
সুরের শরীরে যে প্রাণ তারই নাম সংগীত। এ কেবল সুর, তাল ও লয়ের নিপুণ বিন্যাসে সীমাবদ্ধ নয়; সংগীত মানুষের অন্তর্লোকের অনির্বচনীয় ভাষা, আত্মার অনুরণন। সংগীত কেবল শ্রুতির আনন্দ নয়, এ চেতনার এক মহা কাব্যিক জাগরণ।
মানুষের যে কথা ভাষায় ধরা পড়ে না, যে কান্না অশ্রুতে শেষ হয় না, যে প্রেম প্রকাশের অতীত সংগীত তাকে সুরের অমৃতধারায় রূপ দেয়।
সংগীত একই সঙ্গে তাই সাধনা ও মুক্তি, সৌন্দর্য ও সত্যের সন্ধান; তার পরম সার্থকতা তখনই, যখন একটি সুর শ্রোতার কর্ণপথ অতিক্রম করে হৃদয়ের গভীরে নোঙর ফেলে। শব্দ থেমে যায়, সংগীত তখন কথা বলে, হৃদয়কে স্পর্শ করে, চেতনাকে জাগায় এবং মানুষকে তার আপন সত্তার কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে আর্য সঙ্গীত সমিতি শুধু একটি সঙ্গীত–প্রতিষ্ঠানের নাম নয়; এটি এক দীর্ঘ সাংস্কৃতিক জাগরণের নাম। বঙ্গভঙ্গ–পরবর্তী স্বদেশি আন্দোলনের উত্তাল সময়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি সঙ্গীতকে বিনোদনের গণ্ডি থেকে তুলে এনে দেশপ্রেম, সংস্কৃতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সঙ্গীতশিক্ষার বাহন করে তুলেছিল।
২৩ আগস্ট ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দের ১৩ ভাদ্র) শুভ জন্মাষ্টমীর দিনে চট্টগ্রামে আর্য সঙ্গীত সমিতি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। সে সময় বঙ্গভঙ্গ বিরোধী স্বদেশি আন্দোলন তীব্র হয়ে উঠেছিল। সে সময় সমিতির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল স্বদেশি গান পরিবেশনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে দেশাত্মবোধ জাগিয়ে তোলা।
তৎকালীন চট্টগ্রামের ইতিহাসে প্রতিষ্ঠানটিকে ‘প্রথম ও প্রধানতম’ সঙ্গীত–সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রিটিশ শাসনের শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক পরিসমণ্ডলে এর প্রভাব ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আর্য সঙ্গীত সমিতির জন্মের পেছনে ছিল একটি গভীর সাংস্কৃতিক দর্শন। গান হবে জাগরণের ভাষা। সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাথমিক যুগের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন সঙ্গীতাচার্য সুরেন্দ্রলাল দাশ। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময় তাঁর নেতৃত্বে আর্য সঙ্গীত সমিতি দেশাত্মবোধক সঙ্গীতচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশের দশকে তাঁর নেতৃত্বে আর্য সঙ্গীতের শিল্পীদল নিখিল বঙ্গ কংগ্রেস সম্মেলনেও অংশগ্রহণ করেন যা সে সময়ের চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
শুদ্ধ সঙ্গীতের রাজপুত্র সঙ্গীতাচার্য সুরেন্দ্র লাল দাশ (যিনি ঠাকুর্দা নামে সমধিক পরিচিত) ছিলেন একজন সঙ্গীতগত প্রাণ। তাঁর উল্লেখযোগ্য কীর্তি উপমহাদেশে অর্কেষ্ট্রা বাদন। আর এই অর্কেষ্ট্রার প্রয়োজনে তিনি সৃজন করেছেন বিভিন্ন সপ্তকের যন্ত্র, মন্দ্র বাহার, মেঘনাদ, কোয়েলা, ভ্রামরী, তার সানাই, বড় সানাই, তড়িৎ বীণা ইত্যাদি। তাঁর সংগীত সাধনায় ছিল অসাধারণ বুৎপত্তি। তাঁর রচিত ৬০টি অকেষ্ট্রার পাণ্ডুলিপি যা ভারত বর্ষের ‘আকাশবাণী’তে সংরক্ষিত আছে এবং যে গুলো তাঁর কর্মরত অবস্থায় বাজানো হয়েছিল। কথিত আছে আকাশ বাণীর সূচনা সুরটিও তাঁর কৃত। তাঁর প্রিয় বাদন যন্ত্র ছিলো বাঁশি ও পিকালো। ঠাকুরদা রচিত সঙ্গীত গ্রন্থ: নাদবিদ্যা সংকলন, বীণাপানি সংকলন, সঙ্গীত সাধনা প্রণালী ইত্যাদি। তাঁর অক্ষয় কীর্তি ‘আওয়ার অর্কেষ্ট্রা’। তিনি শুধু এদেশে আর্য সংগীত প্রতিষ্ঠা করে থামেন নি, কলকাতা এবং মিয়ানমারের আকিয়াবে, ইয়াংগুনেও এর শাখা প্রতিষ্ঠা করেন। বিপ্লবের মন্ত্রে দীক্ষিত সুরেন দাশ বলতেন, ‘দল বেঁধে যে সংগীত চর্চা তার ভেতর দিয়ে এই দেশের প্রাণশক্তি মূর্ত হয়ে উঠে।’ সংগীতাচার্য সুরেন্দ্র লাল দাশ অসাধারণ ধী–শক্তি সম্পন্ন সঙ্গীতজ্ঞ শুধু ছিলেন না, তিনি তাপক্লিষ্ট মানুষের প্রাণে সুরসুধা সঞ্চার করে সঙ্গীতের মহৎ–প্রাণ হয়ে উঠেছিলেন। পরোপকারের মহৎ ঔদার্য্য তাঁর মহৎ কীর্তি। তাঁর কর্ম কীর্তি নিয়ে ‘ঠাকুদা এবং আর্য সঙ্গীত’ একই সূত্রে গাঁথা হয়ে আছে ইতিহাসে। তাঁর প্রথমপুত্র আদিত্য নারায়ণ দাশ ছিলেন আর্য সঙ্গীতের একজন লদ্ধপ্রতিষ্ঠ তবলা শিল্পী।
উপমহাদেশের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের শিরোমণি, সর্ববাদ্য বিশারদ উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ আর্য সংগীতকে সুরের ‘আশ্রম’ আখ্যায়িত করেছিলেন। এছাড়া সঙ্গীতাচার্য গোপেশ্বর বন্দোপাধ্যায়, নাট্যাচার্য শিশির ভাদুড়ী, সাংবাদিক রামানন্দ চট্টোপাধ্যয়, বিশ্বখ্যাত নৃত্যশিল্পী উদয়শংকর, মমতা শংকর, সরোদবাদক রাধিকা মোহন মৈত্র, পণ্ডিত জ্ঞান প্রকাশ ঘোষ, প্রখ্যাত সেতার গুণী তিমির বরণ প্রমুখ বিশ্বখ্যাত শিল্পী সঙ্গীতজ্ঞের স্মৃতি ধন্য এই আর্য সংগীত।
এই প্রতিষ্ঠানের আদি পর্বের শিক্ষক ছিলেন সঙ্গীতাচার্য প্রতিষ্ঠাতা সুরেন্দ্র লাল দাশ, শ্রী নকুল দাশ, শ্রী ধীরেন্দ্র লাল দাশ, শ্রী গোপাল দাশ, শ্রী জীবন দাশ, শ্রী গঙ্গাপদ আচার্য, অধ্যক্ষ প্রিয়দা রঞ্জন সেনগুপ্ত, নীরদ বরণ চৌধুরী, গুণী বেহালা বাদক প্রিয় গোপাল গুপ্ত (অধর বাবু), ড. সুরেশ চক্রবর্ত্তী, অধ্যক্ষ ফজলুল হক, শ্রী নির্মল মিত্র, অমল মিত্র, শ্রী শশাঙ্ক বড়ুয়া প্রমুখ বিরলপ্রজ সংগীতকার গণ।
নৃত্য বিশারদ চুনী লাল সেন, একুশে পদক প্রাপ্ত রুনু বিশ্বাস, অনিল বরণ চৌধুরী, তবলাগুরু বিজন চৌধুরী, বংশীবাদক শ্রী মৃণাল কান্তি দাশ, শ্রী নারায়ন চক্রবর্ত্তী, কলিম শরাফী, ওয়াহিদুল হক, গণ সঙ্গীত শিল্পী অজিত রায়, মিহির নন্দী প্রমুখ সঙ্গীত ব্যক্তিত্বগণ বিভিন্ন সময় আর্য সঙ্গীতে শিক্ষকতা করেছেন।
মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীতে সংগীতবোদ্ধা শ্রী নীরেন্দ্র লাল এর ধ্বংসপ্রাপ্ত আর্য সংগীতের পুণনির্মাণে আর্থিক অনুদান উল্লেখ্যযোগ্য। তাঁর অনুরোধে তৎকালীন ভারতীয় কূটনীতিক সুবিমল দত্ত ভগ্নপ্রায় আর্য সংগীতের জন্য সংগীতের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও সংগীতগ্রন্থ দান করেন।
আর্য সংগীত মূলত : সংগীত তীর্থ। এখানকার মূল সাঙ্গীতিক কার্যক্রমে হিন্দুস্থানী সংগীত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। প্রথম থেকে অষ্টমবর্ষ পর্যন্ত সঙ্গীতের পদ্ধতিগত শিক্ষা কার্যক্রমে এটি পরিচালিত হয়।
