শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের ২ সহযোগী গ্রেপ্তার, পিস্তল ও গুলি উদ্ধার

রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদ হত্যা

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ৪ আগস্ট, ২০২৬ at ৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ

রাউজান পাহাড়তলী বাজারে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তারা দুজনেই এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। গ্রেপ্তারের পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগজিন ও ২ রাউন্ড গুলি।

গতকাল সোমবার সকালে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব রাউজান জুরুলকুল এলাকার শাহাব উদ্দিনের ছেলে মো. দিদার আলম (৩০) এবং একই এলাকার মৃত অছিউর রহমানের ছেলে মো. আফসার মিয়া (৩০)

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, গত ১৩ জুন রাউজানরাঙ্গুনিয়া সীমান্তবর্তী পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে মাসুদুল হক চৌধুরীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে গত ২ আগস্ট সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ডের শীতলপুর এলাকায় এক বিশেষ চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে এই দুই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতে রাউজান ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বসতঘরের সেফটি ট্যাংকের পাশ থেকে প্লাস্টিকের বস্তায় মোড়ানো অবস্থায় ৭.৬৫ ক্যালিবারের একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন ও ২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত দিদার আলমের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ মোট ১০টি এবং আফসার মিয়ার বিরুদ্ধে ৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে রাউজান, রাঙ্গুনিয়াসহ আশপাশের এলাকায় সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল।

উল্লেখ্য, বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলায় নিহতের ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী ১১ জনের নাম উল্লেখসহ মোট ১৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এর আগে রাজধানী থেকে অস্ত্রধারী শুটার মোহাম্মদ ইলিয়াস ওরফে ‘ধামা ইলিয়াস’কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ, যাকে আদালত ২ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন। এছাড়াও রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার খেদারমারা ইউনিয়নের দুর্গম দুরছড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি আইয়ুবকে গ্রেপ্তার করা হয়। এমনকি মাসুদের মৃত্যুর পর মানিব্যাগ চুরি করা একজন এবং সন্দেহজনক চলাফেরার দায়ে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজি নির্মূলে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই মামলার মূল হোতাসহ জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধশেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না
পরবর্তী নিবন্ধজুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মসূচি