জনগণ যাতে নিজেদেরকে সরকারপ্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করে, সেভাবে নিরাপত্তা কৌশল বিন্যাস করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল রোববার দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ডস রেজিমেন্টের (পিজিআর) সদর দপ্তরে বাহিনীর ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গণতান্ত্রিক সরকারপ্রধানের নিরাপত্তার প্রশ্নে নিজের ভাবনা তুলে ধরতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমি এর আগে এসএসএফের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আমার একটি উপলব্ধির কথা শেয়ার করেছিলাম, যেহেতু আপনারাও রাষ্ট্র এবং সরকার প্রধানের নিরাপত্তায় নিয়োজিত, সেহেতু আপনাদের জন্যও কথাটি প্রযোজ্য বলে আমি মনে করি। সেটি হলো, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রায়শই জনসভা এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে হয়। ফলে সেই সকল অনুষ্ঠানে আপনাদেরকেও দায়িত্ব পালন করতে হয়। এই ধরনের অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অবশ্যই কিছুটা জটিলতাপূর্ণ। খবর বিডিনিউজের। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব কর্মসূচি পালনের সময় একদিকে সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা, অপরদিকে নাগরিক জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত রাখা–এই দুটির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই আপনাদেরকে নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করতে হয়। আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান, নিরাপত্তা কৌশল এমনভাবে বিন্যাস করা জরুরি জনগণ যাতে নিজেদেরকে সরকারপ্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন। একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমি জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার উপর আমার আস্থা এবং নির্ভরতা বজায় রাখতে চাই। নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানাই।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তার বড় ছেলে বলেন, পিজিআরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আমার জীবনের সবচেয়ে শোকাবহ এবং হৃদয় বিদারক ঘটনা, আমার পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের কথা মনে পড়ছে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বরণের সময় কর্তব্য পালনরত পিজিআরের কয়েকজন সদস্যও শহীদ হয়েছিলেন। আজকের এই বিশেষ দিনে আমি পিজিআরের সেই সকল শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। আল্লাহর দরবারে তাদের মাগফেরাত কামনা করছি। দায়িত্ব পালনের সময় তাদের নির্মম মৃত্যুর মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের নিরাপত্তার প্রতি অটল আনুগত্য, কর্তব্যপরায়ণতা এবং জীবন উৎসর্গের যে চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হয়েছে, এটি অবশ্যই পিজিআরের সদস্যদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
তারেক রহমান বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তায় ১৯৭৫ সালের এইদিনে প্রথমে ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’ নামে একটি নতুন রেজিমেন্ট আত্মপ্রকাশ করেছিল। পরবর্তীতে তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিটকে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট হিসেবে অভিহিত করেন। এই নতুন নামকরণ রেজিমেন্টের কার্যক্রমকে আরো আত্মপ্রত্যয়ী এবং গতিশীল করতে ইতিবাচক প্রভাব রেখেছে। প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট পিজিআর প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান একটি অবিস্মরণীয় এবং অনুপ্রেণামূলক নাম।
সুশৃঙ্খলতার স্বীকৃতি স্বরূপ পিজিআর চলতি বছর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হওয়ায় বাহিনীর সদস্যদের অভিনন্দন জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, সশস্ত্রবাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর কিংবা এসএসএফের মতো সফিস্টিকেটেড বাহিনীগুলোকেও সরকার আরো আধুনিকায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে যথানিয়মে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী পিজিআর সদর দপ্তরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং পরিদর্শন বইয়ে সই করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার–উজ–জামান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, পিজিআরের কমান্ডেন্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম আরিকুল আলমসহ সামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।












