নবগঠিত উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার সদর দপ্তর গণশুনানির সুপারিশ অনুযায়ী নারায়ণহাটের উত্তরে যৌক্তিক ও সহজ যোগাযোগসমৃদ্ধ স্থানে স্থাপনের দাবি জানিয়েছে উত্তর ফটিকছড়ির আন্দোলনরত জনগণ। একই সঙ্গে গণশুনানি ছাড়া হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল ইউনিয়নকে নতুন উপজেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সরকারের ১২১তম নিকার সভায় দেশের ৫০১তম উপজেলা হিসেবে উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলা অনুমোদন দেওয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায় এলাকাবাসী। তবে অনুমোদিত নতুন উপজেলায় উত্তরাঞ্চলের চারটি ইউনিয়ন–বাগান বাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট ও ভুজপুরের সঙ্গে দক্ষিণের হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল ইউনিয়ন যুক্ত করায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইউসুফ আলম মাসুদ। উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ’র সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রাকিবুল আলম চৌধুরী, উত্তর ফটিকছড়ি নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ওসমান গণি মজুমদার, আব্দুল জব্বার, খাইরুল খোমেনি, এডভোকেট শাহজাহান সিরাজ, খালেদুল আনোয়ার, এডভোকেট কায়সার হামিদ, আব্দুল্লাহ আল নোমান, শাহেদুল আলম প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, উপজেলা সদর থেকে দীর্ঘ দূরত্বের কারণে উত্তর ফটিকছড়ির মানুষ বহু বছর ধরে শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশাসনিক সেবা, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন। উপজেলার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশ উত্তরাঞ্চলের তিন ইউনিয়নে বসবাস করলেও উপজেলা সদরে যাতায়াতে অনেক ক্ষেত্রে একটি পুরো দিন লেগে যায়। এসব ভোগান্তির অবসান ঘটাতেই উত্তরাঞ্চলের চার ইউনিয়ন নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের দাবি উঠেছিল এবং সে লক্ষ্যে গণশুনানিও অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, একটি স্বার্থান্বেষী মহল নতুন উপজেলার সদর ভুজপুরে স্থাপনের উদ্দেশ্যে প্রভাব খাটিয়ে দক্ষিণের দুটি ইউনিয়নকে নতুন উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করেছে। এতে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে এবং উত্তরাঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি দূর হবে না। পাশাপাশি হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল ইউনিয়নের বাসিন্দারাও নতুন করে ভোগান্তিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। বক্তারা বলেন, গণশুনানির সুপারিশ উপেক্ষা করে উত্তরাঞ্চলের প্রত্যাশিত উপজেলা সদরকে দক্ষিণাঞ্চলের ভুজপুর সংলগ্ন এলাকায় স্থাপনের চেষ্টা উত্তরাঞ্চলের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। তারা দাবি করেন, উপজেলা সদর অবশ্যই নারায়ণহাটের উত্তরে গণশুনানির সুপারিশ অনুযায়ী ভারসাম্যপূর্ণ ও সহজ যোগাযোগসমৃদ্ধ স্থানে স্থাপন করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ফটিকছড়ি উপজেলার মোট আয়তন প্রায় ৭৭৩ বর্গকিলোমিটার, যার মধ্যে উত্তরাঞ্চলের অংশ প্রায় ৩০১ বর্গকিলোমিটার। এ অঞ্চলে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের বসবাস এবং ভোটার সংখ্যা প্রায় সোয়া লাখ। এত বৃহৎ জনগোষ্ঠীর ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করা উচিত হবে না বলেও মন্তব্য করেন তারা।
সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গণশুনানির সুপারিশের আলোকে উপজেলা সদর নির্ধারণের বিষয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় চলমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলন আরও বেগবান করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা। তবে তারা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে সমস্যার সমাধান চান বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।












