আমাদের সৌরজগতে প্রবেশ করেছে এ যাবৎকালে দেখা প্রাচীনতম এক আন্তঃনাক্ষত্রিক ধূমকেতু। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের সামপ্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, কয়েক হাজার কোটি বছর আগে তৈরি হওয়া ‘৩আই/অ্যাটলাস’ নামের ধূমকেতুটির রাসায়নিক গঠন আমাদের সৌরজগতের যে কোনো বস্তুর চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। বিগ ব্যাং বা মহাবিশ্ব তৈরির আদিম যুগের উপাদান বুকে নিয়ে কোটি কোটি কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া এ ধূমকেতুটি জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সামনে মহাকাশ গবেষণার এক নতুন দুয়ার উন্মোচন করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স। আন্তঃনাক্ষত্রিক ধূমকেতুটি নিয়ে গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা বলেছেন, বাইরে থেকে আমাদের সৌরজগতে আসা এ অতিথিটি বিস্ময়কর রকমের প্রাচীন। প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি বছর আগে এক আদিম গ্রহীয় সিস্টেমে এর জন্ম হয়েছিল। গবেষকরা বলেছেন, সৌরজগতে এ পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া তৃতীয় আন্তঃনাক্ষত্রিক বস্তু এ ধুমকেতু, যার রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করে ধূমকেতুটি যে গ্রহীয় সিস্টেমে তৈরি হয়েছিল সেখানকার ভৌত ও রাসায়নিক অবস্থা কেমন ছিল সে সম্পর্কে ধারণা মিলেছে। সোমবার গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার–এ। গবেষণার প্রধান লেখক ও মেরিল্যান্ডের গ্রিনবেল্টে অবস্থিত নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টার–এর গ্রহ বিজ্ঞানী ও জ্যোতিঃরসায়নবিদ মার্টিন কর্ডিনার বলেছেন, প্রায় ২.৬ কিলোমিটার ব্যাসের এ ধূমকেতুটি সম্ভবত আমাদের সৌরজগতে প্রবেশ করা এ যাবৎকালের সবচেয়ে প্রাচীন বস্তু। গবেষকরা বলছেন, প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে পৃথিবী ও আমাদের সৌরজগতের অন্যান্য বস্তু যে পরিবেশে তৈরি হয়েছিল নতুন ধূমকেতুটি তার চেয়ে বেশি শীতল পরিবেশে প্রায় মাইনাস ৪০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় জন্মেছিল। কোনো এক অজানা কারণে নিজস্ব গ্রহীয় সিস্টেম থেকে ছিটকে যাওয়ার পর তা মহাবিশ্বের অনেক দূরত্ব পাড়ি দিয়ে এখানে এসেছে। গবেষক কর্ডিনার বলেছেন, আমরা এর আগে কখনোই এ ধূমকেতুর মতো কোনো বস্তু দেখিনি। গবেষকরা জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ ধূমকেতুর হাইড্রোজেন ও কার্বনের মতো বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের আইসোটোপ বা একই উপাদানের ভিন্ন রূপের অনুপাত পরিমাপ করেছেন।










