চবিতে চীনা কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের যাত্রা শুরু

| মঙ্গলবার , ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৬:১৩ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক সুসম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট’। চীনের ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয় এবং চবির যৌথ উদ্যোগে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন গতকাল সোমবার কলা ও মানববিদ্যা অনুষদে অনুষ্ঠিত হয়। পরে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্‌–ফোরকান। সম্মানিত অতিথি ছিলেন চীনের ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্টি কমিটির সম্পাদক রুয়ান ঝাওছি। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ–উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল–আমীন, উপ–উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সালেহ্‌ জহুর এবং কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. ইকবাল শাহীন খান। সভাপতিত্ব করেন কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট, চবির পরিচালক প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন।

প্রধান অতিথি বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কনফুসিয়াস সেন্টারের যাত্রা শুরু হওয়া আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও আনন্দের দিন। এই উদ্যোগ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিকীকরণ, ভাষা শিক্ষা, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। চীনা ভাষাকে আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য তৃতীয় ভাষা হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে তাদের কর্মসংস্থান ও কর্মদক্ষতার ক্ষেত্রে একটি অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হবে। চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অংশীদার। ফলে চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান আমাদের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে আরও প্রস্তুত করে তুলতে পারে।

উপাচার্য বলেন, ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি এখানে শিক্ষা, গবেষণা, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে আমরা আশা করি।

চীনের ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্টি কমিটির সম্পাদক রুয়ান ঝাওছি বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। একই সঙ্গে এই অংশীদারত্ব আমাদের ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও অর্পণ করেছে।

এর মাধ্যমে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের পারস্পরিক সহযোগিতা শিক্ষা, গবেষণা, ভাষা ও সংস্কৃতির বিনিময়কে আরও সমৃদ্ধ করবে।

তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট একটি ভাষা শিক্ষা কেন্দ্রের চেয়েও বড় ভূমিকা পালন করবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা চীনা ভাষা শেখার পাশাপাশি চীনের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সমাজ সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে। তিনি কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সফলতা কামনা করেন।

উপ–উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল–আমীন বলেন, ইউনান মিনজু ইউনিভার্সিটির শৃঙ্খলাবদ্ধ কর্মপদ্ধতি এবং সময়ের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে কার্যকর কর্মসম্পাদন নিশ্চিত করার সংস্কৃতি আমাদের জন্যও শিক্ষণীয়। কনফুসিয়াস সেন্টারের মাধ্যমে চীনের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও কর্মসংস্কৃতির যেসব ইতিবাচক দিক রয়েছে, সেগুলো সম্পর্কে আমাদের শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা জানার সুযোগ পাবে।

উপ–উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বহু শতাব্দী আগে চীন ও বাংলার মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত রয়েছে। এই কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে শুধু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চীনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হবে না; বরং দুই দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও বোঝাপড়ার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে।

সভাপতির বক্তব্যে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট চবির পরিচালক প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন মাইলফলক। এর মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ইতিবাচক ও সহযোগিতামূলক হবে।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন চবি কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চীনা পরিচালক জিয়া ওয়াংওয়েই।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চবি ছাত্র–ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসেন ও আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের খন্ডকালীন চাইনিজ ভাষা শিক্ষক আয়েশা পারলীন। সভা শেষে চীনের ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবাংলাদেশে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম বন্দর বাঁচাতে হলে কর্ণফুলীকে বাঁচানোর বিকল্প নেই