সকালে তরতাজা সূর্যরশ্মি, বিকেলে মুক্ত হাওয়া,
কখনো আকাশে ডানা মেলে উড়ে পাখিরা;
রাতে হিম বাতাসে নিয়নবাতির আভা ঝলমলে।
মধ্যখানে সবুজ ঘাসের মাঠ
অদূরে হরেক যন্ত্রযান ছুটছে গন্তব্যে–
চারদিকে উঁচু উঁচু মস্ত ব্যস্ত দেমাগি নাগরিক দালান,
বর্ষাফলকের মতো লৌহের বেষ্টনি সদা সতর্ক,
ইট–পাথরের মসৃণ রাস্তা ধাবমান।
পরিপাশ জুড়ে সাজানো–গুছানো বৃক্ষরাজি
দেয় সুশীতল ছায়া
দেয় মায়া
দেয় কায়া।
গভীর রাতে নীলপরি– লালপরির নৃত্যোল্লাসে
ফাগুনের উত্তাপ ছড়ায় চারদিক।
আষাঢ়–শ্রাবণে কৃষ্ণমেঘের গর্জনে
সবুজ ঘাসের মাঠে যখন অঝোর ধারায় বৃষ্টি পড়ে,
তখন জলমগ্ন ময়দান যেন বড়ো দিঘির সমান।
হঠাৎ দৃশ্যপট পাল্টে যায়;
নাগরিক বালকদের জলে জলে জলখেলির
উচ্ছ্বাস কী অপরূপ!
নিমিষেই সকল বিরহ ব্যথা মন থেকে উবে যায়।
প্রত্যহ প্রত্যুষে থেকে প্রদোষে রাতে অসংখ্য
নারী–পুরুষের শারীরিক কসরতে কসরতে,
হাঁটার মিছিলে কী উন্মাতাল এই ময়দান।
সকালে– বিকেলে পায়ে পায়ে ব্যাটে বলে
কী জমজমাট এই ময়দান
নীরবে ঝরে ঘাম, ততক্ষণে হয় অবসাদের অবসান।
রাতে সবুজ ঘাসের মাঠে উদোম গায়ে
যখন একাকী হাঁটি,
তখন শান্তির স্নিগ্ধতায় দেহমন কী সজীব সপ্রাণ।
সিপাহিবিদ্রোহ থেকে মুক্তিযুদ্ধের কথা
ভীষণ মনে পড়ে,
আহ্, কতো স্মৃতি বিজড়িত এই ঐতিহাসিক ময়দান।






