আত্মশুদ্ধি ছাড়া ব্যক্তি ও সমাজের প্রকৃত সংস্কার সম্ভব নয়

কক্সবাজারে রাহমাতুল্লীল আলামীন কনফারেন্সে পীর আল্লামা সৈয়দ সাবির শাহ্‌

| বৃহস্পতিবার , ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৫:৫৩ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারে রাহমাতুল্লীল আলামীন কনফারেন্সে সভাপতির বক্তব্যে দরবারে আলিয়া কাদেরিয়া সিরিকোট শরীফ পাকিস্তানের সাজ্জাদানশীন পীরে বাঙাল রাহনুমায়ে শরীয়ত ও তরীক্বত, আওলাদে রাসুল, আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ্‌ মাদ্দাজিল্লুল আলী মুসলমানদের জীবনে রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ বাস্তবায়ন, নবীপ্রেম, আত্মশুদ্ধি এবং সৎকাজে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

তিনি বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত হয়েছেন। তাঁর আদর্শকে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে বাস্তবায়ন করাই প্রকৃত নবীপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, বিভেদ ও অস্থিরতা দূর করতে হলে মানুষকে আত্মশুদ্ধির পথে ফিরে আসতে হবে। নিজের নফসকে সংশোধন করে আল্লাহর আনুগত্য ও রাসূলের আদর্শ অনুসরণ করতে হবে। আত্মশুদ্ধি ছাড়া ব্যক্তি ও সমাজের প্রকৃত সংস্কার সম্ভব নয়।

পীর সাবির শাহ তাঁর বক্তব্যে সিলসিলা ও তরিকতের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, আধ্যাত্মিক সাধনা ও নেককার বুজুর্গদের সান্নিধ্য মানুষের আত্মিক উন্নতি ও চরিত্র গঠনে অন্যতম সহায়ক। তিনি মুসলিম সমাজকে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী দাওয়াতে খায়ের অর্থাৎ মানুষকে সৎকাজের প্রতি আহ্বান এবং অসৎকাজ থেকে বিরত রাখার দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু বক্তব্য ও আলোচনা যথেষ্ট নয়, প্রত্যেককে নিজের জীবন থেকে পরিবর্তনের সূচনা করতে হবে। নামাজ, ইবাদত, জিকির, দরুদ শরিফ, সৎচরিত্র ও মানবসেবার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রচেষ্টা চালাতে হবে। রাসুলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসা হৃদয়ে ধারণ করে তাঁর আদর্শ অনুসরণ করলে ব্যক্তি যেমন আলোকিত হবে, তেমনি পরিবার ও সমাজেও শান্তি, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হবে।

তিনি গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে গাউছিয়া কমিটি কক্সবাজার জেলা ও মাদ্রাসা এ তৈয়্যবিয়া তাহেরিয়া সুন্নিয়া আলিমের উদ্যোগে বিমানবন্দর সড়কস্থ মাদ্রাসা মাঠে রাহমাতুল্লীল আলামীন কনফারেন্সে এসব কথা বলেন। কনফারেন্সে প্রধান অতিথি ছিলেন সাহেবজাদা আল্লামা সৈয়দ মোহাম্মদ কাসেম শাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাহেবজাদা আল্লামা সৈয়দ আকিব আহমদ শাহ। আলোচনায় অংশ নেন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়ার প্রধান মুফতি আল্লামা কাজী আব্দুল ওয়াজেদ, ঢাকা মোহাম্মদপুর কাদেরিয়া তৈয়বিয়া আলিয়ার আল্লামা জসিম উদ্দিন আল আজহারী, আনজুমান ট্রাস্ট সদস্য অ্যাডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার, মাওলানা তারেকুল ইসলাম আল কাদেরী। অতিথি ছিলেন আনজুমান ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মনজুর আলম মনজু, সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত জেনারেল সেক্রেটারি মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারি গিয়াসউদ্দিন শাকের, অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি ও প্রেস এবং পাবলিকেশন সেক্রেটারি মাহমুদ নেওয়াজ, কেবিনেট মেম্বার পেয়ার মোহাম্মদ, কেবিনেট মেম্বার মোহাম্মদ হোসাইন খোকন, মাদ্রাসা গভর্নিং বডি সভাপতি ওমর সুলতান। কনফারেন্স পরিচালনা করেন উপাধ্যক্ষ সালাহউদ্দিন মোহাম্মদ তারেক। কনফারেন্সের শেষ পর্যায়ে ইসলামের সৌন্দর্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে দুলাল কান্তি দে নামক এক ব্যক্তি হুজুর কেবলা পীর সাবির শাহ্‌ মাদ্দাজিল্লুল আলীর হাতে কালেমা পড়ে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রিত হন। সালাতু সালাম পেশ করেন অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাত হোসাইন। হুজুর কেবলা কনফারেন্সের শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, সমপ্রীতি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনগরীতে ১০০টি নিরাপদ খাবার পানির এটিএম বুথ স্থাপনের পাইলট প্রকল্প
পরবর্তী নিবন্ধ৭৮৬