দৈনিক আজাদীর সাথে আমার এক নিবিড় আত্মিক সংযোগ, যা শৈশব থেকে আজ অবধি ক্রমান্বয়ে সুদৃঢ় ও প্রসারিত হয়েছে। অল্প শব্দে সে অনুভূতি প্রকাশ করা দুষ্কর।
খুব ছোটকাল থেকে দেখে এসেছি–আজাদী আমাদের পরিবারে সবার জীবনে ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে– বাবার প্রতিদিন শুরু হতো প্রাতরাশের সময় আজাদীর খবর পড়ার মাধ্যমে। ছুটির দিনগুলিতে বাবার পাশে বসে নাস্তা করার সৌভাগ্য হলে, বাবা কোনো চমকপ্রদ খবর দেখলে একটু করে পড়ে শোনাতেন। বাবার পড়া শেষ হলে আমার পড়ার পালা আসত। মা সংসারের সব কর্মযজ্ঞ শেষে আরেকটু বেলা করে আজাদীটা হাতে নিতেন। দীর্ঘ সম্পাদকীয় বা বিশেষ লেখাগুলি মা মনোযোগ দিয়ে পড়তেন। তবে সবচেয়ে আনন্দ পেতাম যখন বাবা কৌতুক কণিকার জোকসগুলি আরও মজা করে আমাদের বলে হাসাতেন। আমার যতদূর মনে পড়ে, মাধ্যমিক শ্রেণি এবং কলেজে ওঠার পর নিয়মিত কলামগুলি আরও উপভোগ্য হয়ে উঠেছিল। কিছু উল্লেখযোগ্য নাম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি, যেমন চৌধুরী জহুরুল হক, ফাহমিদা আমিন, ওহীদুল আলম, নুরুল ইসলাম বি.এস.সি. প্রমুখ, যাঁদের ধারাবাহিক লেখাগুলি নিয়মিত পড়া হতো।
পরবর্তীতে চট্টগ্রাম ছাড়ার পর পরিবারের সবাইকে মিস করার সাথে সাথে সকালের আজাদীর শূন্যতাও অনুভব করতাম। মনে হতো প্রিয় চট্টগ্রামের সাথে সেই আত্মিক সংযোগটি কোথায় যেন ম্রিয়মাণ হয়ে যাচ্ছে। একসময় অনলাইন সংস্করণ চালু হবার পর সেই অভাবটা অনেকটুকু পূরণ হয়েছে। তবু আজ অবধি প্রাণের শহর চট্টগ্রামে পৌঁছে যতক্ষণ না আজাদী পত্রিকাটি হাতে নিয়ে সেই চিরচেনা প্রেসের কালির ঘ্রাণটি পাই, ততক্ষণ মনে হয় ষোলকলা যেন পূর্ণ হলো না। আজাদী মানে তাই আমার কাছে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরারই মতন খুব আপন আবেগের জায়গা।
নিয়মিত পত্রিকা পড়ার সূত্রপাত ছোটকালে যেমন আজাদীর হাত ধরে, তেমনি শখের লেখালেখির হাতেখড়িও আজাদীর মাধ্যমে। তাই আজাদীর সময়ের সাথে সাথে এই হার্দিক সংযোগ আরও প্রগাঢ় হয়েছে। ‘আঁরার পেপার’ আজাদী আগামী দিনগুলিতে আরও অনেক সময়োপযোগী, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও লেখার মাধ্যমে নবীন ও প্রবীণদের মাঝে মেলবন্ধন গড়ে তুলবে, এই শুভকামনা ও প্রত্যাশা রইল।
লেখক : যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী তড়িৎ প্রকৌশলী।