ঐতিহাসিক সূত্রে ব্রিটিশ আমলে সমিতির যেসব সভাপতির ধারাবাহিকতার উল্লেখ পাওয়া যায়, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন রজনীকান্ত রায় দস্তিদার, রায় বাহাদুর নবীনচন্দ্র দত্ত, রায় সাহেব ললিতকুমার সেন, ত্রিপুরাচরণ চৌধুরী, সুরেশচন্দ্র বসু, বগলাপ্রসন্ন চক্রবর্তী, ত্রিপুরা চরণ চৌধুরী, আবদুল হক দোভাষ প্রমুখ। পরবর্তীতে বিভিন্ন সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব্ব ও তৎকালীন সমাজের অভিজাত পৃষ্ঠপোষকতার ফলে প্রতিষ্ঠানটি একটি সুসংগঠিত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। অ্যাডভোকেট অনিল গুহ দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানের সম্পাদক ছিলেন। পরে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন শিক্ষাবিদ অসিত লালা।
আর্য সঙ্গীত সমিতির ইতিহাসে ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ একটি যুগান্তকারী বছর। ১৩২৯ বঙ্গাব্দের আশ্বিন মাসে সমিতির অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘আর্য সঙ্গীত বিদ্যাপীঠ’। পরবর্তীতে যার নাম হয় ‘সুরেন্দ্র সঙ্গীত বিদ্যাপীঠ’ সেখানে তরুণদের জন্য সঙ্গীত ও নৃত্য শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়; এমনকি অভিনয়ও পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত ছিল। অর্থাৎ সমিতি তখন কেবল গান পরিবেশনের সংগঠন নয়, একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক শিক্ষাকেন্দ্র হয়ে উঠছিল। তখনই শিক্ষা পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন এনে সঙ্গীতে পদ্ধতিগত শিক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এখানেই আর্য সঙ্গীতের ঐতিহাসিক গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় কারণ গুরু শিষ্যভিত্তিক সঙ্গীতচর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কাঠামোর মধ্যে আনার ক্ষেত্রে এটি চট্টগ্রামে পথিকৃৎ ভূমিকা পালন করে।
সুরেন্দ্র লাল দাশের নেতৃত্বে দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের সমন্বয়ে রাগভিত্তিক সঙ্গীত পরিবেশনের স্বতন্ত্র ধারা গড়ে ওঠে, পরবর্তীকালে বৃহত্তর বঙ্গের সাংস্কৃতিক পরিসরেও চট্টগ্রামের পরিচয় বহন করে।
১৯৪৭–এর দেশভাগ চট্টগ্রামের সঙ্গীতজগতেও গভীর অভিঘাত সৃষ্টি করে। বহু শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মী পশ্চিমবঙ্গে চলে যাওয়ায় এখানকার শাস্ত্রীয় সঙ্গীতচর্চা তখন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু আর্য সঙ্গীতে চর্চার ধারাটি কখনো থেমে থাকেনি। পাকিস্তান আমলেও কয়েকজন সংগীত গুরু ও শিল্পী এই প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সঙ্গীতশিক্ষার ধারাটি ধরে রাখেন।
আজও আর্যসঙ্গীত সুরের ধারায় ও অনুশীলনে উচ্চশিরে দেদীপ্যময়। যদিও পণ্ডিত সুরেশ চক্রবর্ত্তী দেশ ভাগের পর কিছুদিন অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। উস্তাদ ফজলুল হক আর্য সঙ্গীতের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এমন তথ্যও পাওয়া যায়। সঙ্গীতজ্ঞ প্রিয়দা রঞ্জন সেনগুপ্ত ও সঙ্গীতাচার্য জগদানন্দ বড়ুয়া ও বিভিন্ন সময়ে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন।
আর্য সঙ্গীত সমিতির আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় গুলোর একটি উস্তাদ নীরদ বরণ বড়ুয়াকে ঘিরে।
কলকাতায় সঙ্গীতশিক্ষা শেষে তিনি চট্টগ্রামে ফিরে আসেন এবং আর্য সঙ্গীত সমিতির সঙ্গে যুক্ত হন। পরে সুরেন্দ্র সঙ্গীত বিদ্যাপীঠের অধ্যক্ষ হিসেবে দীর্ঘ ২৫ বছর দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সময়ে চট্টগ্রামে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিক্ষার ক্ষেত্রে নতুন জোয়ার সৃষ্টি হয় এবং অসংখ্য শিক্ষার্থী তাঁর কাছে তালিম নেন।
