অস্ত্র ও খুনের পৃথক দুটি মামলায় সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে ৫ দিন করে ১০ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল রোববার চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোতাসিম বিল্লাহ তার এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। চট্টগ্রাম আদালতে থাকা জেলা পুলিশের কোর্ট ইন্সপেক্টর হাবিবুর রহমান আজাদীকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
নাম–পরিচয় লুকিয়ে ‘মিরাজ’ সেজে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় গত ২৯ জুলাই যশোরের সীমান্ত এলাকা থেকে ৩ সহযোগীসহ গ্রেপ্তার হন ইমন। পরে তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর এলাকা থেকে ৩টি অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ফটিকছড়ি থানায় ৫ জনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। তারা হলেন মোবারক হোসেন ইমন প্রকাশ ডেভিড ইমন, মো. শামীম, মো. শাফায়েত হোসেন, আল ইসলাম আলিফ প্রকাশ তমাল ও মোট মিঠু প্রকাশ ধামা ইলিয়াস। ধামা ইলিয়াস আগে থেকে কারাগারে ছিলেন। তার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মূলত সহযোগীসহ ইমনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
কোর্ট পরিদর্শক হাবিবুর রহমান বলেন, সহযোগীসহ ইমনকে গ্রেপ্তার–পরবর্তী অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটিতে ইমনের সাথে বাকি চারজনেরও ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। অন্যদিকে ১০ জানুয়ারি ফটিকছড়ির লেলাং এলাকায় জামাল হোসেন নামের এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে খুনের মামলায় ইমনের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। ৩০ জুলাই এ মামলায় ইমনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হলে আদালত সেটি মঞ্জুর করে। এদিকে একই দিন অপর একটি আদালত ইমনকে হাটহাজারী থানার একটি চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছে বলেও জানান কোর্ট ইন্সপেক্টর।
কয়েক বছর ধরে নগরীরসহ উত্তর চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন ইমন। গত ১২ জানুয়ারি ফটিকছড়ি থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলামূলে ২৬ জুলাই চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা শাখা বরাবর রিকুইজিশন পাঠায় ফটিকছড়ি থানা পুলিশ। সেখান থেকে পত্রটি হাতে পেয়ে অভিযান চালিয়ে ২৯ জুলাই যশোরের কোতোয়ালী থানাধীন সীমান্তবর্তী ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করে যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম। এ সময় তার ৩ সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পরে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হলে তাদেরকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়।
ইমনের গ্রেপ্তার হওয়া নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে নগরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন প্রকাশ ডেভিড ইমন যোগাযোগ রক্ষায় ব্যবহার করতেন বিদেশি সিম ও মোবাইল ফোনের বিশেষ অ্যাপ। তার কাছে পাওয়া গেছে ভারতীয় আধার কার্ড। তিনি বলেন, ১৩ জুন রাউজানের পাহাড়তলী এলাকায় আলোচিত যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং প্রত্যক্ষ–পরোক্ষভাবে জড়িত সবাইকে শনাক্ত করা হয়। ২২ জুলাই মাসুদ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত অন্যতম আসামি রাউজানের মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াসকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। গ্রেপ্তারের পর তার কাছ থেকে অনেক তথ্য পাই। তাদের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক সম্পর্কে জানতে পারি।
তিনি বলেন, সম্প্রতি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিডিএনের মালিককে ফোন করে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি ও ভাঙচুরের ঘটনা বিষয়েও ধামা ইলিয়াসের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায় পুলিশ। ইমনকে গ্রেপ্তারে এসব তথ্য পুলিশকে সহায়তা করেছে।












