চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে এক শিক্ষার্থীকে আটক করে হাটহাজারী থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এ এফ রহমান হলের ওই শিক্ষার্থীকে আটক করে প্রক্টর কার্যালয়ে নেওয়া হয়। আটককৃত মুনতাছির মারজু রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ২০২২–২৩ সেশনের শিক্ষার্থী।
প্রশাসন ও চাকসু নেতৃবৃন্দ সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকসু ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দের মোটরসাইকেলে টহলের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আবরার শাহরিয়ারের একটি পোস্টের স্ক্রিনশট দিয়ে একটি পোস্ট করা হয়। ওই পোস্টে লেখা ছিল, ‘যে বাইকে শোডাউন দাও, সে বাইকের চাবি আমাদের হাতে, যে হলে থাকো, সে হলে যেকোনো সময় যেকোনো কিছু ঘটতে পারে আমাদেরই ইশারায়!’
ওই পোস্টে মুনতাছির লাভ রিঅ্যাক্ট দেওয়ায় তাকে সন্দেহ করা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপরে, তার ফোনটি চ্যাক করে আবরার শাহরিয়ারের সঙ্গে মুনতাছিরের দীর্ঘদিনের হোয়াটসঅ্যাপ যোগাযোগ ও বিভিন্ন বার্তা পাওয়া যায় বলে জানান চাকসু নেতৃবৃন্দ। এ ঘটনায় রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ২০২০–২০২১ সেশনের শিক্ষার্থী শাহিন আহমেদ বলেন, মুনতাছিরকে প্রথমে হল সংসদে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাকে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তখন তার ফোন চেক করা হয়। তারপর চাকসুর মোনায়েম শরীফ ভাই আসে। তখন পিছন থেকে আমাদের মাঝেই কয়েকজন তাকে চর থাপ্পড় দিয়েছে। তাকে রিঙা করে নিয়ে আসা হয় প্রক্টর অফিসে।
চাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক মোনায়েম শরীফ বলেন, মুনতাছিরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও তার ফোনে আবরার শাহরিয়ারের সঙ্গে কথোপকথন পাওয়া যায়। সেখানে ষড়যন্ত্রমূলক বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেছে। পরে তাকে প্রক্টর কার্যালয়ে নেওয়া হলে প্রক্টর এসব তথ্য ও প্রমাণ দেখে পুলিশকে জানান।
ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মুনতাছিরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তবে, মুনতাছির মারজু ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ছাত্রলীগের কোনো কমিটিতে আমার নাম নেই এবং আমি কখনো ছাত্রলীগ করিনি। আবরার শাহরিয়ারের সঙ্গে জুলাই এর আগে থেকে আমার যোগাযোগ ছিল। বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার জন্য আমার সঙ্গে কথা হতো। কোনো রাজনৈতিক মিছিল–মিটিংয়ে আমি অংশ নেইনি। আমাকে পিঠে মারা হয়েছে এবং দুই–তিনটি থাপ্পড় দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কামরুল হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীরা মুনতাছিরকে আটক করে তার ফোন চেক করেন এবং পরে বিভিন্ন কথোপকথনের বিষয়টি প্রশাসনকে জানায়। প্রশাসনও বিষয়টি দেখেছে। যেহেতু বিষয়টি ফৌজদারি ও আইনগত, তাই পুলিশকে জানানো হয়েছে। পুলিশ তাকে আইনগত কার্যক্রমের জন্য নিয়ে গেছে। আমার সামনে শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তোলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে প্রক্টর কার্যালয়ে আনার আগে বাইরে কী হয়েছে, তা আমার জানা নেই। এ বিষয়ে হাটহাজারী থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদূর রহমান বলেন, এখন মামলা করা হয়নি। তবে, থানায় আনা হয়েছে।












