ড. মৃদুলকান্তি চক্রবর্তী : সংগীতের কাছে নিবেদিত এক প্রজ্ঞাবান জীবন

পুষ্পেন চৌধুরী | সোমবার , ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৭:১৬ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের সংগীতচর্চার ইতিহাসে কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের অবদান কেবল তাঁদের গাওয়া গান, লেখা বই কিংবা শিক্ষকতার পরিসরে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁরা একটি সময়কে নির্মাণ করেন, একটি প্রতিষ্ঠানকে দাঁড় করান এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রেখে যান জ্ঞান ও সাধনার একটি দীর্ঘ পথরেখা। ড. মৃদুলকান্তি চক্রবর্তী (১৯৫৫২০১১) ছিলেন তেমনই একজন মানুষ। সংগীতশিল্পী, গবেষক, শিক্ষক, সংগীতসমালোচক এবং উদ্ভাবকবহুমাত্রিক পরিচয়ের অধিকারী ড. মৃদুলকান্তি চক্রবর্তী বাংলাদেশের সংগীতজগতের এক উজ্জ্বল নাম। বিশেষত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগীতকে উচ্চশিক্ষার একটি স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

১৯৫৫ সালে সুনামগঞ্জের এক সংস্কৃতিবান পরিবারে তাঁর জন্ম। সংগীত তাঁর কাছে বাইরের কোনো বিষয় ছিল না; শৈশব থেকেই তা ছিল পারিবারিক জীবনের স্বাভাবিক অনুষঙ্গ। তাঁর বাবা মনোরঞ্জন চক্রবর্তী বাঁশি বাজাতেন এবং মা দীপালী চক্রবর্তী ছিলেন সেতার ও এস্রাজের শিল্পী। বড় বোন রত্না চক্রবর্তীর কাছেই তাঁর সংগীতে হাতেখড়ি।

এই পারিবারিক আবহই সম্ভবত তাঁর সংগীতজীবনের প্রথম পাঠশালা। পরবর্তী সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, গবেষণা ও সাধনার মধ্য দিয়ে সেই শৈশবের বীজই একটি পরিণত বৃক্ষে রূপ নেয়।

সংগীতের উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি পাড়ি দেন ভারতের শান্তিনিকেতনে, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে তিনি ১৯৮০ সালে বি.মিউজ এবং ১৯৮২ সালে এম.মিউজ ডিগ্রি অর্জন করেন। রাগসংগীত ও রবীন্দ্রসংগীতে তিনি প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ অশেষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো গুণী শিক্ষকের কাছে তালিম নেন।

বিশ্বভারতীর ছাত্র থাকাকালীন ১৯৭৭ সালে সর্বভারতীয় যুব উৎসবে লোকসংগীতে প্রথম স্থান অর্জন তাঁর শিল্পীসত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।

তবে তাঁর সাধনা শুধু পরিবেশনার মধ্যে থেমে থাকেনি। সংগীতের ইতিহাস, বিবর্তন, লোকসংগীত এবং রবীন্দ্রসংগীতের উৎস ও সুরভুবনকে জানার প্রতি তাঁর ছিল সুগভীর অনুসন্ধিৎসা। ১৯৯৪ সালে বিশ্বভারতী থেকেই তিনি সংগীত বিষয়ে পিএইচ.ডি. ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণা অভিসন্দর্ভের বিষয় ছিল-“ঊাড়ষঁঃরড়হ ড়ভ ইবহমধষর গঁংরপ ভৎড়স ৮ঃয ঃড় ২০ঃয ঈবহঃঁৎু ধহফ ঃযব ওহভষঁবহপব ড়ভ ঋড়ষশ গঁংরপ রহ ঞধমড়ৎব গঁংরপচ।

. মৃদুলকান্তি চক্রবর্তীর গবেষণাজীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় যুক্ত হয়ে আছে জার্মানির সঙ্গে। তিনি জার্মানির ঋৎবব টহরাবৎংরঃু ড়ভ ইবৎষরহএ প্রখ্যাত সংগীত গবেষক চৎড়ভ. ঔড়ংবভ কঁপশবৎঃুএর অধীনে দঝড়ঁৎপবং ড়ভ জধনরহফৎধহধঃয ঞধমড়ৎব ঝড়হমং রহ ডবংঃবৎহ গঁংরপবিষয়ে গবেষণা করেন। রবীন্দ্রসংগীতের সঙ্গে পাশ্চাত্য সংগীতের সম্ভাব্য সম্পর্ক ও উৎস অনুসন্ধানের এই কাজ তাঁর গবেষকসত্তার আন্তর্জাতিক পরিসরের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

