ভালোবাসা, নারী–পুরুষের কেমিস্ট্রি, দুই আত্মার অদৃশ্য আকর্ষণ এসব যেন এক রহস্যময় গোলকধাঁধা। কে কখন কার প্রেমে পড়ে, কোন হৃদয় কখন অন্য এক হৃদয়ের জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে, তা অনেক সময় ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় দিয়েও বোঝা যায় না। প্রেম যুক্তির ভাষা মানে না, সামাজিক অবস্থান মানে না, সম্পদ, বংশ কিংবা ক্ষমতার হিসাবও সবসময় মানে না। আমাদের প্রত্যেকের জীবনেও হয়তো কোনো না কোনো বসন্ত এসে একদিন ফুল ফোটায়। কেউ সেই ফুলকে চিরদিনের জন্য ঘরে তুলতে পারে, কেউ পারে না। কারও প্রেম পূর্ণতা পায়, কারও প্রেম বিয়োগান্ত স্মৃতি হয়ে হৃদয়ের গভীরে থেকে যায়। তবুও আশ্চর্যের বিষয়, সময়ের দীর্ঘ পথ পেরিয়েও সেই স্মৃতি মুছে যায় না; বরং পুরোনো দিনের কোনো বিকেলে, কোনো বৃষ্টির শব্দে কিংবা কোনো গানের সুরে আবার ফিরে আসে। সাহিত্যের পাতায় প্রেমের কত রূপ! কথাশিল্পী শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর উপন্যাসে প্রেম কখনো সামাজিক বাধার বিরুদ্ধে সংগ্রাম, কখনো আত্মত্যাগের মহাকাব্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেম মানবাত্মার গভীরতম স্পর্শ, আর প্রেম আর দ্রোহের কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর প্রেম বিদ্রোহী অথচ কোমল হৃদয়ের এক অগ্নিগান, তার লিখিত পত্রাবলী পড়লে বুঝা যায় কত ব্যথাতুর ছিল তার হৃদয়!! অন্যদিকে আধুনিক বাংলা কবি জীবনানন্দ দাস এর কবিতায় প্রেম অনেক সময় বিষণ্ন আলোছায়ার মতো, যেখানে আকাঙ্ক্ষা ও নিঃসঙ্গতা একাকার হয়ে যায়, যার পরিণতিতে কবি নিজেই গঙ্গায় নিজেকে ভাসিয়ে দিয়ে যায়। গানের জগতেও প্রেমের গল্প কম নয়। সুর, শব্দ আর অনুভূতির মেলবন্ধনে প্রেম কখনো আনন্দ, কখনো বেদনা, কখনো বা চিরঅপূর্ণতার দীর্ঘশ্বাস হয়ে ধরা দেয়। কারণ প্রেমের প্রকৃত শক্তি হয়তো প্রাপ্তিতে নয়, অনুভবে।









