পুঁজিবাজারকে প্রাণবন্ত ও বহুমুখী করতে দ্রুত কমোডিটি মার্কেট প্রতিষ্ঠার তাগিদ

সিএসইর অনুষ্ঠানে অভিমত

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামে পুঁজিবাজারকে আরও প্রাণবন্ত ও বহুমুখী করতে দ্রুত কার্যকর কমোডিটি মার্কেট প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়েছেন চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (সিএসই) সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেছেন, বাংলাদেশের কমোডিটি বাজার এখনো অসম্পূর্ণ। সঠিক মূল্য নির্ধারণ ও মূল্যঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ বাজারকে একটি সুগঠিত কাঠামোয় নিয়ে আসা সম্ভব। এজন্য কমোডিটি এক্সচেঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামে সিএসইর প্রধান কার্যালয়ে ‘ডাইভারসিফিকেশন অব বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট : প্রসপেক্ট অব কমোডিটি এঙচেঞ্জ’ শীর্ষক এক নলেজ শেয়ারিং প্রোগ্রামে এসব কথা বলা হয়। এতে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট ও ইস্পাহানি গ্রুপের চেয়ারম্যান মির্জা সালমান ইস্পাহানি বলেন, সিএসই সবসময় নতুন নতুন প্রোডাক্ট আনার ক্ষেত্রে অগ্রগামী। কমোডিটি মার্কেট প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। একই সঙ্গে মার্কেট প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় ইকোসিস্টেম তৈরির কাজও চলছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ও অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন পণ্যের প্রয়োজন রয়েছে। কমোডিটি মার্কেট প্রতিষ্ঠিত হলে পণ্য উৎপাদনকারী, ভোক্তা এবং এ বাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই উপকৃত হবে। এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হবে। কমোডিটি মার্কেট নিয়ে তারা অত্যন্ত আশাবাদী উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি চালু হলে পুঁজিবাজারও লাভবান হবে।

অনুষ্ঠানে সিএসইর পরিচালক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলেন, কমোডিটি এঙচেঞ্জ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করতে পারে। বাংলাদেশের কমোডিটি বাজার এখনো অসম্পূর্ণ। তবে মূল্যঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং উপযুক্ত মূল্য নির্ধারণ সঠিকভাবে করা গেলে এই বাজারকে একটি সুগঠিত মার্কেটে রূপান্তর করা সম্ভব। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে কমোডিটি এঙচেঞ্জ হচ্ছে সঠিক সমাধান। বিশ্বের যেসব দেশে ইতোমধ্যে কমোডিটি বাজার রয়েছে, সে সব দেশের বাজার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, একটি অর্থনীতির সামগ্রিক পরিমণ্ডলে কমোডিটি মার্কেটের অস্তিত্ব ও কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একটি সুসংগঠিত বাজারব্যবস্থা বিনিয়োগকারী এবং দেশের জন্য আস্থার নতুন দ্বার উন্মোচন করে।

অনুষ্ঠানে মূল উপস্থাপনা করেন সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার। তিনি কমোডিটি এঙচেঞ্জ এর কার্যক্রম, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর প্রয়োজনীয়তা, কমোডিটি মার্কেট প্রতিষ্ঠায় সিএসইর ভূমিকা এবং এ পর্যন্ত নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পুঁজিবাজারকে আরও ‘ভাইব্রেন্ট’ করার জন্য কমোডিটি মার্কেট প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। এ বাজার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় তিন ধরনের কাঠামো ফিজিক্যাল, লিগ্যাল ও সিস্টেম স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, কমোডিটি মার্কেটের জন্য লজিক্যাল কাঠামো স্থাপনের পাশাপাশি তাদের পুরো ট্রেডিং সিস্টেমও আপডেট করা হয়েছে। নতুন কাঠামোর সঙ্গে বর্তমান ইকুইটি মার্কেট, ডেরিভেটিভস মার্কেট এবং ইকুইটি ডেরিভেটিভস মার্কেটকে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে কমোডিটি মার্কেট চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও তৈরি হচ্ছে।

অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার আরিফ আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে চিফ রেগুলেটরি অফিসার মোহাম্মদ মেহেদি হাসান, জিএম এন্ড হেড অফ আইসিটি ডিভিশন মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন, জিএম এন্ড কনভেনার কমোডিটি এঙচেঞ্জ প্রোজেক্ট মো. মর্তুজা আলম, জিএম এন্ড হেড অফ বিজনেস এন্ড মার্কেট ডেভেলপমেন্ট মোহাম্মদ মনিরুল হক, ডিজিএম এন্ড হেড অফ লিস্টিং অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্ট একেএম শাহরোজ আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকলেজে যাওয়ার পথে বাইক দুর্ঘটনা, ৯ দিন পর শিক্ষার্থীর মৃত্যু
পরবর্তী নিবন্ধবান্দরবানে চাঁদা দাবির মামলায় জেএসএস কর্মী গ্রেপ্তার