বন্যায় চট্টগ্রামে কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

৫ উপজেলায় ১৫ হাজার হেক্টর জমির ধান ও সবজিক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত

শুকলাল দাশ | বুধবার , ১৫ জুলাই, ২০২৬ at ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় চট্টগ্রামের কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের পাঁচ উপজেলায় ১৫ হাজার হেক্টর জমির আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও গ্রীষ্মকালীন সবজিক্ষেত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ ও সীতাকুণ্ড উপজেলায়। পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় দোহাজারীতে গ্রীষ্মকালীন সবজিক্ষেতেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় চাষিরা জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. ওমর ফারুক আজাদীকে জানান, সাম্প্রতিক টানা অতি বর্ষণে চট্টগ্রামে বেশ কয়েকটি উপজেলায় বন্যার পানিতে আউশের ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলো হলো বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ ও সীতাকুণ্ড। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও দোহাজারীতে। তিনি জানান, সব মিলে চট্টগ্রামে বন্যায় ৯ হাজার ৪৩ হেক্টর আউশ ধানের জমি পানিতে ডুবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৫ হাজার ৯০৭ হেক্টর জমির গ্রীষ্মকালীন সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এবার চট্টগ্রামে মোট ৩০ হাজার ৩২ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের চাষ হয়েছে। আগামী মাসে আউশ ধান কাটার সময়। এরপর অক্টোবর মাসে শুরু হবে আমনের চাষ। ইতোমধ্যে যেসব কৃষকের আউশের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে তাদের আর আউশের চাষ করার সময় নেই। তাদেরকে আমন চাষের বীজ বিনামূল্যে দেওয়ার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে জেলা থেকে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওমর ফারুক। তিনি জানান, পানি কমে গেলে আজকালের মধ্যে কোন উপজেলায় কতজন কৃষকের কী পরিমাণ জমির ধানের ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণ করা হবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে আউশ ধান, আমনের বীজতলা, গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে কাঁকরোল, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, করলা, শসা, আদা, হলুদ, পেঁপেসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, উপজেলাভিত্তিক হিসাবে বাঁশখালীতে ২ হাজার ১৫০ হেক্টর, সাতকানিয়ায় ২ হাজার হেক্টর, লোহাগাড়ায় ২ হাজার হেক্টর, চন্দনাইশে ২ হাজার ১২০ হেক্টর, সীতাকুণ্ডে ১ হাজার হেক্টর আউশ ধানের জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

জেলার এক কৃষি কর্মকর্তা জানান, কৃষিজমির পাশাপাশি সবজি আবাদেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চন্দনাইশে ১ হাজার হেক্টর, সীতাকুণ্ডে ৭০০ হেক্টর, সাতকানিয়ায় ৭৬০ হেক্টর, লোহাগাড়ায় ৫৫০ হেক্টর, বাঁশখালীতে ৮৬০ হেক্টর, সন্দ্বীপে ৬০০ হেক্টর, ফটিকছড়িতে ৪৭৫ হেক্টর সবজিক্ষেত নষ্ট হয়েছে। পানি নেমে গেলে মাঠপর্যায়ে পুনরায় জরিপ করে চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসাধনপুরে বন্যার পানিতে ভেসে এল অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ
পরবর্তী নিবন্ধকাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যু: আজ দেশে রাষ্ট্রীয় শোক