বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কে শুধু পুরুষের শাস্তি কেন অবৈধ নয় : হাই কোর্ট

| বুধবার , ৫ আগস্ট, ২০২৬ at ৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ

প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিতে হওয়া সম্পর্ককে ‘বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’ এর অজুহাতে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধান এবং সেক্ষেত্রে কেবল পুরুষের শাস্তির বিধান কেন অবৈধ ও সংবিধানবিরোধী হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট। সেইসঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০২৬ এর সংযোজিত ৯() ধারা কেন অকার্যকর ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না, রুলে সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। ওই ধারায় বলা হয়েছে, ‘দৈহিক বলপ্রয়োগ ছাড়া বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ১৬ বছরের বেশি বয়সি কোনো নারীর সঙ্গে যৌনকর্ম করা এবং ওই সময় তার সঙ্গে আস্থাভাজন সম্পর্ক থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনধিক সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন।’ খবর বিডিনিউজের।

গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মো. হাবিবুল গনির নেতৃত্বে হাই কোর্ট বেঞ্চ শুনানি নিয়ে এ রুল জারি করেন। আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে রুলে।

পুরুষ অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘এইড ফর মেন ফাউন্ডেশন’ এর পক্ষে সংগঠনটির সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম নাদিম ২০২৫ সালে জনস্বার্থে রিট আবেদন করেন। আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ৪ মে হাই কোর্টের একই বেঞ্চ একটি রুল জারি করেছিল। পরবর্তীতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সালের ৮৫ নং আইন) এর মাধ্যমে একই বিধান পুনরায় যুক্ত করা হলে, সংশোধিত আইনটির সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সম্পূরক হলফনামা দাখিল করা হয়।

রিট আবেদনে বলা হয়, প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিতে হওয়া ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ‘বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’ এর ভিত্তিতে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধানটি অস্পষ্ট, বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানে নিশ্চিত মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

রিট আবেদনের পক্ষে মঙ্গলবার আদালতে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোহাদ্দেশউলইসলাম।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহেরোইন গাঁজা ও ইয়াবা উদ্ধার মামলায় একজনের যাবজ্জীবন
পরবর্তী নিবন্ধমালয়েশিয়ায় সহকর্মীদের মধ্যে মারামারি, ৩ বাংলাদেশি নিহত