টানা আট দিন বন্যার পানির সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত বসতভিটা ছেড়ে যেতে বাধ্য হলেন এক দিনমজুর। বাঁচার তাগিদে চার সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ঘর ছাড়লেন পেকুয়া সদর ইউনিয়নের চৈরভাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা মোবারক। বন্যার ভয়াবহতা, খাদ্যসংকট ও সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উৎকণ্ঠা–সব মিলিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। সরেজমিনে দেখা যায়, বন্যায় পেকুয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে। হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে এবং কর্মহীন হয়ে পড়েছে নিম্নআয়ের মানুষ।
দিনমজুর মোবারক প্রতিদিন জীবিকার সন্ধানে বাড়ি থেকে বের হলেও মন পড়ে থাকত পানিবন্দি ঘরে। চারদিকে অথৈ পানি ঘেরা বাড়িতে রেখে যাওয়া চার সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রতিটা মুহূর্ত ছিল উদ্বেগের। মোবারকের স্ত্রী প্রতিদিন বলতেন, এভাবে থাকা সম্ভব নয়। চলো, সন্তানদের নিয়ে নিরাপদ কোথাও চলে যাই। কিন্তু অর্থের অভাব আর যাওয়ার মতো জায়গা না থাকায় এতদিন সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি তারা। আট দিন পানিবন্দি থাকার পরও সরকারি–বেসরকারি কোনো ত্রাণ সহায়তা পৌঁছেনি বলে অভিযোগ তাদের। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাবে দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটানোর পর অবশেষে বসতবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন মোবারকরা।
এদিকে টানা বর্ষণে পেকুয়া উপজেলার সবকটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে পেকুয়া পৌরসভা ও সদর ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি। বন্যাকবলিত এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মন্নান গতকাল দুপুরে পেকুয়ার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।











