ছয় দশকের ঐতিহ্য, নিরপেক্ষতা ও দৈনিকের আলো

মোহাম্মদ শাহজাহান | বুধবার , ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৬:০২ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশে আঞ্চলিক সাংবাদিকতার কথা এলে একটি নাম স্বমহিমায় ভাস্বর হয়ে ওঠে: ‘দৈনিক আজাদী’। চট্টগ্রামের নিজস্ব স্পন্দন, ইতিহাস এবং সমাজভাবনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দৈনিক আজাদী দীর্ঘ ৬৭ বছর অতিক্রম করছে। অর্ধশতকেরও বেশি সময় পেরিয়ে ৬৭ বছরের এই পথচলা নিছক সময়ের হিসাব নয়; এটি একটি অঞ্চলের ইতিহাস, সংগ্রাম, উন্নয়ন এবং সংস্কৃতির অমলিন দলিল। ​১৯৬০ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের এক দূরদর্শী ও স্বপ্নদ্রষ্টা ব্যক্তিত্ব প্রকৌশলী আবদুল খালেক দৈনিক আজাদীর সূচনা করেছিলেন। তখন দৈনিক পত্রিকা প্রকাশ করা কেবল একটি সংবাদ মাধ্যম চালুর সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং তা ছিল একটি সাহসী অঙ্গীকার। একটি আঞ্চলিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও আজাদী সূচনালগ্ন থেকেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে উপস্থাপন করেছে।

আজাদীর ইতিহাস মূলত স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই পত্রিকার ভূমিকা ছিল অসীম সাহসিকতার। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে এবং নানা বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে আজাদী মুক্তিকামী মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিল। মুক্তিযুদ্ধের পর নতুন স্বাধীন দেশে সংবাদপত্র হিসেবে পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও আজাদী তার আপসহীন মনোভাব বজায় রেখেছে। আজাদী যে কেবল চট্টগ্রাম অঞ্চলের একটি পত্রিকা নয়, বরং জাতীয় ইতিহাসে এক অনন্য স্মারক, তা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়েই প্রমাণিত হয়েছিল।

৬৭ বছরের পথচলা সবসময় মসৃণ ছিল না। রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট, কাগজের মূল্য বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল মিডিয়ার উত্থানের মুখে সংবাদপত্র শিল্প যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, আজাদীও তার ব্যতিক্রম ছিল না। কিন্তু সম্পাদক ও পরিচালনা পর্ষদের সঠিক নেতৃত্ব, সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতা এবং সর্বোপরি পাঠকদের অপরিসীম ভালোবাসায় আজাদী এসব বাধা অতিক্রম করেছে। আজাদী প্রমাণ করেছে, আন্তরিকতা ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখলে একটি আঞ্চলিক পত্রিকাও প্রজন্মের পর প্রজন্ম জুড়ে প্রাসঙ্গিক ও জনপ্রিয় থাকতে পারে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামের সংবাদজগতের ঐতিহ্য ও আস্থার প্রতীক
পরবর্তী নিবন্ধঐতিহ্য ও আস্থার প্রতীক আজাদী