নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক (বহিষ্কৃত) ওয়াকিল হোসেন বগা নগর ভবন থেকে মেয়রের গাড়িতে করে বেরিয়ে গেছে তার প্রমাণ দিতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, কোনো সাংবাদিক যদি প্রমাণ দিতে পারে আমার গাড়িতে সে উঠে বেরিয়ে গেছে, আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব। আর যদি এ ধরনের মিথ্যাচার করে, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই মামলা আমি করব। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন আমার নিজের কোনো বাড়ি না। এটা চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষের বাসস্থান। এখানে মানুষ আসবে। এখানে সবাই তাদের কমপ্লেইন নিয়ে আসতে পারে। যদি এক্স–ওয়াই–জেড কমপ্লেইন নিয়ে আসে এবং সে যদি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হয়, এটা পুলিশের দায়িত্ব অ্যারেস্ট করা। যদি এ ধরনের ওয়ারেন্টভুক্ত থাকে, সেটাও তারা করতে পারে।
গতকাল বুধবার দুপুরে নগরের ডবলমুরিং থানার ডিটি রোড এলাকায় মশক নিধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে মঙ্গলবার রাতে বগাকে গ্রেপ্তার করতে টাইগারপাস নগর ভবনের সামনে অবস্থান নেয় পুলিশ। ওই সময় নগর ভবনে ছিলেন মেয়র। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ‘কিশোর গ্যাং লিডার’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বগা নগর ভবনে এসেছে। তাকে ধরতে আসে পুলিশ।’ এমনকি মেয়রের গাড়িতে করে বগা চলে গেছে বলে সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘দাবি’ করে একটি পক্ষ। অবশ্য সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, মেয়ের হেঁটে গাড়ি উঠছেন। এসময় তার সঙ্গে বগা ছিলেন না’।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, মেয়র বলেন, আমি যখন গাড়ি গাড়িতে উঠি, ঐখানে সিসিটিভি আছে, পুরা সিটি কর্পোরেশনে সিসিটিভি ফুটেজ আছে। এবং আমি কিন্তু লুকিয়ে গাড়িতে উঠি নাই। আমি ওপেন সবার সামনে উঠেছি, তারা অনেকেই বলেছে ঐখানে নাকি গাড়িতে উঠে বের হয়ে গেছে। এতগুলি সাংবাদিক, এতগুলি লোক ঐখানে আছে, একটা ফুটেজেও কেউ আছে বলতে পারবে? ঐখানে ওয়াকিলের কোনো ছবি আছে?
তিনি বলেন, প্রমাণ করতে হবে যে আমার গাড়িতে যখন আমি ঢুকছিলাম, আমি গাড়িতে যখন উঠছিলাম, তখন সে ছিল–এটা প্রমাণ করতে হবে। আর যদি তারা প্রমাণ করতে না পারে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। আশ্রয় তো নেয় নাই, কেউ তো আশ্রয় নেয় নাই। এখানে তো সে আসে নাই, তার ভাই আসছে।
তিনি বলেন, আমি বারবার বলছি, সিটি কর্পোরেশন এটা সবাই আসতে পারে, এটা সবার জন্য দরজা খোলা। আমি কোনো একটি বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর মেয়র নই। সারা চট্টগ্রামের আবালবৃদ্ধবনিতা, সর্বস্তরের মোটকথা সাধারণের মেয়র। এখানে অনেক দলের লোক আসে, অনেক মতের লোক আসে, অনেক ধরনের লোক আসে। তারা আসতে পারে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে।
