ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় মাত্র দু’দিনেই শেষ হয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্ট। যেখানে মুড়িমুড়কির মতো ৩০টি উইকেটের পতন ঘটে মাত্র ১২৫ ওভার বা ৭৫০ বলে। ম্যাচটিতে ইনিংস ও ৫১ রানের জয়ে সিরিজ ১–১ সমতায় শেষ করেছে অস্ট্রেলিয়া। তবে এই সংক্ষিপ্ততম ম্যাচ শেষ হতেই ম্যাকাইয়ের উইকেট ও অস্ট্রেলিয়ার পিচ তৈরির যৌক্তিকতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড। ‘ফর দ্য লাভ অব ক্রিকেট’ ইউটিউব চ্যানেলে আলোচনা করতে গিয়ে ব্রড দাবি করেন, এমন অতিরিক্ত পেস–সহায়ক ও অসমান বাউন্সের উইকেট তৈরি করা খোদ অস্ট্রেলিয়ার জন্যই বড় ধরনের ঝুঁকি হতে পারত। শক্তিশালী কোনো সফরকারী দলের বিপক্ষে এমন উইকেটে খেলা পরবর্তীতে অজিদের নিজেদের ওপরই ব্যুমেরাং হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। ব্রড বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে এক ইনিংসে হারিয়ে সিরিজ ১–১ ড্র করেছে ঠিকই, তবে তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়। স্টার্ক আবারও তার গতি ও সুইংয়ে দারুণ পারফর্ম করেছে, আর পিচজুড়ে বল অসমান বাউন্স ও সিম করেছে। দেখে মনে হচ্ছে এই বছরের পিচগুলো বড্ড অনিয়মিত আচরণ করছে, যার মানে দলগুলোকে আর কেবল স্পিনারদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে না।’ সাবেক এই ইংলিশ পেসার বিশ্লেষণ করে আরও বলেন, ‘আমার মতে, আপনি যদি এমন একটি দল হন যারা মনে করেন প্রতিপক্ষের চেয়ে আপনার খেলোয়াড়েরা মানসিকভাবে বা দক্ষতার দিক থেকে এগিয়ে, তবে আপনার ফ্ল্যাট উইকেটে খেলা উচিত। বাংলাদেশ যদি টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিত, তবে তারা অস্ট্রেলিয়াকে ৬০ রানে গুটিয়ে দিয়ে বড় বিপদে ফেলে দিতে পারত। পিচে যেভাবে বল নড়াচড়া করছিল এবং সিম হচ্ছিল, তাতে এটি অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় একটা জুয়া বা ঝুঁকি ছিল।’ ম্যাকাই টেস্টটি বলের হিসেবে (৭৫০ বল) পুরুষদের টেস্ট ইতিহাসের যৌথভাবে চতুর্থ সংক্ষিপ্ততম ম্যাচ। এছাড়া ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার খেলা সবশেষ সাত টেস্টের মধ্যে এটি ছিল তৃতীয় ম্যাচ যা মাত্র দুই দিনের মধ্যে শেষ হলো। এর আগে ২০২৫–২৬ অ্যাশেজে পার্থ ও মেলবোর্ন টেস্টেও একই ধরনের দ্রুত সমাপ্তি দেখেছিল ক্রিকেট বিশ্ব। ম্যাচে মিচেল স্টার্ক একাই ১০ উইকেট শিকার করে বাংলাদেশের দুই ইনিংস যথাক্রমে ৬৪ ও ৯৫ রানে ধসিয়ে দেন। বিপরীতে ক্যামেরন গ্রিনের সর্বোচ্চ ৬৭ রানের ওপর ভর করে একমাত্র ইনিংসে ২১০ রান তুলেছিল অস্ট্রেলিয়া।












