নগরের ব্যস্ত সড়কে যানজটের দীর্ঘশ্বাস কিছুটা কমিয়ে মানুষের চলাচলকে গতিশীল করতেই নির্মিত হয়েছে ফ্লাইওভার। কিন্তু যে অবকাঠামো মানুষের পথ সহজ করার কথা, সেটিই যদি নিরাপত্তাহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে উন্নয়নের সেই আয়োজন প্রশ্নের মুখে পড়ে। ফ্লাইওভারে চলাচলকারী যানবাহনের বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার অভাব, সড়কের বিভিন্ন ত্রুটি এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ায়। একই সঙ্গে ফ্লাইওভারের নিচের অংশ ও মাঝপথের নির্জন জায়গাগুলোও অনেক সময় অপরাধী ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি করে, যা সাধারণ পথচারী ও যাত্রীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে। তাই ফ্লাইওভারের ওপর–নিচে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, কার্যকর সিসিটিভি, নিয়মিত পুলিশি টহল ও নজরদারি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সড়ক, রেলিং, ড্রেনেজ, সাইনবোর্ড ও অন্যান্য অবকাঠামোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে ঝুঁকি চিহ্নিত করে আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। যানজট কমানোর জন্য নির্মিত ফ্লাইওভার যেন দুর্ঘটনা, অপরাধ কিংবা আতঙ্কের নতুন ঠিকানা না হয় এ দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরই। নগরের সৌন্দর্য ও গতি যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। তাই ফ্লাইওভারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন আর কেবল প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, এটি নগরবাসীর স্বস্তি ও নিরাপদ জীবনের অপরিহার্য দাবি।
রনি মুহুরী
শিক্ষার্থী,
সরকারি সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম।












