সরবরাহ বাড়ায় পাইকারিতে কমছে ভোজ্যতেলের দাম। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) পাম ও সয়াবিন তেলের দাম কমেছে ১০০ টাকা পর্যন্ত। ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারিতে বর্তমানে প্রচুর পরিমাণে ভোজ্যতেলের মজুদ রয়েছে। যে পরিমাণ তেল রয়েছে, সে হিসেবে বেচাবিক্রি নেই। ফলে দামও পড়তির দিকে রয়েছে। যদিও গত কয়েক মাস আগে ইরানে ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের যৌথবাহিনীর হামলার অজুহাতে হঠাৎ করে ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে যায়। পরবর্তীতে যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে ভোজ্যতেলের বাজারও স্বাভাবিক হতে থাকে। তবে ভোক্তারা বলছেন, ভোজ্যতেলের সাথে ইরান যুদ্ধের সম্পর্ক না থাকলেও ব্যবসায়ীরা কিন্তু ইচ্ছে মতো দাম বৃদ্ধি করেছিলেন। কারণ সবাই জানে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রধানত জ্বালানি তেল–গ্যাস পরিবহন হয়। ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের যা পকেট কাটার কেটে ফেলেছেন। এখন কিছুটা ব্রেক করেছেন। হয়তো সামনে নতুন আরেকটি অজুহাত দাঁড় করিয়ে সব সুদে আসলে তুলে নেবেন। কারণ আমাদের ভোগ্যপণ্যের বাজারে যেভাবে নজরদারি হওয়ার কথা, সেভাবে নজরদারি হয় না।
এদিকে গতকাল খাতুনগঞ্জের বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহ আগে প্রতি মণ পাম তেল বিক্রি হয়েছে ৬ হাজার ৪৩০ টাকায়। সেই তেল মণে ৮০ টাকা কমে গিয়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৩৫০ টাকায়। অন্যদিকে বর্তমানে সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি ৭ হাজার ২০০ টাকায়। গত দুই সপ্তাহ আগে এই তেল বিক্রি হয়েছে ৭ হাজার ৩০০ টাকায়। খাতুনগঞ্জের কয়েকজন তেল ব্যবসায়ী জানান, খাতুনগঞ্জের বাজারে পণ্য বেচাকেনা ও লেনদেনে যুগ যুগ ধরে কিছু প্রথা চালু আছে। নিজেদের সুবিধার অনেক প্রথা আছে যেগুলো আবার আইনগতভাবেও স্বীকৃত নয়। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) স্লিপ’। তেল কিংবা অন্য কোনো পণ্য কেনাবেচায় ডিও বেচাকেনার মাধ্যমে বিভিন্ন আগাম লেনদেন হচ্ছে। দেখা যায়, পণ্য হাতে না পেলেও ওই ওই স্লিপটিই বেচাকেনা হচ্ছে। কোনো কোম্পানি বাজার থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্যের ডিও কিনে নেয়। যে দরে ডিও কেনা হয়, তার বাজার দর যদি বেড়ে যায়, তখন পণ্যটি ডেলিভারি দিতে তারা গড়িমসি করে। আবার দেখা যায়, কোম্পানির পণ্যই আসেনি কিন্তু ডিও কিনে রেখেছেন অনেক বেশি। এর ফলে ওই কোম্পানি বাজারে পণ্য ডেলিভারি দিতে পারে না। তখন এসব পণ্যের দামও নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এক্ষেত্রে তেল ও চিনির ডিও বেচাকেনা বেশি হয়।
চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন দৈনিক আজাদীকে বলেন, খাতুনগঞ্জে যখন কোনো পণ্যের দাম বাড়ে, তখন সবাই সিন্ডিকেট কারসাজির অভিযোগ তুলে। আসলে ভোগ্যপণ্যের দাম উঠানামা করে, চাহিদাও যোগানের ওপর। চাহিদা বাড়লে দাম বেড়ে যায়, চাহিদা কমলে দামও কমে যায়। এখন যেমন ভোজ্যতেলের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং চাহিদা তুলনামূলক কমার কারণে দাম কমছে।












