সেপ্টেম্বরে ওয়াসার রাজস্ব আয় ২৮ কোটির বেশি

পরপর তিনমাসে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ আয়

শুকলাল দাশ | শুক্রবার , ২ অক্টোবর, ২০২৬ at ৫:২৭ পূর্বাহ্ণ

রাজস্ব আদায়ে চট্টগ্রাম ওয়াসা পরপর গত তিন মাসে অতীতে সকল রেকর্ড অতিক্রম করে ঈর্ষণীয় সাফল্যের পথে হাঁটছে। গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধারাবাহিক ভাবে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ পরিমান রাজস্ব আদায় করেছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। চট্টগ্রাম ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, রাজস্ব আদায় সেপ্টেম্বর মাসে ২৮ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। যা চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ। চট্টগ্রাম ওয়াসার রাজস্ব বিভাগ থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম ওয়াসার মাসিক রাজস্ব আদায় ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এরমধ্যে গত তিন মাস ধরে (জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর) প্রতি মাসেই রাজস্ব আয়ের পরিমান বাড়ছে। বকেয়া রাজস্ব আদায়ে আটটি বিশেষ দল গঠন করে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনার পর এই আদায় বেড়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসার রাজস্ব ও প্রকৌশল বিভাগের সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম ওয়াসার সেপ্টেম্বর মাসের রাজস্ব আদায়ের হিসাব অনুযায়ী, গত মাসে সংস্থাটির মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৮ কোটি ২৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে পানির বিল বাবদ আদায় হয়েছে ২৬ কোটি ১৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এরমধ্যে চলতি বিল ১৪ কোটি ১৯ লাখ ১১ হাজার টাকা এবং বকেয়া বিল থেকে ১২ কোটি ১৪ হাজার টাকা আদায় হয়েছে। এ ছাড়া সারচার্জ থেকে ৮০ লাখ ৫৭ হাজার টাকা, গভীর নলকূপ ফি ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং নতুন সংযোগ খাত থেকে ৩৫ লাখ ৯৩ হাজার টাকা আদায় হয়েছে। এর আগে আগস্ট মাসে আদায় হয়েছিল ২৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। গতকাল বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর চট্টগ্রাম ওয়াসার জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবুল কাসেম এ তথ্য জানান। চট্টগ্রাম ওয়াসার মাসিক রাজস্ব আদায় দীর্ঘদিন ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতো। কিন্তু গত জুলাই থেকে রাজস্ব আদায়ে ঈর্শ্বনীয় সাফল্যের পথে হাঁটছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। গত জুলাই থেকে প্রতি মাসেই ওয়াসার রাজস্ব আয়ের পরিমান বাড়ছে। জুলাইয়ে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২৬ কোটি ৮০ লাখ এবং আগস্টে ২৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা আদায় হয়েছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম বলেন, রাজস্ব আদায়ে বর্তমানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গঠিত দলগুলো এলাকাভিত্তিক কাজ করে বকেয়া থাকা গ্রাহকদের বিল পরিশোধে উৎসাহিত করছে। এর আগে ৫০ হাজার টাকার বেশি বকেয়া আদায়ে কাজ করা হয়েছে। এখন ২৫ হাজার টাকার বেশি বকেয়াধারীদের নিয়ে কাজ চলছে। এ কাজে আগ্রহ ও উৎসাহ প্রদানের জন্য সর্বোচ্চ বকেয়া আদায়কারী তিনজন মিটার পরিদর্শককে ক্রেস্ট এবং প্রতি টিমের সকল সদস্যদের সনদ প্রদান করেছি। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসা রাজস্ব আদায়ে বদ্ধপরিকর। সম্মানিত গ্রাহকদের অনুরোধ করবো, আইন মেনে সংযোগ ও নলকূপের লাইসেন্স গ্রহণ করুন এবং বকেয়া টাকা পরিশোধ করুন।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম ওয়াসার বকেয়া আদায়ে পুরোদমে মাঠে কাজ করছে রাজস্ব ও প্রকৌশল বিভাগের সমন্বয়ে গঠন করা আটটি মনিটরিং টিম। চট্টগ্রাম ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী, রাজস্ব কর্মকর্তা, রাজস্ব তত্ত্বাবধায়ক ও মিটার পরিদর্শকদের সমন্বয়ে এ মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। সকল মনিটরিং টিমের কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে আছেন উপ–ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ) মিজ্‌ শারমিন আক্তার।

বকেয়া আদায়ে আটটি দল গঠন করে ওয়াসা। যেসব গ্রাহকের ২৫ হাজার টাকার বেশি বকেয়া আছে, তাদের সংযোগ সরেজমিন পরিদর্শন করে বকেয়া আদায় করছে দলগুলো।

গত দুই মাস ধরে চলা এ কার্যক্রমে বকেয়া আদায়ের পাশাপাশি গ্রাহকদের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ এবং অবৈধ সংযোগ ও লাইসেন্সবিহীন গভীর নলকূপের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এছাড়াও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও লাইসেন্সবিহীন গভীর নলকূপ স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির মোট বকেয়া রাজস্বের পরিমাণ প্রায় ২৫৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কাছে ৭১ কোটি ৫২ লাখ এবং সাধারণ গ্রাহকদের কাছে ১৮৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএনসিটিতে আন্তর্জাতিক অপারেটর : বন্দর রক্ষা কমিটির নিন্দা ও ক্ষোভ
পরবর্তী নিবন্ধরেডিও আয়োডিন ক্যাপসুল সংকট