চট্টগ্রাম আদালতের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় আরো একজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। তার নাম আইনজীবী শহিদুল আলম রাহাত। তিনি মামলার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী ও আলিফের সহকর্মী। গতকাল চট্টগ্রামের বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফজলে খোদা মোহাম্মদ নাজির তার সাক্ষ্য রেকর্ড করেন। এ সময় শহিদুল আলম রাহাত বারবার আবেগাপ্লুত ও কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকউটর (পিপি) এসইউএম নুরুল ইসলাম আজাদীকে বলেন, এ নিয়ে মোট ২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ২০ আগস্ট পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেছেন, ঘটনার দিন আইনজীবীরা আদালত ভবনের বিপরীতে রঙ্গম সিনেমা হল সংলগ্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে ফিরছিলেন। এ সময় পেছন থেকে সাইফুল তাকে ডাক দেন। সাক্ষীর ভাষ্য অনুযায়ী, সাইফুল হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়ে তাকে বলেন, ‘ভাইয়া, আমাকে নিয়ে যান, ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’ শহিদুল আলম বলেন, এটিই ছিল সাইফুলের শেষ কথা।
এ পর্যন্ত বলার পরই তিনি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদতে শুরু করেন। এ সময় আদালতকক্ষে নীরবতা নেমে আসে। উপস্থিত কয়েকজন আইনজীবীকেও আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়। প্রায় এক মিনিট পর তিনি আবার সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করেন। সাক্ষ্যে শহিদুল আলম বলেন, সাইফুলের ডাক শুনে পেছনে ফিরে তিনি দেখেন, নীল রঙের গেঞ্জি পরা, মাথায় হেলমেটধারী এবং হাতে কিরিচ থাকা এক যুবকের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি সামনে যাওয়ার আগেই ওই ব্যক্তিরা তাদের দিকে এগিয়ে আসেন। পরে তিনি জানতে পারেন, আসামি রিপন দাসসহ অন্যরা সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, একই দিন মামলার প্রধান আসামি চিন্ময় দাশের জামিন চেয়ে একটি আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত সেটি নাকচ করে দেন। এ সময় চিন্ময় আদালতে হাজির ছিলেন না। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে ভার্চুয়ালি হাজির করা হয়।
দেশজুড়ে আলোচিত আইনজীবী আলিফ খুনের ঘটনায় তার বাবা জামাল উদ্দিনের দায়ের করা মামলায় গত ১৯ জানুয়ারি সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাশসহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ হয়।












