শিক্ষকদের প্রতি সম্মান হোক সর্বাগ্রে

শ্যামল কান্তি দে | সোমবার , ৫ অক্টোবর, ২০২৬ at ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ

শিক্ষক শব্দটি শুনলেই হৃদয়ের মণিকোঠায় বারংবার উচ্চারিত হয় সম্মান ও শ্রদ্ধার আসন। জীবনের পথচলায় সৃষ্টির পর থেকে পিতা–মাতার পরেই শিক্ষকের স্থান। পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে প্রতিটি মানুষের জীবনে কোন না কোন শিক্ষকের আদর, ভালোবাসা, স্নেহের পরশ, শাসন, সোহাগের এক মহা সম্মিলনের সংযোগের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে জীবন ঘড়ি। আমার মাও ছিলেন একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। জীবনের প্রথম শিক্ষক হিসেবে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ মাকে। পৃথিবীর কোটি মানুষের অন্তরে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে সমগ্র পৃথিবীকে এগিয়ে নিয়ে গেছে শিক্ষক সমাজ। তাঁর আমাদের পূজনীয়, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক। একটি দেশ, সমাজ ও পৃথিবীকে পরিবর্তন করতে শিক্ষকের ভূমিকা অসীম। ছাত্র এবং শিক্ষকের সম্পর্ক মধুর, শ্রদ্ধা ও সম্মানের। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে লুকিয়ে থাকা সকল অসঙ্গতি দূর করতে এখনো শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম। অথচ সময়ের বিবর্তনে সাথে সাথে বিপথগামী কিছু সংখ্যক নতুন প্রজন্মের কাছে শিক্ষক সমাজ আজ অনেকাংশে অবহেলা, হেনস্তা এবং হামলার শিকারে পরিণত হচ্ছে, যা দেশ, জাতি এবং সমাজের জন্য ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনবে। যে শিক্ষক আলোর মিছিলে নিজেকে সম্পৃক্ত করে নূতন জীবনের জয়গান সৃষ্টির কারিগর হিসাবে ভূমিকা পালন করে সেই শিক্ষককে অসম্মান, অশ্রদ্ধা কোন ভাবেই কাম্য নয়। আমাদের মনে রাখতে হবে ‘শিক্ষকদের সম্মান সর্বাগ্রে’। শিক্ষকের সম্মান, জাতির সম্মান, দেশের সম্মান। এই সম্মানের ধারা প্রবাহিত থাকুক প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। ২০২৬ সাল বিশ্ব শিক্ষক দিবসের ৬০ বছর পূর্তি বা হীরক জয়ন্তী। ২০২৬ সালের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের মূল আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য হলো: “শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশা সুরক্ষার ৬০ বছর, এর মর্যাদার উন্নয়ন এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গঠন।” এই প্রতিপাদ্যের বিশেষ তাৎপর্য: ৬০ বছর পূর্তি: ১৯৬৬ সালে ইউনেস্কো এবং আইএলও কর্তৃক শিক্ষকদের অধিকার ও মর্যাদা সংক্রান্ত ঐতিহাসিক সুপারিশমালা গ্রহণের ৬০ বছর পূর্তি বা হিরক জয়ন্তীকে কেন্দ্র করে এবারের থিমটি নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে শিক্ষকদের বর্তমান পেশাগত চ্যালেঞ্জসমূহ দূর করা, তাঁদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে শিক্ষকদের কণ্ঠস্বরকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে এবারের প্রতিপাদ্যে। বিশ্বের সকল শিক্ষকের সম্মানের সাথে পাশে দাঁড়ানো, পেশার সুরক্ষা, শিক্ষকদের মর্যাদা, সম্মান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহ নানামুখী চ্যালেঞ্জ সমুহ দূর করতে আসুন আমরা সকলে শিক্ষকদের প্রতি পুনরায় শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় নিজেকে সম্পৃক্ত করি এবং আমাদের অনাগত সন্তানদের প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করে শিক্ষকদের মান মর্যাদা রক্ষায় দেশ, সমাজ, রাষ্ট্র, পৃথিবীকে এগিয়ে নিয়ে যায় আলোকিত মানবিক মানুষ হিসাবে। বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করি বিশ্বের সকল শিক্ষকদের। শিক্ষকদের সম্মান হোক সর্বাগ্রে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমাদককে না বলুন, কিশোরকে নিরাপদ রাখুন
পরবর্তী নিবন্ধ৫৬ বছরেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দুর্দশা ঘুচল না