স্পেন বিশ্বকাপ জিতেছে, ট্রফি হাতে ইতিহাসের অংশ হয়েছেন লামিন ইয়ামাল। কিন্তু নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা পাচ্ছে তিন বছরের এক শিশুর দৌড়ে এসে বড় ভাইয়ের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ার মুহূর্ত। বিশ্বকাপের পুরো আসরেই স্পেনের গ্যালারিতে একটি ছোট্ট মুখ বারবার ধরা পড়েছে টেলিভিশনের ক্যামেরায়। কখনও দুই হাত নেড়ে সে উল্লাস করেছে, কখনও হেসেছে, কখনও খেলোয়াড়দের পরিবারের সঙ্গে স্পেনের জয় উদযাপন করেছে। সে লামিন ইয়ামালের সৎভাই কেইন। বিশ্বকাপের ফাইনাল শেষে পদক গলায় উদযাপনে ব্যস্ত ইয়ামালের দিকে দৌড়ে আসে কেইন। বড় ভাই তাকে কোলে তুলে নেন, গালে চুমু খান। দুই ভাইয়ের উদযাপনের সেই মুহূর্ত এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত দৃশ্যে পরিণত হয়েছে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে জন্ম নেওয়া কেইনের বয়স এখন মাত্র তিন বছর। খেলার কৌশল বা বিশ্বকাপের গুরুত্ব বোঝার বয়স তার হয়নি। কিন্তু স্পেনের প্রতিটি জয় যেন তার নিজের উৎসব। তার উচ্ছ্বাস দেখার মতো। টুর্নামেন্ট জুড়ে টেলিভিশন ক্যামেরায় বারবার ধরা পড়েছে তার এই উচ্ছ্বাস। কখনও সে দর্শকদের দিকে হাত নাড়ছে, কখনও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে লাফিয়ে আনন্দ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ভিডিও লাখ লাখবার দেখা হয়েছে। ফাইনালের পর আরও একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। দেখা যায়, বিশ্বকাপের গোলপোস্টের জালের একটি ছোট অংশ স্মারক হিসেবে হাতে নিয়ে দৌড়ে যাচ্ছেন কেইন। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ইয়ামালকে দেখেই ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরে সে। ইয়ামাল এর আগেও একাধিক সাক্ষাৎকারে ছোট ভাইয়ের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা বলেছেন। কেইন ইয়ামালের মায়ের দ্বিতীয় ঘরের সন্তান। ইয়ামালের জন্মের কয়েক মাস পর তার বাবা মুনির নাসরাউই ও মা শেইলা এবানার বিচ্ছেদ হয়। পরে শেইলা নতুন সংসার শুরু করেন। সেই সংসারেই জন্ম হয় কেইনের। ইয়ামালের বাবার দিক থেকেও আরেক সৎবোন রয়েছে, তার নাম বারা। তবে কেইনের মত তাকে খুব বেশি জনসম্মুখে দেখা যায় না। বিশ্বকাপেই প্রথম নয়, ইয়ামালের ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতেও দেখা গেছে কেইনকে। বার্সেলোনার ম্যাচে সুযোগ পেলেই উপস্থিত থাকে সে। ২০২৫ সালের ব্যালন দ’র অনুষ্ঠানে পরিবারের সঙ্গে ইয়ামালের পাশে ছিল এই ছোট্ট শিশু। ২০২৬ বিশ্বকাপেও স্পেনের আটটি ম্যাচে গ্যালারিতে দেখা গেছে তাকে। ধীরে ধীরে সে নিজেই হয়ে ওঠে টুর্নামেন্টের এক অপ্রত্যাশিত আকর্ষণ। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল করলেও স্পেনের আক্রমণভাগে ইয়ামালের প্রভাব ছিল স্পষ্ট। প্রথম ম্যাচে না খেললেও এরপর প্রতিটি ম্যাচে তার গতি, ড্রিবলিং ও সৃজনশীলতা প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ব্যস্ত রেখেছে। ফাইনালে তার কয়েকটি জোরালো চেষ্টা রুখে দেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে ফেররান তরেসের গোলে স্পেনের শিরোপা নিশ্চিত হয়। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের পর বিশ্বকাপও জয়ের কীর্তি গড়লেন ইয়ামাল। তবে ট্রফি জয়ের রাতে ফুটবলপ্রেমীদের মনে সবচেয়ে বেশি জায়গা করে নিয়েছে যে ছবি, তা একজন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফুটবলারের নয়, বরং বড় ভাইয়ের কোলে উঠে আনন্দে হাসতে থাকা তিন বছরের এক শিশুর।












