স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি সমাজ উন্নয়নে চিকিৎসকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ, নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের সবচেয়ে কাছে থাকার সুযোগ চিকিৎসকদেরই বেশি। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি, মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং সামাজিক উন্নয়নে চিকিৎসকদের এগিয়ে আসতে হবে।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ভাটিয়ারী গল্ফ ক্লাব মিলনায়তনে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ প্রাক্তন ছাত্র সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত ঈদ–পরবর্তী পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. সাইফুদ্দিন মো. তারিকের সভাপতিত্বে এবং ডা. মো. ইফতেখারুল ইসলাম লিটনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। প্রধান অতিথি অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং চব্বিশের গণআন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলন–সংগ্রামে চট্টগ্রামের জনগণের অবদান ও ত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সাড়ে চার মাসের মধ্যেই দারিদ্র্য বিমোচন ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ গঠনে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন দেশব্যাপী চিকিৎসকদের শূন্য পদে নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম নগরের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সিটি করপোরেশন বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকাকে ধূমপানমুক্ত রাখা এবং হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে চিকিৎসকদের সহযোগিতা কামনা করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ প্রাক্তন ছাত্র সমিতির মহাসচিব ডা. আশরাফুল কবির ভূঁইয়া, ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরী এবং ডা. তমিজউদ্দিন আহমেদ। এ সময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের চারজন প্রাক্তন শিক্ষার্থীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন–চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, দৈনিক পূর্বকোণের সম্পাদক ডা. ম. রমিজউদ্দিন চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. ইমরান বিন ইউনুস এবং অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবুল ফয়েজ। পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী লিজা। পরে র্যাফেল ড্র ও নৈশভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। এতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের বিপুলসংখ্যক প্রাক্তন শিক্ষার্থী অংশ নেন।