এই গবেষণার মধ্য দিয়ে তিনি রবীন্দ্রসংগীতকে শুধু বাঙালির নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পরিসরে নয়, বরং বিশ্বসংগীতের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটেও বোঝার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর অনুসন্ধানের বিষয় ছিল রবীন্দ্রনাথের গানের সুরভুবন, তার সম্ভাব্য পাশ্চাত্য উৎস এবং বিভিন্ন সংগীতধারার পারস্পরিক সম্পর্ক। ফলে বাংলা সংগীতের ইতিহাস ও রবীন্দ্রসংগীত নিয়ে তাঁর গবেষণায় একটি বিস্তৃত আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গিরও প্রকাশ ঘটে।

বাংলা গানের ইতিহাস, লোকসংগীত, বাউলসাধনা ও রবীন্দ্রসংগীতের পাশাপাশি পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে বাংলার গানের সম্পর্ক অনুসন্ধান তাঁর গবেষণার পরিধিকে আরও বিস্তৃত করেছিল। এ কারণে ড. মৃদুলকান্তি চক্রবর্তীকে কেবল একজন শিল্পী বা শিক্ষক হিসেবে নয়, বাংলা সংগীতকে দেশীয় ঐতিহ্য ও আন্তর্জাতিক সংগীতচিন্তার সংযোগস্থলে বিচার করতে আগ্রহী একজন অনুসন্ধিৎসু গবেষক হিসেবেও মূল্যায়ন করা যায়।

. মৃদুলকান্তি চক্রবর্তীর সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক অবদান সম্ভবত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত থাকা।

১৯৯৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিনের তত্ত্বাবধানে সহযোগী কোর্স হিসেবে সংগীতের পাঠদান শুরু হয়। পরের বছর, ১৯৯৪ সালের ১ আগস্ট, নাট্যকলা ও সংগীতকে একত্র করে ‘নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগ’ নামে পূর্ণাঙ্গ বিভাগ চালু হয়। এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান শিক্ষক ও সংগঠক ছিলেন ড. মৃদুলকান্তি চক্রবর্তী।

১৯৯৫ সালে তাঁর বিশেষ প্রচেষ্টায় বিভাগে দুই বছর মেয়াদি মাস্টার্স কোর্স চালু হয়। রবীন্দ্রসংগীত, লোকসংগীত ও রাগসংগীতের মতো শাখায় উচ্চতর শিক্ষার সুযোগ তৈরি হয়। এরপর দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ২০০৯ সালে সংগীত বিভাগ নাট্যকলা থেকে পৃথক হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তিনি এই স্বতন্ত্র বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অর্থাৎ তিনি শুধু একটি বিভাগে শিক্ষকতা করেননি; বরং একটি নতুন একাডেমিক পরিসর নির্মাণে তাঁর জীবন ও শ্রম নিয়োজিত করেছিলেন। আজ বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সংগীতশিক্ষার যে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আমরা দেখতে পাই, তার ইতিহাসে তাঁর নাম তাই অবিচ্ছেদ্য।

শিল্পী হিসেবে ড. মৃদুলকান্তি চক্রবর্তী ছিলেন একজন দক্ষ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী। বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে তিনি নিয়মিত রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করতেন। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন সংগীত সমালোচক ও গবেষক। তাঁর কাছে সংগীত ছিল নিছক বিনোদনের বিষয় নয়। সংগীতের ভেতরে নিহিত ইতিহাস, সমাজ, মানুষের জীবনবোধ এবং সাংস্কৃতিক স্মৃতিকে তিনি অনুসন্ধান করতেন। তাই তাঁর শিল্পীসত্তা ও গবেষকসত্তা পরস্পরের পরিপূরক হয়ে উঠেছিল।

. মৃদুলকান্তি চক্রবর্তীর সৃষ্টশীলতার আরেকটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত ‘সুরশ্রী’ নামের বাদ্যযন্ত্র। বাংলার ঐতিহ্যবাহী দোতারার আদলকে ভিত্তি করে তিনি এই বাদ্যযন্ত্রটি উদ্ভাবন করেন। এর গঠন, কাঠের ব্যবহার ও অনুরণন ক্ষমতায় এমন পরিবর্তন আনা হয়েছিল, যাতে লোকসংগীতের পাশাপাশি রাগসংগীত ও রবীন্দ্রসংগীতের সূক্ষ্ম সুরও এতে পরিবেশন করা যায়।

