গানে গানে সুচিত্রা সেন

শাহরিয়ার আদনান শান্তনু | সোমবার , ১৭ আগস্ট, ২০২৬ at ৭:১৩ পূর্বাহ্ণ

কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে অনেক মজার স্মৃতি আছে নিশ্চয়ই। সতেরো/আঠারো/উনিশ বছর বয়সে কিছু কিছু চরিত্র চলে আসে জীবনে। বিশেষ করে সিনেমায় দেখা নায়িকা চরিত্র। কলেজবিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এমনটা হতো। সহপাঠীদের মধ্যে তেমন যদি সাদৃশ্য পাওয়া যায়, তাকে নিয়ে তো মহা শোরগোল। অপেক্ষায় থাকতে হতো, কখন আসবে এই পথ দিয়ে কিংবা একটু কি তাকাবে নাকি? এমনভাবে আসাযাওয়া, রীতিমতো রোমাঞ্চকর ছিল। কিংবা হতে পারে কোন ক্যাফে। তারুণ্যের উচ্ছলতা ও প্রাণ প্রাচুর্যে ভরা থাকতো মুহূর্তগুলো। সেই দিনগুলো আজও মনে পড়ে যায় কখনো কখনো। আর তখনই চলে আসে সেই দিনগুলোয় আমাদের মেতে থাকা উত্তেজনার মুহূর্তগুলো। ঠিক এরকম ভাবনা থেকেই একটি গান লেখা হয়েছে। সচরাচর গান যেভাবে লেখা হয়, সেই চেনা গণ্ডির বাইরে….

কলেজ ক্যাফেতে

মগ্ন কফিতে

হঠাৎ দেখি তিনি আসছেন

ধীরে ধীরে আসছেন

ঠোঁটের কোণে এক চিমটি হাসি

যেন আকাশপরী বাতাসে ভাসছেন, আসছেন

তাকে আমরা বলতাম

আমাদের সুচিত্রা সেন” ….

ঐ যে শুরুতেই বলেছিলাম, কোন এক নায়িকার চরিত্রের সাথে মিল খুঁজে পেলে আমাদের (তরুণদের) উত্তেজনার পারদ মোটামুটি উপরে উঠতে শুরু করে। এখানেও তেমনি। সুচিত্রা সেন।

বাংলা চলচ্চিত্র জগতে অবিস্মরণীয় চিত্রনায়িকা সুচিত্রা সেন। ষাটের কিংবা সত্তর দশকে এমন কোন বাঙালি নেই, সুচিত্রা সেনের অভিনীত সিনেমা দেখেননি। এমন তুমুল আলোচিত ও জনপ্রিয় নায়িকার আদল খুঁজে পেতে চেষ্টা হতো সহপাঠীদের মাঝে। কিংবা অন্যকোন জায়গায়। কোন অনুষ্ঠানে। চুল বেনী করে, কপালে টিপ, চোখে কাজল দিয়ে ধীর গতিতে এগিয়ে আসা কোন তরুণীর চেহারায় প্রিয় চরিত্রের মিল খুঁজে পাওয়ার আগ্রহ অনেকের থাকে। এ এক রীতিমতো রোমাঞ্চকর অধ্যায়। নষ্টালজিক এমন ঘটনাকে উপজীব্য করেই গানটি লিখেছেন বরেণ্য গীতিকবি শহীদ মাহমুদ জঙ্গী। এমন এক ঘটনাকে এই সময়ে নিয়ে আসা, এই প্রজন্মের কাছে নতুন করে সুচিত্রা সেনকে উপস্থাপন করা বেশ নাটকীয় মনে হয়েছে। সুচিত্রা কেন? এমন জিজ্ঞাসা থেকেই গীতিকবি শহীদ মাহমুদ জঙ্গী বললেন: “সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব সবমিলিয়ে ‘সুচিত্রা সেন’ বাংলা সিনেমার মহানায়িকা। একসময়ে সুচিত্রা সেনকে সৌন্দর্যের প্রতিভু ধরা হতো। এখনো হয় অনেক ক্ষেত্রেই। এই গানের ঘটনাও তেমনই। আমাদের ঐ সময়টাতে এমন ঘটনা ঘটতো। বন্ধুরা মিলে মজা করতাম। সেই ধরনের ঘটনাকে উপজীব্য করে না হয় গানে গানে এই বয়সে এসেও স্মৃতিচারণ করলাম। এই ভাবনা থেকেই গানটি লেখা। আশফাকুল বারী রুমন এই গানটি সুর করেছেন এবং তার গায়কী ভালো। পুরো কাজটি সে খুব যত্ন নিয়ে করেছে।”

তো, সুচিত্রা সেন আসছেন। তারপর….

