বাঁশখালীবাসীর যে প্রত্যাশা

বাঁশখালী প্রতিনিধি | রবিবার , ৯ আগস্ট, ২০২৬ at ৬:৩৫ পূর্বাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাঁশখালী আগমনকে কেন্দ্র করে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশস্থল বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত এলাকায় বিধবা সাজেদা বেগমের কাছে নতুন বাড়ি হস্তান্তর করা হবে। ওই এলাকায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি লক্ষ্য করা গেছে।

এদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বাহারছড়ার সমুদ্রসৈকত এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় বাঁশখালীর সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোছাইনী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রুহুল আমিন উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশস্থলে নিরাপত্তা নিয়োজিত এসএসএফ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, জেলা ও বাঁশখালী প্রশাসন, বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিতিতে জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা বিষয়ে কথা বলেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বন্যাদুর্গতদের ১০০ বাড়ি হস্তান্তরের মধ্যে ১০ জনের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেবেন এবং পশ্চিম বাহারছড়ায় বিধবা সাজেদা বেগমের বাড়ি সরাসরি উদ্বোধন করবেন। পঙ্গু ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করবেন।

বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত এলাকায় হেলিপ্যাড এবং সমাবেশের মঞ্চ পরিদর্শনকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, প্রতি বছর বাঁশখালীবাসীকে যাতে আর বন্যা মোকাবেলা করতে না হয় সেজন্য বর্তমান সরকার প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এ অঞ্চলের খালগুলো দীর্ঘদিন ধরে দখল ও দূষণে অস্তিত্ব বিলোপের পথে। ফলে স্বাভাবিক বৃষ্টি হলে বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়। এজন্য খালগুলো খনন ও পুনঃখনন করে পানিপ্রবাহ সৃষ্টি করা হবে, যাতে দ্রুততম সময়ে পানি নেমে যেতে পারে। পাহাড়ের ঢল যাতে মানুষের বসতবাড়িতে না ঢুকে সেজন্য টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাঁশখালীবাসীর চাওয়া : ২০০৬ সালে ২৯ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারর্সন খালেদা জিয়া বাঁশখালী এসেছিলেন। সেই সময় বাঁশখালীবাসীর যোগাযোগের অন্যতম পথ শঙ্খ নদীর তৈলারদ্বীপ সেতুর নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন। দীর্ঘ বছর পর তাঁর সন্তান আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে বাঁশখালী আসছেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে জনগণের প্রধান প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য টেকসই পুনর্বাসন ব্যবস্থা গ্রহণ, উপকূলীয় এলাকায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং উপকূলজুড়ে মেরিন ড্রাইভ সড়ক বাস্তবায়ন করা। এছাড়া বাঁশখালীর প্রধান সড়ককে চার লেনে উন্নীত করা এবং সম্ভাবনাময় সমুদ্রসৈকতকে পূর্ণাঙ্গ পর্যটন অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা, জলকদর খাল সংস্কার করে কৃষিখাত অগ্রসর করা, বাঁশখালীতে উৎপাদিত এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রেক্ষিতে বাঁশখালীবাসীর জন্য শতভাগ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং তৈলারদ্বীপ সেতু টোলমুক্ত করা।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা বলেন, দীর্ঘদিন পর দল ক্ষমতায়। দলীয় প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাঁশখালী সফর ঘিরে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোছাইনী বলেন, বাঁশখালীর সার্বিক উন্নয়নে বেশ কয়েকটি দাবি স্মারকলিপি আকারে প্রদান করা হবে। আশা রাখি প্রধানমন্ত্রী সাধারণ জনগণের কথা বিবেচনা করে তা বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

বাঁশখালীর সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী এসে স্বচক্ষে দেখে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং উপকূলজুড়ে মেরিন ড্রাইভ সড়ক, জলকদর খালের সংস্কারসহ সামগ্রিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন, এমন প্রত্যাশা আমার।

পূর্ববর্তী নিবন্ধজুলাইয়ের শহীদ ও আহত ১০ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধআশায় বুক বাঁধছেন ফটিকছড়ির মানুষ