কারো প্রাপ্তি দেখে হীনম্মন্যতায় ভোগা যেনো আমাদের সমাজের এক শ্রেণির মানুষের রোগে পরিণত হয়েছে। কারো প্রাপ্তি দেখে হীনম্মন্যতায় না ভুগে বরং আমি কীভাবে সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে নিজেকে ভালো রাখতে পারবো ও এগিয়ে যেতে পারবো সে চেষ্টাই করতে হবে। কেউ অসাধারণ সুন্দর গাইতে পারে কিন্তু আমি পারি না তাই বলে আমি কখনো তার পথে কাঁটা দেবো না। চাইলে আমি শ্রোতা হতে পারি, ভালো গান ও উৎসাহ দিয়ে তার পাশে থাকতে পারি, এতে করে দুজনার মধ্যে একটা সুন্দর বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে পারে। পরিবারের বাইরেও আমাদের একেকজনের একেক রকম ছোট, ছোট টুকরো পৃথিবী আছে, কেউ চাকরি, কেউ ব্যবসা, কেউ উদ্যোক্তা, কেউ ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউবা শিল্পী কবি সাহিত্যিক। আমরা চাইলে নীতি নৈতিকতা দিয়ে আমাদের পৃথিবীটাকে সাজাতে পারি ফোটাতে পারি সফলতার ফুল। প্রতিটা বিষয়ে আমি জানবো বা আমার জ্ঞান থাকতে হবে এমন নয়, তবে শেখার আগ্রহ একজন মানুষকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে পারে। আপনি কিছুই পারেন না, নাচ, গান, আবৃত্তি, ছবি আঁকা অথবা অভিনয় এতে লজ্জার কিছু নেই। আপনার যোগ্যতা আছে অসহায় সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের জন্য কিছু করার আপনি তাই করুন, তাদের নিয়ে পিঠা উৎসব করুন, ফল উৎসব করুন দেখবেন জীবনটা সত্যি অনেক সুন্দর। অপ্রাপ্তি মানুষকে অনেক সময় হিংস্র ও ভয়ানক দানব করে তোলে, আমি কেনো তার মতো হতে পারছি না, সে সম্মান পাচ্ছে, সম্মাননা অর্জন করছে অথচ আমার কিছু নেই যেনো এসব চিন্তা থেকেই পরবর্তীতে সফল মানুষের পথে কাঁটা দিতে হবে ও তাদের ক্ষতি করতে হবে বিষয়টা এমন। কিন্তু যতোদিন এই অপ্রাপ্তি থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পারবো না ততোদিন সফল ও সুন্দর মনের মানুষ কখনোই হতে পারবো না। পরিবারকে সময় দেয়ার পাশাপাশি অবসরে গান শুনতে পারি, কবিতা পড়তে পারি এতে করে নিজের আত্নবিশ্বাস বাড়ে ভালো কাজে নিজেকে ডুবিয়ে রাখা যায়। অন্যের ক্ষতি করার চিন্তা সেটা ঘুরে ফিরে একসময় নিজের কাছেই চলে আসে। অন্যকে ছোট করে নিজেকে বড় ভাবাও কোনও বুদ্ধিমানের কাজ নয় বরং এটা ছোট মনের পরিচয় বহন করে। কাজেই অন্যের অর্জনে জল ঢালা নয় বরং উৎসাহ আর ভালোবাসা দিয়ে পাশে দাঁড়াই। হীনম্মন্যতায় না ভুগে মনকে সবসময় পরিষ্কার ও ঝরঝরে করে রাখি এটাই বড় মনের পরিচয় ও মানসিক শান্তি।