১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি আর্য সঙ্গীত থেকে অবসর নেন। পরবর্তীতে নিজের বাসভবনে ‘সুর সপ্তক সঙ্গীত বিদ্যাপীঠ’ প্রতিষ্ঠা করে আবারও সঙ্গীতশিক্ষায় যুক্ত হন।
২০২৫ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যু পরবর্তীতে মরণোত্তর একুশে পদক লাভ তাঁর দীর্ঘ সাধনার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। উস্তাদ নীরদবরণ বড়ুয়ার পর উস্তাদ মিহির লালা তাঁর উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হন।
তিনি চট্টগ্রাম সুরেন্দ্র সঙ্গীত বিদ্যাপীঠের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের চর্চা ও শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
উস্তাদ মিহির লালার সময়কালীন তিনি শুধু সঙ্গীতের চর্চায় নিয়োজিত থেকে সুরের আলোয় আলোকিত করেননি, তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থী তৈরি করে সারা দেশে শুদ্ধ সঙ্গীতের বাতাবরণ তৈরিতে বিশাল ভূমিকা রাখেন। উস্তাদ মিহির লালা ছিলেন একাধারে দেশের একজন অগ্রগণ্য খেয়াল শিল্পী এবং একজন শিক্ষার্থী অন্ত:প্রাণ সংগীত গুরু। একটা সময় আর্য সংগীতের উপর একটা বিশাল ঝড় বয়ে গেছে। কিছু অর্থলোভী ভূমি দস্যু প্রতিষ্ঠানের অনেকটা জায়গা দখল করে নেয়। অধ্যক্ষ মিহির লাল অক্লান্ত পরিশ্রমে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকের সহযোগিতায় আইনি যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে তার অনেকাংশ উদ্ধার করতে সমর্থন হন। তাঁর একান্ত পরিশ্রমে আর্য সংগীত আজ সগৌরবে সুরম্য ভবনে প্রতিষ্ঠিত।
এভাবে সুরেন্দ্রলাল দাশ, নীরদ বরণ বড়ুয়া, মিহির লালা প্রমুখ গুরু শিল্পীর হাত ধরে আর্য সঙ্গীতের গুরু–শিষ্য পরম্পরা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত হয়েছে। গৌরবের ধারায় এ বছর শতোত্তর বিংশতম বছর অতিক্রম করছে প্রতিষ্ঠানটি।
এই দীর্ঘ সময়ে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক–সামাজিক বাস্তবতা বহুবার বদলেছে স্বদেশি আন্দোলন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, দেশভাগ, পাকিস্তান আমল, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অভিযাত্রার। কিন্তু আর্য সঙ্গীত সমিতির মূল সুরটি রয়ে গেছে সঙ্গীতচর্চা, সঙ্গীতশিক্ষা এবং সংস্কৃতির সাধনায়।
আর্য সঙ্গীত সমিতির ১২০ বছরের ইতিহাসকে এক বাক্যে বলা যায় ইতিহাসের নির্যাস। স্বদেশের জাগরণের গান থেকে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সাধনা, আর সেখান থেকে প্রাতিষ্ঠানিক সঙ্গীতশিক্ষার দীর্ঘ পরম্পরা এই হলো চট্টগ্রামের আর্য সঙ্গীত সমিতির ইতিহাস।
১৯০৬–এর স্বদেশি আন্দোলনের অগ্নিশিখায় যে সুরের প্রদীপ জ্বলে উঠেছিল, একশ বিশ বছর পরও তার আলো নিভে যায়নি; গুরু থেকে শিষ্যে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সেই সুর আজও চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক আকাশে অনুরণিত।
আশা করি গৌরবের ধারা বহমান থাকবে যুগ যুগ ধরে।
সহায়িকা : দৈনিক আজাদী, বাংলাপিডিয়া, Modern History OF Chattogram.
লেখক : সভাপতি, নজরুল সংগীত শিল্পী সংস্থা, সংস্কৃতি সংগঠক, সংগীতশিল্পী ও সংগীত বিষয়ক লেখক।











