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সেখানে প্রতি বছর নতুন নতুন শতবর্ষী দেখা দেওয়ার বিস্ময়কর ধারায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন মূলত নারীরা। খবর বিডিনিউজের।
সার্দিনিয়ার সাসারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা অ্যাট বার্মিংহাম’–এর গবেষকদের যৌথ এই গবেষণাটি বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন এজিন’–এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, বোলোতানা গ্রামে ৭০ বছর বয়সে পৌঁছানো নারীদের ১৩ দশমিক ৮ শতাংশই শেষ পর্যন্ত জীবনের ১০০ বছর স্পর্শ করতে পারেন।
নারী দীর্ঘায়ুর বিচারে হংকংয়ের পর বোলোতানা এখন বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ২০০৯ সালের পর থেকে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যাওয়া ইতালিতে যেখানে ৭০ বছর বয়সে পৌঁছানো নারীদের গড়ে মাত্র ৩ দশমিক ৫ শতাংশ শতবর্ষের মাইলফলকে পৌঁছাতে পারেন, সেখানে এই ছোট্ট গ্রামের হার জাতীয় গড়ের চেয়ে বহুগুণ বেশি। গবেষকরা ১৯০০ থেকে ১৯২৫ সালের মধ্যে বোলোতানায় জন্মগ্রহণকারী বাসিন্দাদের সরকারি নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখেন, তাদের মধ্যে ৩৮ জন ১০০ বছর বা তার বেশি সময় বেঁচেছিলেন। এই গ্রামে দীর্ঘায়ুর হার সমগ্র ইতালির জাতীয় গড়ের চেয়ে ৫৭ শতাংশ বেশি। ২০২৪ সালে শুরু হওয়া এই গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২,২৬৬ জন জনসংখ্যার এই গ্রামটিতে গত বছর ১২ জন শতবর্ষীর উপস্থিতি পাওয়া যায়, যা পুরো সার্দিনিয়া দ্বীপের গড়ের চেয়ে প্রায় ১২ গুণ বেশি।











