দেশের বর্তমান অবস্থা দিন দিন ভয়াবহ হচ্ছে। গ্যাস–বিদ্যুতের অভাবে একের পর এক মিল–কারখানা বন্ধ হচ্ছে। নতুন বিদেশি বিনিয়োগ নেই। রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি। ডলার সংকটে সার, গম, তেল আমদানিও কঠিন হয়ে পড়ছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ২০২৮ সাল নাগাদ দেশে বড় ধরনের খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে। এই ক্রান্তিকালে বুঝতে হবে আমদানি দিয়ে আর সংকট মোকাবেলা হবে না। এখন দরকার নিজের খাবার নিজে উৎপাদন করা।
বাস্তবায়ন প্রস্তাব:
১. এলাকাভিত্তিক ফসল : পাহাড়ের পাদদেশে ফল–সবজি ও মসলা, উপকূলে লবণসহিষ্ণু ধান ইজজও–৯৯ ও ডাল, চরে ভুট্টা ও তেলবীজ। বছরে ৩ বার ফসল নিশ্চিত করতে হবে। ২. সরকারি সহযোগিতা : সোলার সেচ পাম্পে ৫০% ভর্তুকি, উন্নত বীজ ও সার সহজলভ্য করা, কৃষি ব্যাংকের সহজ ঋণ। ৩. স্বচ্ছতা : ইউএনও ও কৃষি অফিসের মাধ্যমে ডিজিটাল রেজিস্ট্রি করে জমি বরাদ্দ দিতে হবে। যাতে রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা ইজারার নামে খাস জমি দখল করতে না পারে। এই নীতি অবলম্বন করলে একদিকে খাদ্য উৎপাদন বাড়বে, আমদানি কমবে, ডলার ও রাজস্বের চাপ কমবে। অন্যদিকে গ্যাস–বিদ্যুৎ সংকটে যেসব শ্রমিক বেকার হবে তারা এই জমিতে কাজ পাবে। সবচেয়ে বড় কথা বাজারে চাল–ডাল–সবজির দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা টিকে থাকবে। ভারত ও ভিয়েতনাম অতীতে খাদ্য সংকটের সময় এই নীতি নিয়েই বেঁচেছে। এখন সময় দোষারোপের নয়, কাজের। অতএব, সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ, ২০২৬ সালের মধ্যেই “জাতীয় খাদ্য উৎপাদন অভিযান” শুরু করা হোক। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগকে এই কাজে নেতৃত্ব দিতে হবে। তা না হলে ২০২৮ এর সংকট ঠেকানো যাবে না। লেখক : কলামিস্ট












