বদ্ধ ঘরে ঘুমের ওষুধ খেয়ে অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন মা। তার পাশে ক্ষুধায় অবিরাম কাঁদছিল দুই মাস বয়সী শিশু। দীর্ঘ সময় ধরে মায়ের কোনো সাড়া না পাওয়ার পর পুলিশি তৎপরতায় উদ্ধার করা হয় মা ও শিশুটিকে।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কক্সবাজারের পেকুয়া পৌরসভার ডিসি রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে ঘরের দরজা বন্ধ করে ঘুমের ওষুধ সেবন করেন ওই নারী। ওষুধ সেবনের পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এ সময় ঘরের ভেতরে তার দুমাস বয়সী শিশুটি দীর্ঘ সময় ধরে একা কান্নাকাটি করতে থাকে। প্রতিবেশীরাও ঘরের ভেতর থেকে মায়ের কোনো সাড়া পাচ্ছিল না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে স্বামী দ্রুত বাসায় ফিরে স্ত্রীকে ডাকাডাকি করেন এবং দরজা খোলার চেষ্টা করেন। দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে সন্ধ্যার দিকে তিনি পেকুয়া থানা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে মুমূর্ষু অবস্থায় ওই গৃহবধূকে এবং তার শিশুকে উদ্ধার করে। ওই গৃহবধূকে দ্রুত পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। গৃহবধূর স্বামী সাতকানিয়া উপজেলার বাসিন্দা। তিনি পেকুয়া বাজারের একটি দোকানের মালিক বলে জানা গেছে। পেকুয়া থানার এসআই উগ্যাজাই মার্মা বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারি, দুপুর ১টা থেকে ওই নারী ঘরের দরজা বন্ধ করে রয়েছেন। একাধিকবার ফোন ও ডাকাডাকি করেও সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে ঘরের ভেতর থেকে অনবরত শিশুটির কান্নার শব্দ আসছিল। বাধ্য হয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করি। সেখানে ওই নারীকে অচেতন অবস্থায় পাই এবং পাশে খাটের ওপর দুমাস বয়সী শিশুটি কান্না করছিল। শিশুটিকে তার বাবার কোলে দিয়ে ওই নারীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাই। পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই গৃহবধূর শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।












