ফুটবলকে বিদায়ের পর মেসির পরিকল্পনা

স্পোর্টস ডেস্ক | বৃহস্পতিবার , ৮ অক্টোবর, ২০২৬ at ৫:৫৯ পূর্বাহ্ণ

আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ ২০৮ ম্যাচ খেলে অবসরের সিদ্ধান্ত নেয়া ফুটবল যাদুকর লিওনেল মেসি ক্যারিয়ার শেষে কি করবেন? উত্তর তিনি ফুটবলের সঙ্গেই থাকবেন, কারণ ফুটবল ছাড়া জীবন কাটানো তাঁর জন্য কঠিন হবে। তবে তাঁর অন্যান্য ব্যবসায়িক স্বার্থ ফুটবলের গন্ডির অনেক বাইরে বিস্তৃত। সমপ্রতি তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কোচ হওয়া নাকি মালিক হওয়া– কোনটি তিনি পছন্দ করবেন? মেসি বেছে নিয়েছেন ক্লাবের মালিক হওয়াকে। স্পেনে ইতোমধ্যেই সেই ভিত্তি তৈরি হচ্ছে। বার্সেলোনার উপকণ্ঠে পঞ্চম স্তরের ক্লাব ইউই কর্নেয়া তরুণ খেলোয়াড় গড়ে তোলার জায়গা। এ বছরের এপ্রিলে ক্লাবটি কিনেছেন মেসি। দ্বিতীয় বিভাগের সিডি এলদেন্সে ১ অক্টোবর মেসিকে নতুন মালিক হিসেবে ঘোষণা করা হয়। উরুগুয়েতে মেসি ও লুইস সুয়ারেজ ২০২৫ সালের মে মাসে দেপোর্তিভো এলএসএম প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথম মৌসুমেই দলটি দেশটির তৃতীয় স্তরে উন্নীত হয়। মেসির মূল লক্ষ্য হলো, এলদেন্সে ক্লাবটিকে লা লিগায় প্রতিষ্ঠিত করা যায় কি না, তা দেখা। মায়ামির সঙ্গেও এর যোগসূত্র রয়েছে। ইন্টার মায়ামির সঙ্গে তাঁর চুক্তির অংশ হিসেবে অবসরের পর ক্লাবটির কিছু শেয়ার তাঁর মালিকানায় আসবে। তবে নিজস্ব কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি কেনার পরিকল্পনা নেই। মেসির সবকিছুই ইউরোপ ও মায়ামিকেন্দ্রিক এবং পরিবারের জন্য বিলাসবহুল বাড়িও অপেক্ষা করছে বার্সেলোনার কাছে সমুদ্রতীরবর্তী কাস্তেলদেফেলসে। ক্লাবের মালিকানা যদি তাঁর একটি ভালোবাসা হয়, তাহলে অন্যটি হলো যুব ফুটবল। ছেলের ম্যাচে নিয়মিত উপস্থিতি এবং মেসি কাপে তাঁর অংশগ্রহণ তারই প্রমাণ। অনূর্ধ্ব–১৬ একাডেমিগুলোর জন্য আয়োজিত একটি টুর্নামেন্টে তিনি অর্থ ও সময়, দুটিই বিনিয়োগ করেন। ২০২৫ সালে আটটি দল নিয়ে টুর্নামেন্টটির যাত্রা শুরু হয়েছিল। গত বছর আয়োজকেরা আশা করেছিলেন, মেসি হয়তো এক–দুটি ম্যাচ, সম্ভবত শুধু ফাইনাল দেখতে আসবেন। কিন্তু সবাইকে অবাক করে তিনি প্রতিদিনের প্রতিটি ম্যাচ পুরোটা সময় বসে দেখেছিলেন। মাঠের বাইরে মেসি এমন একটি ব্যবসায়িক পোর্টফোলিও গড়ে তুলেছেন। এর মাধ্যমে বোঝা যায় কেন ফোর্বস জুনে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করেছিল। আগের এক বছরে ফুটবল ও ব্যবসা মিলিয়ে তাঁর আয় ছিল প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ডলার। তাঁর সবচেয়ে পরিচিত বাণিজ্যিক চুক্তি হলো ২০১৭ সালে স্বাক্ষর করা অ্যাডিডাসের সঙ্গে আজীবন চুক্তি। তাঁর ব্যবসার সবচেয়ে দৃশ্যমান অংশ হলো এমআইএম হোটেলস থেকে আন্দোরা পর্যন্ত ছয়টি বুটিক হোটেল। ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে মেলিয়া একটি ভাড়াভিত্তিক চুক্তির মাধ্যমে এগুলো পরিচালনা করছে। রোজারিওতে তাঁর পরিবারের প্রতিষ্ঠান কারাসকো এম–জি ডব্লিউ বিনিয়োগ করেছে। পারানা নদীর পাশে ২৪টি বাড়ির এই প্রকল্পের বিক্রয় পরিচালনা করছে আনহেল দি মারিয়ার একটি রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান। তিনি রেস্তোরাঁ চেইন এল ক্লাব ডে রা মিলানেসারও অংশীদার। প্রতিষ্ঠানটি কাতালোনিয়ায় পাঁচটি শাখা খোলার পরিকল্পনা করছে, যার প্রথমটি হবে কাস্তেলদেফেলসে। পানীয় পরিবেশনের সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান স্ট্যানলের সঙ্গে তাঁর একটি চুক্তি রয়েছে। কোনো ক্রীড়াবিদের সঙ্গে ব্র্যান্ডটির এটিই প্রথম বহু–বছরের চুক্তি। পণ্যগুলোর উপকরণ ও রং নিয়েও নিজের মতামত দিয়েছেন মেসি। মেসির ব্যবসায়িক যাত্রা শুরু হয়েছিল তাঁর বাবা হোর্হে মেসির হাত ধরে। গত আগস্টে ৬৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করা হোর্হে শুরু থেকেই ছেলের আর্থিক ও ব্যবসায়িক বিষয়গুলো দেখাশোনা করতেন। পরে কোম্পানিটি টেলিভিশন প্রযোজনা, বিপণন, মিডিয়া ও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বসহ বিভিন্ন শাখায় বিস্তৃত হয়। হোর্হে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার আগেই এসব কার্যক্রম সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল। গত নভেম্বরে মায়ামিতে আমেরিকা বিজনেস ফোরামে মেসি বলেছিলেন, ‘ব্যবসা এমন একটি বিষয়, যা আমাকে আগ্রহী করে। আমি আরও শিখতে চাই, কারণ আমি কিছুই জানি না এবং মাত্র শুরু করছি।’

পূর্ববর্তী নিবন্ধজার্সি উন্মোচন
পরবর্তী নিবন্ধমেসির জন্য রোনালদিনিয়ো নেইমার-সুয়ারেসদের বার্তা