নিজের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংসদ সদস্যের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা দিয়েছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ব্যক্তিগত কৈফিয়তে দাঁড়িয়ে ক্ষমতাসীন দলের সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের মতো দায়িত্বশীল জায়গা থেকে অভিযোগের সুরে কথা না বলে যদি এক টাকার দুর্নীতি, এক টাকার কোনো ধরনের অসৎ উপায়ের প্রমাণ দিতে পারেন, আমি এই সংসদ থেকে ইস্তফা দিব। খবর বিডিনিউজের।
এর আগে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা, করের চাপ, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, ঋণখেলাপি, পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনা এবং বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক চলছিল। বাজেট আলোচনায় বক্তব্য দেওয়ার একপর্যায়ে কুমিল্লা–৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত বলেন, সরকারের সমালোচনা করলে বা কোনো মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথা বললে তার এলাকার মানুষ যেন বঞ্চিত না হয়, সে নিশ্চয়তা প্রয়োজন। আমি আপনার প্রটেকশন দাবি করছি, কারণ আমরাও বলতে ভয় পাই। কারণ আমরা যদি সরকারের সমালোচনা করি, কোনো প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলি, মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলি, আমার এলাকার বাজেট বন্ধ করে দেবে না, সেটার কিন্তু নিশ্চয়তা নাই। এরপর তিনি স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, আপনার কাছে অনুরোধ করি, আমার জন্য আমার এলাকার মানুষকে যেন বঞ্চিত করা না হয়।
এরপর বাজেট আলোচনায় হাসনাতের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন চট্টগ্রাম–১০ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। তিনি বলেন, টাকা আপনাকে দেওয়া হবে না, আপনার এলাকায় টাকা দেওয়া হবে; এলাকার মানুষের জন্য টাকা দেওয়া হবে। বরাদ্দ কোনো ব্যক্তির জন্য হয় না; জনগণের জন্য দেওয়া হয়।
নোমানের বক্তব্যের পর বিধি ২৭৪ অনুযায়ী ব্যক্তিগত কৈফিয়ত দিতে দাঁড়ান হাসনাত। তিনি বলেন, তার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তিনি নিজের জন্য কোনো বরাদ্দ চাননি। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য বলেন, যেহেতু আমার নাম ধরে বলা হয়েছে, আমি আমার বক্তব্যের কোথাও এই শব্দ উচ্চারণ করিনি বা এই বাক্য বলিনি যে, আমাকে যেন বরাদ্দ বঞ্চিত না করা হয়।
এই পর্যায়ে সংসদে কিছুটা কথাবার্তা শুরু হলে স্পিকার বলেন, সাঈদ আল নোমান নাম ধরে বলেছিলেন, তাই হাসনাত তার বক্তব্য দিয়েছেন। তবে ব্যক্তিগত কৈফিয়ত নিয়ে আর বিতর্কে না যাওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।










