সম্প্রতি শহরের এক স্বনামধন্য বেসরকারি হাসপাতালে ছিলাম। সারা রাত বন্ধুর সদ্য জন্ম নেওয়া ফুটফুটে বাচ্চাটাকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় কেটেছে। দুই দিন ধরে সে ভর্তি। যাই হোক, বাচ্চাটি এন আইসিইউ–তে আছে। আর আমার বন্ধু ও আমি টেনশন করতে করতে নানা বিষয় নিয়ে গল্প করছিলাম। রাত যত গভীর হচ্ছিল, হাসপাতাল যেন ততই ভরে যাচ্ছিল। একেক বাচ্চার একেক সমস্যা। কেউ ভূমিষ্ঠ হয়েই কষ্টে, আবার কেউ মায়ের গর্ভেই কষ্টে আছে। এমনই একটি সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া বাচ্চা সন্ধ্যার পর এসেছিল। কিছুক্ষণ আগে সে মারা গেল। কারণটা অবশ্যই বেশ ভয়ানক। বাচ্চাটির মা–বাবার এন আইসিইউ–তে রাখার মতো টাকা ছিল না। তাই ডাক্তার অক্সিজেন মাস্ক খুলে দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ডাক্তার ও সহকারীদের সামনেই বাচ্চাটি ছটফট করতে করতে মারা যায়। আমি আর আমার বন্ধু দুজনই ঘটনাটির প্রেক্ষাপট দেখে স্তব্ধ হয়ে গেলাম। আমাদের দেশের সরকারি আমলাতান্ত্রিক মহাসমারোহে যারা আছেন, তাঁদের চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর কিংবা ভারতের মতো উন্নত চিকিৎসাসেবার দেশে পাঠানো হয়। কিন্তু আমরা যারা দিনমজুর, নিম্নবিত্ত বা সাধারণ মানুষ, আমাদের তো মুহূর্তের মধ্যে ওই দেশে যাওয়ার সামর্থ্য নেই। তাই এদিক–ওদিক ছুটতে গিয়ে অনেক মা–বাবা এমন আলিশান ক্লিনিকেও ভর্তি হন, আর পরে টাকার অভাবে নিজের সন্তানকে হারান। দেশটি স্বাধীনতা লাভ করেছে, কিন্তু একটি স্বাধীন দেশে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের সক্ষমতা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।











