জীবন বিধাতার সৃষ্টি আর তাঁর অপার করুণার ফসল।জীবনকে ভালবাসতে পারলেই জীবন হয় আনন্দের আর উপভোগ্য। ইদানীং কালে বেড়ে যাচ্ছে বিভিন্ন বয়সের মানুষের আত্মহত্যার প্রবণতা।এর মধ্যে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মৃত্যুর একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হল আত্মহত্যা। প্রশ্ন হল, কেন এই আত্মহত্যা? বিভিন্ন কারণের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য কারণ হল জীবনের প্রতি চরম হতাশা, অপ্রাপ্তি, ভালবাসা বা নিরাপত্তা বোধের অভাব। জীবনকে ভালোবাসা, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আর নিয়মিত মেডিটেশন মনে প্রশান্তি আনে আর জীবনের অপূর্ণতা অপ্রাপ্তি থেকে জন্ম নেওয়া হতাশা, নেতিবাচক চিন্তা থেকে মনকে মুক্ত রাখতে সহায়তা করে। আবার মেডিটেশন বা মনের শিথিলায়ন চর্চা রাগ,ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়। জার্নাল অব আমেরিকান মেডিকেল এসোসিয়েশন ইন্টারনাল মেডিসিন এর ভাষ্য হলো, ডিপ্রেশন আর অস্থিরতার ওপর মেডিটেশনের প্রভাব কতটুকু এ নিয়ে এ পর্যন্ত অনেক বৈজ্ঞানিক গবেষণা হয়েছে। প্রতিটি ট্রায়ালেই প্রমাণিত হয়েছে, বিষণ্নতা ও অস্থিরতা দূর করতে মেডিটেশনের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। আবার মানসিক দুশ্চিন্তা বা না পাওয়ার হতাশা থেকে সৃষ্টি হয় পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজ অর্ডার (পিটিএসডি)। এর অর্থ হলো বিপদ বা দুঃসময় কেটে যাওয়ার পরও শরীর, মন এবং স্মৃতিতে এর অস্তিত্ব এখনো বর্তমান। তাই সেই যন্ত্রণার অনুভূতিগুলো প্রকাশ পায় মনো–দৈহিক নানা রোগের উপসর্গ নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর পিটিএসডি এর তথ্য অনুসারে বিশ্বের ৭% থেকে ৮% মানুষ তাদের কোন না কোন বিপর্যয় বা দুঃখের স্মৃতি বয়ে নিয়ে বেড়ায়।এই দুঃখের স্মৃতি বা মানসিক বিপর্যয় থেকে মানুষকে আত্মহত্যার মত সিদ্ধান্তের দিকে এগিয়ে দেয়।তাই এই মেডিটেশন বা শিথিলায়ন চর্চা ট্রমা কাটিয়ে জীবনের সব হতাশা থেকে বেরিয়ে এসে জীবনকে উপলব্ধি করার সুযোগ দেয়। তাই সন্তান নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত বাবা মাকে বলি,আপনাদের সন্তানদের নিয়মিত শিথিলায়ন চর্চায় অভ্যস্ত করান। প্রতিদিন তাদের কোন না কোন ভাল কাজের প্রশংসা করুন আর সবসময় তাদের বলুন, আমি জানি তুমি চেষ্টা করলে পারবে। সন্তানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করুন যাতে তারা সব বিষয় বাবা মায়ের সাথে শেয়ার করতে ভয় না পায়। আমাদের মনোজগত বিধাতার এক বিচিত্র সৃষ্টি, যার অলিন্দ নিলয়ে আলোছায়ার খেলা চলে অবিরাম। কখনে বিষাদের কালো মেঘ,কখনো সুখের রদ্দুর। এটাই জগতের নিয়ম। যদি বিষাদ দীর্ঘস্থায়ী হয়,তখন জীবন বিপন্ন হয়, মন ভারাক্রান্ত হয়। আত্মার শান্তি বিনষ্ট হয়।তাই মহা মানবের অমৃত বাণী সবসময় মনে রাখি— জগতে দুঃখ আছে, দুঃখের কারণ আছে এবং দুঃখ নিরোধের পথও আছে। এই পথ আলোর, এই পথ শান্তির, এই পথ ধ্যানের।










