আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইংল্যান্ড জানত, সেমি–ফাইনালে তাদের সবচেয়ে বড় বাধা কে। সাবেক উইঙ্গার জো কোল তাই সমাধান দিয়ে বলেছিলেন, লিওনেল মেসিকে ঘুম পাড়িয়ে দিতে হবে তাদের। তাহলেই গতিময় ফুটবলে ফাইনালে যাবে ইংল্যান্ড। না, তেমন কিছু করতে পারেনি টমাস টুখেলের দল। বরং আরও একটি দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আর্জেন্টাইন মহানায়কই গড়ে দিয়েছেন ব্যবধান। সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার মিকা রিচার্ড মনে করেন, এই ম্যাচে মেসি ফের দেখিয়েছেন তার অবস্থান কোথায়।
প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, প্রথম গোলে মেসির তেমন একটা ভূমিকা নেই। বাম পায়ে ‘সাদামাটা’ একটি পাস দিয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। কিন্তু একটু খেয়াল করলে বোঝা যায়, এই গোলের পেছনে কতটা মাথা খাটিয়েছেন মেসি। ডান প্রান্তে ডি বক্সের বাইরে মেসি যখন বল পান, সামনে ছিলেন কেবল জেড স্পেন্স। ডি বক্সের ঠিক মাথায় ছিলেন এলিয়ট অ্যান্ডারসন, বাকিরা ভেতরে। মেসি ক্রস করেননি, কোনো সতীর্থকেও বল বাড়াননি। ধীরে ধীরে এগিয়ে যান। ‘ওয়ান অন ওয়ান’ এড়াতে স্পেন্সকে সাহায্য করতে ছুটে আসেন এলিয়ট। ঠিক সেই সময়ে অরক্ষিত সতীর্থকে খুঁজে নেন মেসি। চমৎকার ফিনিশিংয়ে বাকিটা সারেন ফার্নান্দেস।
যোগ করা সময়ে ডান পায়ের নিখুঁত ক্রসে অরক্ষিত মার্তিনেসকে খুঁজে নেন মেসি। এখানেও সরাসরি ক্রস না করে সময় নেন তিনি। চলে যান বাইলাইনের কাছাকাছি। ততক্ষণে গোলমুখে জায়গা করে নেন মার্তিনেস। এরপর অধিনায়কের ক্রস পেয়ে, বাকিটা সারেন ইন্টার মিলান স্ট্রাইকার।
আগে থেকেই রিচার্ডস বলছিলেন, একটু সুযোগ পেলেই ম্যাচে ব্যবধান গড়ে দিতে পারেন মেসি। শেষ পর্যন্ত সেটাই সত্যিই হলো। তাতে ৩৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডের শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিলেন তিনি। ‘ওদের ছিল লিওনেল মেসি, ওদের ছিল ‘গোট।’ সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়। কোনো পর্যায়ে আমরা ভেবেছিলাম, ব্যবধান গড়ে দিতে পারে জুড বেলিংহ্যাম কিংবা হ্যারি কেইন। কিন্তু এ কারণেই তো তিনি রাজা’।