অর্থাৎ তিনি ঐতিহ্যকে পরিত্যাগ করেননি; বরং ঐতিহ্যকে আধুনিক প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছেন। বার্লিন, লন্ডন এবং ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচারডেমনস্ট্রেশনের সময় তিনি ‘সুরশ্রী’ উপস্থাপন করেছেন। এর মাধ্যমে বাংলার লোকবাদ্যযন্ত্রের একটি আধুনিক রূপ আন্তর্জাতিক পরিসরেও পরিচিত করার চেষ্টা করেছিলেন।

শুধু ব্যক্তিগত গবেষণায় সীমাবদ্ধ না থেকে তিনি সংগীত নিয়ে সম্মিলিত অনুসন্ধানের ক্ষেত্রও তৈরি করতে চেয়েছিলেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘সূর্মা’ (ঝঃঁফবহঃং টহরঃবফ ভড়ৎ জবংবধৎপয রহ গঁংরপধষ অপঃরারঃরবং) নামের সংগীত দল।

এই উদ্যোগ তাঁর শিক্ষকসত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশ করে। তিনি শুধু নিজে জানতেন না; নতুন প্রজন্মকে সংগীত নিয়ে অনুসন্ধান, গবেষণা ও চর্চায় যুক্ত করতে চেয়েছিলেন।

. মৃদুলকান্তি চক্রবর্তীর গবেষণাকর্মের ব্যাপ্তি ছিল বিস্তৃত। বাংলা সংগীতের ইতিহাস, লোকসংগীত, বাউলসাধনা, রবীন্দ্রসংগীত এবং পঞ্চগীতিকবির গানবিভিন্ন বিষয় তাঁর লেখায় উঠে এসেছে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ও গবেষণাকর্মের মধ্যে রয়েছে

ঊাড়ষঁঃরড়হ ড়ভ ইবহমধষর গঁংরপ ভৎড়স ৮ঃয ঃড় ২০ঃয ঈবহঃঁৎু ধহফ ঃযব ওহভষঁবহপব ড়ভ ঋড়ষশ গঁংরপ রহ ঞধমড়ৎব গঁংরপ ্ত চযউ ফরংংবৎঃধঃরড়হ (১৯৯৪), ঝড়ঁৎপবং ড়ভ জধনরহফৎধহধঃয ঞধমড়ৎব ঝড়হমং রহ ডবংঃবৎহ গঁংরপ ্ত জার্মানির ঋৎবব টহরাবৎংরঃু ড়ভ ইবৎষরহএ পরিচালিত গবেষণা; পঞ্চগীতিকবির গানঅবসর প্রকাশনা সংস্থা; প্রকাশকাল ২০০০ সাল, পরবর্তী সংস্করণ ২০০২; রবীন্দ্রনাথ : পূর্ববঙ্গে লেখা গানঅনন্যা প্রকাশনী / নবযুগ; প্রকাশকাল ২০১২, দ্বিতীয় মুদ্রণ; নির্বাচিত দেশাত্মবোধক গান ও স্বরলিপিমেরিট ফেয়ার প্রকাশন; লোকসঙ্গীত ও স্বরলিপিমেরিট ফেয়ার প্রকাশন; ভাষা ও দেশের গান (স্বরলিপিসহ)-মুক্তধারা; হাসন রাজা : তাঁর গানের তরীবাংলা একাডেমি; বাউল কবি লালন ও তাঁর গানঅনন্যা প্রকাশনী; বাংলা গানের ধারা (হাজার বছরের বাংলা গান)- অনন্যা প্রকাশনী।

তাঁর এই গ্রন্থসমূহ শুধু গান নিয়ে লেখা নয়; এগুলোর মধ্যে রয়েছে সংগীতের ইতিহাস, সুরের বিবর্তন, লোকঐতিহ্য এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের অনুসন্ধান। সুনামগঞ্জে জন্ম নেওয়ার কারণে মরমী কবি হাসন রাজার সংগীত ও দর্শনের সঙ্গে ড. মৃদুলকান্তি চক্রবর্তীর সম্পর্ক ছিল যেন শিকড়ের সম্পর্ক। তাঁর ‘হাসন রাজা : তাঁর গানের তরী’ গ্রন্থে তিনি হাসন রাজার জীবন, গান ও দর্শনকে অনুসন্ধান করেছেন।