তিনি বরেন, ওয়াকিল কোনো আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী নয়। সে গত ১৭–১৮ বছর ধরে আন্দোলন সংগ্রামে ছিল। জুলাই–আগস্টের একজন যোদ্ধাও সে। এবং আমি দেখেছি যে বিভিন্ন ধরনের গত ১৬ বছরে তাকে প্রায় ৭০–৮০ টা মামলা দিয়েছে আওয়ামী লীগ।
তিনি খুলশী থানার ওসি আব্দুর রহিম প্রসঙ্গে বলেন, সে আওয়ামী লীগের সময় বাকলিয়া থানার ওসি ছিল। আওয়ামী লীগের সময় সে এনজয় করেছে একটা থানার ওসি হিসেবে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, খুলশী থানার একটা ওসি হিসেবে সে দায়িত্ব পায় কিভাবে? খুলশী থানার ওসিতে সে যোগ দেওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা অ্যারেস্ট হয় নাই। ছাত্রলীগ, যুবলীগের কোনো নেতা অ্যারেস্ট হয় নাই।
মেয়র বলেন, এটা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে কালকে তার (বগা) ভাইরা যখন তার (ওসি রহিম) বিরুদ্ধে কমপ্লেইন নিয়ে এসেছে, এখানে কমপ্লেইনটা খুব গুরুতর, আপনাদের আমি বলতে চাই, যে কমপ্লেইনটা নিয়ে ওয়াকিলের দুই ভাই এসেছিল।
তিনি বলেন, এই কমপ্লেইনটা হচ্ছে, কিছুদিন আগে সেখানে একটা হত্যাকাণ্ড হয়েছে, হৃদয় নামে একটা ছেলেকে মারা হয়েছে। ঐ হৃদয়কে যে মার্ডারার কামরুল। কামরুলকে মেরে এই ওসি আব্দুর রহিম এবং তার সাব–ইন্সপেক্টর জোরপূর্বক ওয়াকিলের নাম বলতে বাধ্য করা হয়েছে। ওয়াকিল এবং তার ভাইয়ের নাম বলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। ওইটাই ছিল তাদের কমপ্লেইন।
তিনি বলেন, বলা হচ্ছে যে আব্দুর রহিম আওয়ামী লীগের আমলে ওসিগিরি করেছে, এখনও সে আমাদের ছাত্রদল–যুবদলের যারা ছেলে আছে, ঐ এলাকায় ছাত্রদল–যুবদলের ছেলেদেরকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সে ঐ আসামিকে মেরে তাকে স্বীকারোক্তিমূলক নাম, সে তার নামে বলা হচ্ছে তাকে যাতে আসামি করা হয়।
মেয়র বলেন, খোরশেদ নামে একটা ছেলে প্রত্যক্ষদর্শী, সেও একই কথা বলেছে, ঐ মামলার যে আসামি, বাদী আছে, বাদীও বলেছে যে আমরা কখনো বলি নাই যে কামরুল ওয়াকিলের সহযোগী। আমরা শুধু কামরুলের কথা বলেছি যে সে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত। কাজেই এই যে এভাবে বানিয়ে বানিয়ে ওসি তাকে মেরে স্বীকারোক্তি করা এবং তার নামে মামলা দেওয়া, এই জন্যই তারা আমার কাছে এসেছিল। এবং তাদের এটা যৌক্তিকতা আছে।
ডা. শাহাদাত বলেন, যেহেতু সামনে নির্বাচন, এজন্য এখন ষড়যন্ত্র করছে। ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে যোগসাজশ হয়ে এই ওসি আবদুর রহিম অত্যন্ত ইনটেনশনালি কাজ করছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সময় একটা ভাইটাল থানার ওসি ছিল সে, আজকে সে কিভাবে খুলশী থানার ওসি হতে পারে? তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আমি নিজে দিচ্ছি। আমি যখন ঐ সময়ে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে বাকলিয়াতে একটা মেজবানের আয়োজন করি। সে খাবারের ডেকচি পর্যন্ত নিয়ে চলে গেছে। তো আজকে সে এখানে ওসিগিরি করতেছে, তাহলে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী সে ধরবে কেন? আজকে আমরা যে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ধরতে চাচ্ছি, তো ওসি কেন ধরবে, কারণ সে তো অলরেডি আওয়ামী লীগ করে এসেছে।