আমার এই টেবিলে আমি একা

সব চেয়ার আজ ফাঁকা

এখানেই হয়তো বসবেন

তিনি আসছেন

তাকে আমরা বলি

আমাদের সুচিত্রা সেন ”

গানটি সুর, সংগীত পরিচালনা ও গেয়েছেন আশফাকুল বারী রুমন। যিনি নিয়মিত নতুন গান উপহার দেওয়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে চলেছেন, নিয়ে এসেছেন তাঁর নতুন একক গান ‘সুচিত্রা সেন’। “পার্থিব” ব্যান্ডের ফ্রন্টম্যান হিসেবে রুমনের বেশ পরিচিতি। সিনেমায় দেখা সুচিত্রা সেনের অভিনয়, সৌন্দর্য তাকেও আকৃষ্ট করেছে। রুমন এই প্রজন্মের তরুণ সংগীতশিল্পী। এমন গান নিয়ে তার ভাবনা কেমন ছিল, জানতে চাইলে রুমন বললেন:

শহীদ মাহমুদ জঙ্গী ভাইয়ের মতো একজন লিজেন্ডারি গীতিকবির লেখা গান বানাতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের। এই গানের কথা এবং এর ভেতরের গল্পটা আমাকে শুরু থেকেই ভীষণ আকৃষ্ট করেছিল। আমি চেষ্টা করেছি ব্যাপারগুলো সুর ও সংগীতে ফুটিয়ে তুলতে। গানটিতে টুইস্ট আছে।

আশা করা যায় শ্রোতারা বেশ মজাও পাবেন গানটির টুইস্টএ ।”

এরপরে সুচিত্রা সেন কী করলেন:

আমাকে লক্ষ্যই করলেন না

পাশ দিয়ে চলে গেলেন

অন্য টেবিলে

তাকে আমরা বলতাম

আমাদের সুচিত্রা সেন

আমাকে পাত্তাই দিলেন না

সুচিত্রা সেন…. ”

​‘সুচিত্রা সেন’ গানটির মূল বিশেষত্ব হলো মানব জীবনের একটি সময়। যে সময়টাতে তারুণ্য কাটে উচ্ছলতায়। রোমাঞ্চে। কিংবদন্তি গীতিকার শহীদ মাহমুদ জঙ্গী এই গানটির কথা লিখেছেন, যা শ্রোতাদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। তার এই চমৎকার ও গভীর কথাগুলোকে সুরে ও কণ্ঠে সাজিয়েছেন রুমন। গীতিকার এবং সুরকার, গায়কের প্রজন্মের পার্থক্য আছে। কিন্তু তাতে গানটির আবেদন দাগ কেটেছে মনে। পাশাপাশি সংগীত আয়োজন এবং মিউজিক ভিডিও শিল্পী আশফাকুল বারী রুমন নিজেই করেছেন। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করি, গানটি রুমনএর চলমান ধারাবাহিক মিউজিক প্রজেক্টের একটি অংশ যেখানে তিনি প্রতি তিন সপ্তাহে একটি করে নতুন গান রিলিজ করছেন। এই গানটি সেই ধারাবাহিকতার চতুর্থ গান।

সুচিত্রা সেন আসেন আজও আমাদের মাঝে গানেগানে। সুরেসুরে। ভালোই লাগে এমন ভাবনায় গান শোনা। আপনি শুনতে পারেন ইউটিউবে সুচিত্রা সেন। ৎঁসড়হ ক্লিক করলেই।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাশেদ রউফ-এর অন্ত্যমিল
পরবর্তী নিবন্ধসুঁইয়ের ফোঁড়ে হারিয়ে যাওয়া এক সভ্যতা