বিশ্ব জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

চুয়েটে পিএমই বিভাগের সিম্পোজিয়ামে বিইপিআরসি চেয়ারম্যান

| বৃহস্পতিবার , ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৮:০৩ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিলের (বিইপিআরসি) চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন বলেছেন, ভবিষ্যতে বিশ্ব ব্যবস্থায় নতুন সংকট বা বিপর্যয়ে নিজেদের সক্ষমতা দিয়ে তা মোকাবিলা করে টিকে থাকার জন্য গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় একটি ক্ষেত্র। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের মেধা ও সক্ষমতা ধারণ করে। তারা গবেষণা, উদ্ভাবন ও স্থানীয় বাস্তবতার আলোকে নতুন সমাধান খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে জ্বালানি সংকট ও নিরাপত্তার সমস্যাগুলোর কার্যকর এবং টেকসই সমাধান বের করা সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশে আমদানিকৃত কয়লার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় কয়লা ব্যবহার করা গেলে রাষ্ট্রকে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর একটি বড় ধরনের চাপ থেকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব। তবে খনিজ সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই পরিবেশের সুরক্ষা ও টেকসই ব্যবস্থাপনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সাথে আমাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে উৎসাহিত করছেন। এই উদ্যোগকে সামনে রেখে আমাদেরও এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি গতকাল বুধবার চুয়েটের একাডেমিক কাউন্সিল কক্ষে পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (পিএমই) বিভাগের উদ্যোগে ‘অফাধহপরহম ঝঁংঃধরহধনষব ঊহবৎমু ঝঃৎধঃবমু ভড়ৎ ইধহমষধফবংয: জবংবধৎপয, ওহহড়াধঃরড়হ ্‌ ঈড়ষষধনড়ৎধঃরড়হ’ শীর্ষক সিম্পোজিয়ামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এতে চিফ প্যাট্রন ছিলেন ভাইসচ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিপিসির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) .মো. রফিকুল ইসলাম এবং মেকানিক্যাল অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিএমই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পিএমই বিভাগের প্রভাষক শ্রাবনী তালুকদার। কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফেজ মাওলানা ক্বারী নুরুল্লাহ। ভাইসচ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য ও অনবায়নযোগ্য উভয় ধরনের জ্বালানির সম্ভাবনা ও বাস্তবতা নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের জন্য টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার পথ খুঁজে বের করতে হবে। জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিল (বিইপিআরসি) গবেষণায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের জন্য গবেষণা প্রকল্প ও অনুদান প্রদান করছে। এসব সুযোগ সম্পর্কে শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের আরও স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গবেষণা প্রস্তাবনা যথাযথভাবে প্রণয়ন ও উপস্থাপনের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। রিসোর্স পার্সন ছিলেন ভাইসচ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম, (উপসচিব) প্রকৌশলী মো. মুজিবুর রহমান এবং বিইপিআরসির পরিচালক (ইনোভেশন) . হাসান মাহমুদ। এরপর প্যানেল আলোচনায় রিসোর্স পার্সন ছিলেন সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন, ভাইসচ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম এবং সাবেক ভাইসচ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধউপজেলা ও ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটি সক্রিয় করতে হবে
পরবর্তী নিবন্ধনিজ দোকান থেকে চরপাথরঘাটার আনোয়ার মেম্বার গ্রেপ্তার