উদ্ধারকারী জেলেকে নৌকা দিতে চান দুই শ্রীলঙ্কান

লাগবে আদালতের অনুমতি

| বুধবার , ২৯ জুলাই, ২০২৬ at ৪:১৭ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূলে বঙ্গোপসাগর থেকে উদ্ধার হওয়া দুই শ্রীলঙ্কান জেলে তাদের মাছ ধরার নৌকাটি উদ্ধারকারী বাংলাদেশি জেলে জিয়াউর রহমানকে দিতে চান। তবে নৌকাটি জব্দ তালিকায় থাকায় আদালতের অনুমতি ছাড়া তা হস্তান্তর করা যাবে না বলে জানিয়েছেন মহেশখালী থানার ওসি মো. আবদুস সুলতান।

তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়ার পর দুই জেলে প্রথমে নৌকাটি নিয়ে দেশে ফিরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আইনি কারণে তা সম্ভব নয় জানানো হলে তারা নৌকাটি জিয়াউর রহমানকে উপহার দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ওসি বলেন, নৌকাটি আদালতে জব্দ তালিকাসহ উপস্থাপন করা হয়েছে। আদালতের অনুমতি পেলে জিয়াউর রহমান সেটি নিতে পারবেন। খবর বিডিনিউজের।

জিয়াউর রহমান বলেন, তারা আমাকে দিলেও খুশি, না দিলেও খুশি। আমি তাদের জীবন বাঁচাতে পেরেছি, এটাই সবচেয়ে বড় কথা। তারা ভালোবেসে নৌকাটি দিতে চেয়েছেন, তাই আমি নিতে রাজি হয়েছি।

উদ্ধারের পর একদিন দুই শ্রীলঙ্কান জেলে জিয়াউর রহমানের বাড়িতে ছিলেন। পরে পুলিশের মোবাইল ফোন পেয়ে গত শনিবার তাদের মহেশখালী থানায় নিয়ে যান তিনি। পুলিশ জানায়, দুই জেলে শুধু তাদের মাতৃভাষায় কথা বলতে পারেন। তাই শুরুতে তাদের বক্তব্য বুঝতে সমস্যা হয়। পরে কঙবাজারের একটি হোটেলে কর্মরত এক শ্রীলঙ্কান নাগরিকের সহায়তায় তাদের বক্তব্য নেয় পুলিশ।

ওসি আবদুস সুলতান বলেন, বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হলে তারা বাংলাদেশে শ্রীলঙ্কার দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূত দুই জেলের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেন।

পুলিশ জানিয়েছে, তাদের ভ্রমণ নথি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও ছবি শ্রীলঙ্কান দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে। আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে তাদের দেশে ফেরানো হবে।

মহেশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রতুল কুমার বলেন, গত সোমবার আদালতের নির্দেশে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তার মাধ্যমে দুই জেলেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত সপ্তাহের বুধবার বঙ্গোপসাগরের সোনারচর এলাকার কাছে একটি ফাইবার ট্রলারে ওই দুই ব্যক্তিকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান জেলেরা। পরে তাদের নিজেদের মাছ ধরার নৌকায় তুলে মহেশখালী নিয়ে আসেন। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে তারা মহেশখালী পৌঁছান। উদ্ধার হওয়া শ্রীলঙ্কার ডেভিনুওয়ারা এলাকার বাসিন্দা এসএইচ চামিন্দা (৫১) ও তার ছেলে সাউন্ডা হান্নাদিগি পিয়াওয়াটিং (৩০) দাবি করেছেন, তারা টানা ৩৬ দিন সাগরে ভেসে ছিলেন এবং কাঁচা মাছ খেয়ে বেঁচে ছিলেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআনিস আহমেদ ইবিএল চেয়ারম্যান নির্বাচিত
পরবর্তী নিবন্ধসাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের তিন বছরের কারাদণ্ড