যে জাতির যুবসমাজ স্বপ্ন দেখতে জানে, সেই জাতির ভবিষ্যৎ কখনো অন্ধকারে হারিয়ে যায় না। যুবক–যুবতীরাই একটি দেশের প্রাণশক্তি, পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি। কিন্তু আজকের বাস্তবতায় আমরা দেখতে পাই, অনেক তরুণ নানা ধরনের হতাশা, মাদকাসক্তি, বেকারত্ব, প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং মূল্যবোধের সংকটের কারণে পথ হারাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শুধু উপদেশ নয়, প্রয়োজন সুদূরপ্রসারী ও সৃজনশীল পরিকল্পনা।
সৃজনশীল পরিকল্পনা বলতে এমন উদ্যোগকে বোঝায়, যা তরুণদের চিন্তা, প্রতিভা এবং কর্মক্ষমতাকে ইতিবাচক পথে পরিচালিত করে। একজন যুবক যখন নিজের ভেতরের সম্ভাবনাকে আবিষ্কারের সুযোগ পায়, তখন সে ধ্বংস নয়, সৃষ্টি করতে শেখে। তার হাতে মোবাইলের পর্দা নয়, জ্বলে ওঠে ভবিষ্যতের নকশা; তার চোখে ভেসে ওঠে ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি সমাজকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন। যুবসমাজকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয় এমন একটি বড় কারণ হলো উদ্দেশ্যহীনতা। যে তরুণ জানে না সে কোথায় যাবে, সে সহজেই ভুল পথে পরিচালিত হতে পারে। তাই রাষ্ট্র, পরিবার এবং সমাজকে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে তরুণরা নিজেদের স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দেওয়ার সুযোগ পায়। খেলাধুলা, গবেষণা, স্বেচ্ছাসেবা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের শক্তিকে গঠনমূলক কাজে ব্যবহার করা সম্ভব।
প্রযুক্তি আজ যেমন আশীর্বাদ, তেমনি অপব্যবহারে অভিশাপও হতে পারে। সৃজনশীল পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তরুণদের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা, ডিজিটাল উদ্যোক্তা কার্যক্রম এবং অনলাইন শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। এতে তারা ভার্চুয়াল আসক্তির শিকার না হয়ে প্রযুক্তিকে উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে শিখবে।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, প্রতিটি উন্নত জাতির পেছনে ছিল দূরদর্শী পরিকল্পনা ও সৃজনশীল যুবশক্তি। তাই যুবসমাজকে শুধু সমস্যার উৎস হিসেবে নয়, সম্ভাবনার ভাণ্ডার হিসেবে দেখতে হবে। তাদের হাতে যদি সঠিক দিকনির্দেশনা, উপযুক্ত সুযোগ এবং সৃজনশীল কর্মপরিকল্পনা তুলে দেওয়া যায়, তবে তারা শুধু নিজেদের জীবনই বদলাবে না, বদলে দেবে পুরো সমাজের চিত্র। অতএব, যুবসমাজকে ধ্বংসের অন্ধগলি থেকে ফিরিয়ে আনার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সৃজনশীল পরিকল্পনা। কারণ সৃজনশীলতা মানুষকে স্বপ্ন দেখায়, পরিকল্পনা সেই স্বপ্নকে পথ দেখায়, আর সেই পথ ধরেই গড়ে ওঠে একটি আলোকিত ভবিষ্যৎ।









