একটা সময় আমাদের নাম ছিল ‘মাছে–ভাতে বাঙালি’। কারণ তখন মাছই ছিল শুধু আমাদের প্রধান খাদ্য হিসাবে কিন্তু এখন সে নাম থাকলেও বদলে গেছে যেন বাঙালিদের খাবারের ধরন। এখন পোনার সাহায্যে ফার্মে মাছ উৎপাদন করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সারাবিশ্বে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছে। সুতরাং সুলভ মূল্যে সুলভ মাছ এখন অতি দুর্লভ। একটা সময় মাছ শুধু আমাদের খাদ্য হিসাবেই পরিচিত ছিল না এর বাণিজ্যিক ব্যবহারও দেশের অর্থনৈতিক সংস্কারে সাহায্য করতো। কিন্তু সামপ্রতিক সময়ে খবরের কাগজের নজরদারিতে যা প্রমাণিত হচ্ছে তা হলো আমাদের মূল মাছের উৎপত্তির সাথে পাল্লা দিয়ে যা ব্যবহৃত হচ্ছে তা হলো মাছের পোনা সংরক্ষণের মাধ্যমে মাছের ফার্ম কিংবা কমার্শিয়াল মাছের আড়ত। এর ফলে আমাদের দেশের সহজলভ্য মাছগুলো এখন বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়েছে।
মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণের জন্য সরকার নানা ধরনের অভিযান ও কর্মসূচি পরিচালনা করে থাকে। যেমন —ইলিশ মাছের ঝাটকা সংরক্ষণের জন্য মাছ আহরণে নির্ধারিত সময় সীমা জ্ঞাপন, অভয়ারণ্য থেকে মাছ আহরণে নিষিদ্ধতা বজায় রাখা। নি:সন্দেহে এসব প্রয়োজনীয় উদ্যোগ সরকার নিলেও এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সে সব নিয়ম পালনে আইন অমান্য করেই যাচ্ছে। যার ফলে দেখা যাচ্ছে দেশীয় মাছগুলো সংরক্ষণে ও ভোগের ব্যাপারে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অকার্যকরই থেকে যাচ্ছে। বাজার তদন্তে দেখা যায়—বাঙালির চির পরিচিত ও প্রচলিত প্রিয় মাছগুলোর অনেক চাহিদা থাকার পরেও এখন আর সে সব মাছগুলো বাজারে দেখা যায় না। তারা সুক্ষ্ম জাল বা কারেন্ট জাল ব্যবহার করে প্রচলিত মাছের বীজগুলো ধ্বংস করে যাচ্ছে। অনেক সময় অভিযান চালিয়ে এ ধরনের জালগুলো প্রায়ই জব্দ করা হয়। তারপরও তাদের থামানো যায় না। আবার অনেক সময় দেখা যায় চোরা কারবারি কিংবা অসাধু ব্যবসায়ীরা রাতের অন্ধকারে মাছ শিকার করে নিয়ে যাচ্ছে কিংবা কারুর সাথে ব্যক্তিগত শত্রুতাপন্ন আচরণ করে সব মাছ বিষ মিশিয়ে মেরে দিচ্ছে।
আমাদের দেশের সুলভ মাছগুলো হারিয়ে যাওয়ার আরেকটি প্রধান কারণ হলো জলাশয় সংকোচন ও পানি দূষণ। আমাদের দেশের জনসংখ্যা খুবই দ্রুত বেড়ে চলেছে—যার জন্য আশেপাশের জায়গাগুলোতে বাড়িঘর নির্মাণ করা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে রাস্তা– ঘাট, হাট বাজার স্কুল কলেজ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার কারণে জলাশয়, পুকুর, ডোবা সবই হারাচ্ছে। তাই মানুষের চাহিদা পূরণ করার জন্য নিত্য নতুন অনেক মাছের ফার্ম তৈরি হচ্ছে। বিনিময়ে দেশী সুলভ মাছগুলো হারিয়ে যাচ্চে তো যাচ্ছেই।












