বিদ্যুৎ উৎপাদন ও যানবাহনে ব্যবহৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (সিএনজি) দাম বাড়ানোর একটি প্রস্তাব জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পাঠানোর খবরের মধ্যে পেট্রোবাংলা বলছে, এই মুহূর্তে গ্যাসের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই সরকারের।
গতকাল শনিবার রাতে রাষ্ট্রায়ত্ত এ কোম্পানির এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিভ্রান্ত না হওয়ারও অনুরোধ করা হয়েছে। তবে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পাঠানোর বিষয়ে কিছু বলা হয়নি বিজ্ঞপ্তিতে।
পেট্রোবাংলা গ্যাসের দাম নিয়ে একটি প্রস্তাব জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পাঠিয়েছে বলে গত শুক্রবার সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই প্রস্তাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটার ২৫ টাকা এবং যানবাহনে ব্যবহৃত সিএনজির পাম্পমূল্য প্রায় ৬৫ টাকা করার কথা বলা হয়। এদিন পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা বলেন, তাদের প্রস্তাবে বিদ্যুৎ ও সিএনজি খাতে গ্যাসের নতুন মূল্যও তুলে ধরা হয়েছে। আর পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বলেন, মন্ত্রণালয়ে যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, সেটি সিএনজি স্টেশন মালিকদের মার্জিন বাড়ানোর দাবি। দীর্ঘদিন ধরে মার্জিন না বাড়ায় ব্যবসায় লোকসান হচ্ছে জানিয়ে সিএনজি স্টেশন মালিকরা পেট্রোবাংলার কাছে দাবি তুলেছিলেন বলে জানান তিনি। খবর বিডিনিউজের।
সিএনজির পাশাপাশি বাসাবাড়ি বা বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বাড়ানোর কোনো বিষয় আছে কিনা, এ প্রশ্নে আব্দুল মান্নান বলেছিলেন, সিএনজিরই বাড়বে, এটাও আমি বলছি না।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের ২ জুলাইয়ের আদেশ অনুযায়ী, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের ভোক্তাপর্যায়ের দাম প্রতি ঘনমিটার ১৫ টাকা ৫০ পয়সা। এই দাম ১ জুলাই থেকে কার্যকর রয়েছে।
গ্যাসের দাম পরিবর্তনের প্রস্তাব সরাসরি কার্যকর করার ক্ষমতা পেট্রোবাংলার নেই। জ্বালানি বিভাগের নীতিগত সম্মতির পর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে হয়। কমিশন আবেদন যাচাই ও গণশুনানির পর দাম নির্ধারণ করে।
মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন ও কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার মধ্যে দাম বাড়ানোর খবর সামনে এসেছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাসাবাড়িতে রান্না, শিল্পকারখানার উৎপাদন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সিএনজি স্টেশনগুলোতেও যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে।












