তোমাকে জড়াতে গিয়ে শব্দেরা বড্ড দিশেহারা,
বুকে মেঘ জমে, চোখে নামে সহস্র রূপকথার তারা!
তোমাকে কোন নামে ডাকলে ওই শান্ত আকাশ ভাঙবে?
কোন শব্দে ছুঁলে এই নিঝুম রাত্রি জাগবে?
শোনো, তোমাকে যদি কোনো এক শ্রাবণ সন্ধ্যায়,
ভুল করে ‘মেঘবালিকা’ বলে ডেকে ফেলি,
তবে তোমার ওই নিভৃত অভিমানী মায়াবতী নামটি–
বুকের কোণে জল জমিয়ে মুখ লুকিয়ে কাঁদবে?
বলো! তখন কার আঁচলে মেঘের ছায়া খুঁজবো?
যদি কোনো কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের ভোরে, অলস চাদর
সরিয়ে তোমাকে আলতো করে ‘শিউলি’ বলে ডাকি!
তবে কি তোমার ওই মায়াবী, স্নিগ্ধ ‘হিমাদি’ রূপটি
চোখের পলকে তীব্র অভিমানে জমাট বেঁধে যাবে?
তখন কার উষ্ণতায় নিজেকে বাঁচাবো, বলো?
জ্যোৎস্নাভেজা কোনো এক নিঃশব্দ রাতে, তোমার
কানের কাছে চুপিসারে বলি– তুমি আমার মনের,
হৃদয়ের ‘পূর্ণিমা! তবে আড়ালে দাঁড়িয়ে তোমার
ওই রূপালি ‘চন্দ্রকলা’ নামটি, ঈর্ষায় অপমানে
নীল হয়ে দূরে বহুদূরে সরে যাবে?
আসলে আমি কোনো একটা নামের মোহগ্রস্ত নই,
আমি তো তোমার সত্তার পরতে পরতে
লুকিয়ে থাকা এক উদাসীন যাযাবর প্রেমিক,
তোমার একেকটি নাম আমার একেকটি
নিঃশ্বাস, একেকটা বাঁচার অনুপ্রেরণা!
তাই বুকভরা ভালোবাসা, ব্যাকুলতা নিয়ে
আজও শুধু ভাবি–কোন নামে ডাকলে
পৃথিবীর সব কোলাহল ভুলে
এক নিমেষে এসে আমার এই শূন্য
বুকের পাঁজরে ধরা দেবে?








