নিজের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের তোলা অভিযোগ নিয়ে এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর তার পক্ষে কীভাবে পদোন্নতি দেওয়া আর টাকা নেওয়া সম্ভব? দুদকের এই অভিযোগ আনা হয় চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল। অথচ ওই পদোন্নতি দেওয়া হয় বিএনপি সরকারের সময়ে গত ১১ মে। আর তিনি অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টার দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন গত ১০ ডিসেম্বর। যে সময়ের অভিযোগ করা হয়েছে, সে সময় আমি দায়িত্বেই ছিলাম না। বিএনপি সরকার তখন তিন মাস ধরে ক্ষমতায় ছিল। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় বসে থাকা অবস্থায় পদোন্নতি করি, টাকা নিই– এটা কীভাবে সম্ভব?
গতকাল বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আসা দুর্নীতির অভিযোগ যাচাই–বাছাইয়ে আমলযোগ্য বিবেচিত হওয়ায় তা অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেছেন দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান। তবে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে তিনি বলেছেন, বিষয়টি এখন অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে। খবর বিডিনিউজের।
সংবাদ সম্মেলনে দুদকের অভিযোগ মাল্টিমিডিয়ায় উপস্থাপন করেন আসিফ মাহমুদ। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের গ্রুপে দেওয়া দুদক মুখপাত্রের একটি দুঃখপ্রকাশের স্ক্রিনশট তুলে ধরেন। সেখানে লেখা, কথা বলতে গিয়ে সম্ভবত প্রাথমিক সত্যতা শব্দ বলে ফেলেছি। প্রাথমিক সত্যতা শব্দটি না ব্যবহার করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। ভিডিওতে থাকলে সেটিও এডিট করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। আসিফ মাহমুদ বলেন, দুদক মুখপাত্রের ওই বক্তব্য প্রত্যাহার করা হয়নি। এতে তার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ভাষ্য, দুদকের অনুসন্ধান মিডিয়া ট্রায়াল ও রাজনৈতিকভাবে হয়রানির অংশ।
বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে দুর্নীতি নিয়ে দুদকের আরেকটি অভিযোগের জবাবে আসিফ বলেন, অভিযোগে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলের কথা বলা হলেও প্রকৃত তথ্য হল ১১২ জনের চলতি দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল।
দুদককে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে– আসিফ মাহমুদের এমন অভিযোগের ব্যাপারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান বলেন, অবশ্যই না। আমাদের দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়। স্বাধীন সংস্থা হিসেবে দুদক তার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আমাদের এখানে অভিযোগ আসে। আমরা অভিযোগ অনুসন্ধান করি এবং তারপর আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। আসিফের বক্তব্য দেওয়ার অধিকার রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, কমিশন বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখবে।
আসিফের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরুর আগে অভিযোগের কোনো প্রাথমিক ভিত্তি পাওয়া গিয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নে সাইদুর রহমান বলেন, দুদকে আসা অভিযোগ প্রথমে যাচাই–বাছাই কমিটির কাছে যায়। আপনাকে একটা অভিযোগ আসল। অভিযোগের প্রেক্ষিতে যাচাই–বাছাই। যাচাই–বাছাইয়ের পর নিশ্চয়ই সেখানে একটা কমেন্ট থাকে, একটা রিকমেন্ডেশন থাকবে, একটা মতামত থাকবে। সেই মতামত নিয়েই কমিশন পরবর্তী কার্যক্রমে, অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। যাচাই–বাছাই কমিটির প্রতিবেদন কমিশন পর্যালোচনা করার পর অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরপর অনুসন্ধানের প্রয়োজনে বিভিন্ন নথি চাওয়া হয়েছে।
অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা নিয়ে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের মুখে দুদক সচিবের ভাষ্য, অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু বলার সুযোগ নেই। দুদকের একজন মুখপাত্র এর আগে আসিফের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা থাকার কথা বলেছিলেন। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে সচিব সেটিকে ‘স্লিপ অব টাং’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, যিনি বলেছেন, স্লিপ অব টাং হিসাবে উনি শব্দটি ব্যবহার করেছেন। এই ব্যাপারে ওইটা ওনার ব্যক্তিগত ভুল। তবে যাচাই–বাছাইয়ের প্রতিবেদনে অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য আমলযোগ্য মনে করা হয়েছিল।












