বৃষ্টি কমায় বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে বন্যার পানি নেমে যাচ্ছে ধীরগতিতে। গতকাল শুক্রবারও বান্দরবান জেলার সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ দ্বিতীয়দিনের মত বিচ্ছিন্ন ছিল। বান্দরবান–কেরানীহাট, চট্টগ্রাম প্রধান সড়কের তিনটি স্থানে এবং বান্দরবান–বাঙালহালিয়া রাঙামাটি সড়কের কয়েকটি স্থানে সড়কে বন্যার পানি উঠায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সাতটি উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে বিভিন্ন স্থানে ছোট–বড় পাহাড় ধসে সড়কের ওপরে মাটি জমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে জানিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা।
বান্দরবান জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বলেন, বন্যার্তদের মাঝে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রিতদের খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ সকলেই সম্মলিত ভাবে দুর্যোগ মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছি।
এদিকে বিডিনিউজ জানায়, টানা ভারি বৃষ্টির কারণে বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় বান্দরবানে পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের মেয়াদ আরও তিন দিন বাড়িয়ে ১৫ জুলাই পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে জেলা প্রশাসন। গতকাল শুক্রবার রাতে বান্দরবান জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সমপ্রতি বান্দরবান পার্বত্য জেলায় অব্যাহত ভারি বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ঝুঁকির আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য ঝুঁকির বিবেচনায় পর্যটক ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৮ জুলাই জারি করা জরুরি গণবিজ্ঞপ্তির ধারাবাহিকতায় জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র ১৫ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র, ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটরসহ সর্বসাধারণের ভ্রমণ নিষিদ্ধ থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
এর আগে ৬ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন জেলার সকল পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল স্থানীয় প্রশাসন। এর মধ্যে আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ায় ৮ জুলাই আবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও দুদিন বাড়ানো হয়।












