জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে কৃষিখাতে ব্যাপক বিপর্যয় নেমে এসেছে। দীর্ঘ সময় বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে থাকায় এবং কাদামাটি ও বালি জমে চারা পচে যাওয়ায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের মতে এই খাতে আনুমানিক ২ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে রোপা আমন চাষের ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে কৃষকদের।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল গাফফার জানান, আকস্মিক এই বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার কুতুবজোম, বড় মহেশখালী, ছোট মহেশখালী, হোয়ানক, কালারমারছড়া ও মাতারবাড়ী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের রোপা আমনের বীজতলা, পরিপক্ক আউশ ধান এবং গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষেত। শত শত একর জমির বীজতলা দিনের পর দিন অনবরত পানির নিচে ডুবে থাকায় চারার গোড়া পচে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও জমি জুড়ে জমে থাকা পলি ও কাদার স্তুপ কাটিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানো কৃষকদের জন্য এখন এক পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারিভাবে ইতিমধ্যে বন্যা পরবর্তী ৭০০ জন কৃষকের জন্য ৫ কেজি করে বীজ মহেশখালীতে পৌঁছে গেছে। আগামী কাল থেকে তা কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, আমন মৌসুমের শুরুতে কঠোর পরিশ্রম ও সুদের ওপর টাকা ধার করে তারা বীজতলা প্রস্তুত করেছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির এই তাণ্ডবে মুহূর্তের মধ্যেই সব শেষ হয়ে গেছে।
মহেশখালী কৃষি অধিদপ্তরের হোয়ানক ও কালারমারছড়া ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, আমন ফসল বীজতলার পাশাপাশি পানের বরজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে কৃষি অধিদপ্তর থেকে ৭০০ জন কৃষকের জন্য ৩৫০০ কেজি আমন বীজ পাওয়া গেছে। মাঠপর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে তা বিতরণ করা হবে।












