বিএনপি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি

চট্টগ্রামে নাহিদ ইসলাম তিন পার্বত্য জেলায় এনসিপি নতুন জনপ্রতিনিধি বের করবে

আজাদী প্রতিবেদন | সোমবার , ৩ আগস্ট, ২০২৬ at ৭:১৬ পূর্বাহ্ণ

আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তিন পার্বত্য জেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টিএনসিপি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, তিন পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলেই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আমরা কাজ করব, যাতে সেখানে আমরা জনপ্রতিনিধি বের করে নিয়ে আসতে পারি। গত ৫৪ বছর ধরে পার্বত্য অঞ্চলে যে নেতৃত্ব গড়ে উঠেছে তার বাইরে গিয়ে এনসিপি নতুন জনপ্রতিনিধি বের করবেন জানিয়ে নাহিদ বলেন, পার্বত্য অঞ্চল যেন তরুণ জনপ্রতিনিধি পায়, যারা পাহাড়ের মানুষের জন্য কাজ করবে, সকল জনগোষ্ঠী ও জাতিসত্তার মানুষের জন্য কাজ করবে। এবার নির্বাচনে (জাতীয় সংসদ) একটি অঞ্চলে আমাদের ইলেকশন করার অভিজ্ঞতা হয়েছে। আগামী নির্বাচনে এবং বিশেষ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সকল জায়গায় এনসিপির জনপ্রতিনিধি থাকবে।

তিনি গতকাল রোববার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জাতীয় নাগরিক পার্টি তিন পার্বত্য জেলার উদ্যোগে ‘পাহাড়ে জুলাই: সমমর্যাদা, সহাবস্থান ও সমপ্রীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজা উদ্দিনের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদ, এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব সাগুফতা বুশরা মিশমা, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক জোবাইরুল হাসান, কেন্দ্রীয় সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) মনজিলা ঝুমা, চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়েব, বান্দরবান জেলা আহ্বায়ক মংসাপ্রু মারমা, খাগড়াছড়ি জেলা আহ্বায়ক নুর আলম সিদ্দিকী ও রাঙামাটি জেলার সদস্য সচিব মোহাম্মদ শোয়েব।

নাহিদ ইসলাম বলেন, একটা সরকার টু থার্ড মেজোরিটি নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। অথচ পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো প্রতিনিধি নেই। দীপেন দেওয়ানকে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রিসভায় রাখা হয়েছিল। কিন্তু তাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে যিনি আছেন, তিনি সমতলের একজন বাঙালি। তিনি পাহাড়ের নন, পাহাড়ের বাঙালিও নন এবং পাহাড়ের অন্য কোনো নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীরও প্রতিনিধি নন। তারপরও তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে কবে হয়েছে আমার জানা নেই। এটা করতে পারছে কারণ সরকার কোনো জবাবদিহির আওতায় নেই। ফলে আমরা মনে করি, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে পাহাড় থেকে আওয়াজ আসা উচিৎ।

তিনি বলেন, বিএনপি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি। সব সমপ্রদায়কে ভোটের আগে এ দেশের প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলো ব্যবহার করেছে। আওয়ামী লীগও এটা করেছে, বিএনপিও করছে। তাদের ভোটব্যাংক বানিয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের পরে তাদের কোনো প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না। এ সময় জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে ‘প্রতারণা’ করেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে অনেক কিছু বলতে হয়, সেজন্য তারা বলেছে, জুলাই সনদে সাইন করেছে। একইভাবে প্রত্যেকটা কমিউনিটির কাছে, হিন্দুদের কাছে গিয়েও তারা মিথ্যাভাবে বলেছে যে তাদেরকে ভোট না দিলে তাদের কোনো নিরাপত্তা থাকবে না।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা সবার সমান নাগরিক অধিকারের পক্ষে। একইসঙ্গে আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা আপোষহীন। সবাই মিলে আমরা আমাদের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করবো। পাহাড়ের বঞ্চনার অবসান করতে হবে। আমরা পাহাড়ে ভিন্ন ধরনের চাঁদাবাজির কথা শুনতে পাই। আলাদা ধরনের সন্ত্রাস আছে। এসবের সমাধান লাগবে। পাহাড় থেকে সমতল সর্বত্র জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় আমরা দেখি যে পার্বত্য চট্টগ্রাম নানাভাবে বঞ্চনার শিকার, সেখানে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প বরাদ্দ থাকলেও সেখানে দুর্নীতি হয়, লুটপাট হয়, সেখানে জবাবদিহিতা থাকে না। আমরা পাহাড়ে একটা ভিন্ন রকম চাঁদাবাজির কথাও শুনেছি, যেখানে একটা আলাদা ধরনের সন্ত্রাসও আছে। ফলে সেগুলোরও সমাধান করা লাগবে। জবাবদিহিতা এবং সুশাসন সমতল থেকে পাহাড় সব জায়গায় নিশ্চিত করা লাগবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা মনে করি পাহাড়ের রাজনীতি, সমাজ, অর্থনীতি জটিল। এটার একরৈখিক সমাধান নেই। পাহাড়ের নৃগোষ্ঠীগুলো বিভিন্নভাবে বঞ্চিত, সমান মর্যাদা পায় না। আবার বাঙালিরাও নানা বঞ্চনার শিকার। তাদের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে বিভাজন, দ্বন্দ্বের কথা শুনি। এটার সুযোগ নেয় বিদেশি শক্তি। আমাদের কাজ হচ্ছে, আমরা সবাই বাংলাদেশি। এ দেশকে উন্নত করলে, সুষম বণ্টন হলে সবাই উপকৃত হবেন। পাহাড়ের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, নিপীড়নের রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব নিতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিৎ আলাপ আলোচনা করে সমাধান বের করা। সামরিক কায়দায় পাহাড়ে খুব বেশি দিন খুব বেশি কিছু অর্জন করা যাবে। তাদেরকে মূলধারায় নিয়ে আসতে হবে। যারা দ্বন্দ্ব জিইয়ে রেখে সুবিধা নিতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সবাই মিলে একটা সমাধানে এসে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হবে। পুরোনোরা পারেনি, আমরা যারা নতুন আমাদের উদ্যোগ নিতে হবে।

সরোয়ার তুষার বলেন, জুলাই সনদে জাতীয় এনসিপি একটা জিনিসের পক্ষ নিয়েছে। সেখানে যেটাকে বলা হয়েছে প্লুরালিজম। মানে বাংলাদেশে বহু জাতি, বহু ভাষা, বহু ধর্মের মানুষ আছে এবং তারা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। আর ওই যে ৬ নম্বর অনুচ্ছেদের জাতিবাদী, সামপ্রদায়িক যে ধারা; যেখানে বলা হয়েছে বাংলাদেশের সবাই বাঙালি, সেটাও বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ১০ দিনের রিমান্ডে ডেভিড ইমন
পরবর্তী নিবন্ধএক মাস বয়সী মেয়েকে বিক্রি করে দিলেন মা!