দেশকে এগিয়ে নিতে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আসুন আমরা যাদেরকে হারিয়েছি, আপনারা যারা কষ্ট স্বীকার করেছেন, যন্ত্রণা স্বীকার ভোগ করছেন; প্রত্যেকের আমাদের লক্ষ্য ছিল, প্রত্যেকেরই লক্ষ্য ছিল– এই দেশ, এই দেশের মানুষ, এদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। অর্থাৎ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন। আজ আমাদের হাতে সেই সুযোগটি এসেছে। আমরা চাই না জাতিকে দ্বিধা বিভক্ত করে সামনে এগিয়ে যেতে। কারণ জাতিকে বিভক্ত করে দেশকে কখনো সামনে নেওয়া যায় না। দেশকে সামনে একমাত্র তখনই নেওয়া সম্ভব যদি আমরা সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারি। খবর বাসস ও বিডিনিউজের।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গতকাল শনিবার দুপুরে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। জুলাই বিপ্লবের অর্জন কোনো একক ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের নয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আমি সকল সময় বলে থাকি, ৫ আগস্ট যে অর্জন আমরা করেছি, এই অর্জন কোনো একক ব্যক্তি, কোনো একক রাজনৈতিক দলের অর্জন নয়; বরং এই অর্জন দল–মত নির্বিশেষে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি গণতন্ত্রকামী শান্তিপ্রিয় মানুষের এটি অর্জন। এই অর্জন করতে গিয়ে আপনাদের যারা উপরে বসে আছেন, এই পাশে যারা বসে আছেন– তারা প্রত্যেকে যদি আপনাদের ডান দিকে একটি ব্যানারের দিকে তাকান, সেখানে লেখা আছে, ‘জুলাইয়ে শহীদ হওয়া সর্বকনিষ্ঠ ফুলগুলো’। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ৬৫ জন শিশু সেদিন শহীদ হয়েছিল। তাদের কি কোনো অপরাধ ছিল? তাদের অপরাধ ছিল না। কিন্তু দেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করতে গিয়ে যেভাবেই হোক এই শিশুগুলো সেদিন জীবন দিয়েছে।
সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করে গিয়েছেন যে, জাতিসংঘের হিসাবে প্রায় ১৪০০ মানুষ সেদিন শহীদ হয়েছিলেন। সেই উত্তাল দিনগুলোতে যতটুকু সম্ভব হয়েছে আমার পক্ষে আমি যতটুকু বিভিন্নভাবে শত বাধা–বিপত্তির মধ্যেও বিভিন্নভাবে খোঁজ করছিলাম আমার নেতাকর্মীদের মাধ্যমে। অনেকে অনেক হিসাব দিয়েছে। কিন্তু আমার হিসাবে, শুধু জুলাই আন্দোলনে শহীদ হয়েছে ২ হাজারের মতো মানুষ, ৩০ হাজারের মতো মানুষ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সার্বিকভাবে।
আওয়ামী লীগ শাসনামলে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়ন–নির্যাতন, মামলা–হামলার বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আজকে আপনাদের সকলের কাছে একটু সহযোগিতা চাই আমি। আপনজনকে আপনারা হারিয়েছেন তারও তো লক্ষ্য ছিল এই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন, তারও তো লক্ষ্য ছিল এই দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন। আপনি নিজে যে মানুষটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, কোনোভাবে তারও তো লক্ষ্য ছিল– এই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন, এই দেশের মানুষের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।
ঢাকার আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে জুলাই ’২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি এবং আমরা জুলাই যোদ্ধা। অনুষ্ঠানে জুলাই বিগণঅভ্যুত্থানের ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে বলেন, জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তাদের পরিবার ও যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান, স্বীকৃতি ও জীবনমান নিশ্চিতকরণ, পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন ও সহায়তা প্রদানে সরকার কাজ করছে।