মুখে মুখে প্রচলিত গান সংগ্রহ, বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা এবং সুর সংরক্ষণের প্রয়াস তাঁর গবেষণাকে বিশেষ তাৎপর্য দিয়েছে। হাসন রাজার গানকে তিনি শুধু লোকগান হিসেবে দেখেননি; এর মধ্যে নিহিত জীবনবোধ, আত্মঅনুসন্ধান, মানবিকতা ও আধ্যাত্মিক চেতনাকেও বিশ্লেষণ করেছেন।

লোকসুরের সঙ্গে শাস্ত্রীয় সংগীতের সম্পর্কের দিকটিও তাঁর গবেষণায় গুরুত্ব পেয়েছে। এই কাজের মধ্য দিয়ে তিনি মূলত একটি সাংস্কৃতিক স্মৃতি সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করেছেনযে স্মৃতি মুখে মুখে বেঁচে থাকলে একসময় হারিয়ে যেতে পারে।

শিক্ষক হিসেবে ড. মৃদুলকান্তি চক্রবর্তীর কাছে বিশ্ববিদ্যালয় ছিল শুধু একটি চাকরির জায়গা নয়; ছিল জ্ঞান ও সংস্কৃতিচর্চার একটি ক্ষেত্র। তাঁর শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি ছিলেন শিক্ষক, গবেষণার পথপ্রদর্শক এবং অভিভাবকসুলভ একজন মানুষ। সংগীতকে তিনি পাঠ্যসূচির সীমায় আবদ্ধ রাখেননি; বরং ইতিহাস, সমাজ, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনবোধের সঙ্গে তাকে যুক্ত করে দেখেছেন।

তাঁর পারিবারিক জীবনও ছিল সংস্কৃতিনির্ভরব। তাঁর সহধর্মিণী অধ্যাপক ড. শীলা চক্রবর্তী নিজেও একজন শিক্ষাবিদ। তাঁদের একমাত্র সন্তান ঋত্বিক চক্রবর্তীও সংগীতের প্রতি অনুরাগী ও উচ্চশিক্ষিত।

২০১১ সালের ১৫ আগস্ট মাত্র ৫৬ বছর বয়সে ড. মৃদুলকান্তি চক্রবর্তী মৃত্যুবরণ করেন। তীব্র পানিশূন্যতা নিয়ে রাজধানীর ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসাজনিত অবহেলায় তিনি মারা যান। তাঁর প্রয়াণ শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও ছিল গভীর ক্ষতি। তবে কিছু মানুষের মৃত্যুতেই তাঁরা নিঃশেষ হয়ে যান না। বরং তাঁদের অনুপস্থিতি তাঁদের রেখে যাওয়া কাজের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে তোলে।

. মৃদুলকান্তি চক্রবর্তী তেমনই একজন। তিনি গান গেয়েছেন, গান নিয়ে গবেষণা করেছেন, হারিয়ে যেতে বসা সুর ও সংগীত ঐতিহ্যকে সংরক্ষণের চেষ্টা করেছেন, নতুন বাদ্যযন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন, শিক্ষার্থীদের সংগীতচর্চায় উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং সবচেয়ে বড় কথাবাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার মানচিত্রে সংগীতকে একটি স্বতন্ত্র একাডেমিক শাস্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার কাজে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন।

তাঁর জীবন তাই কেবল একজন সংগীতশিল্পীর জীবন নয়; একজন খাঁটি সংস্কৃতিবান গবেষকের জীবন, একজন নিবেদিত শিক্ষকের জীবন এবং একটি প্রতিষ্ঠান নির্মাণে আত্মনিয়োজিত এক স্বপ্নবান মানুষের জীবন।

সময় প্রবাহে অনেক নাম বিস্মৃত হয়। কিন্তু যাঁরা একটি প্রজন্মের হাতে জ্ঞানের প্রদীপ তুলে দেন, তাঁদের আলো সহজে নিভে যায় না। ড. মৃদুলকান্তি চক্রবর্তী সেই আলোরই একজন বাহক।

পূর্ববর্তী নিবন্ধউত্তমকুমার