গোলের দৌড়ে পাশাপাশি মেসি, এমবাপে ও হালান্ড

স্পোর্টস ডেস্ক | বুধবার , ২৪ জুন, ২০২৬ at ৫:৫২ পূর্বাহ্ণ

আগের ম্যাচে একটু এগিয়ে ছিলেন লিওনেল মেসি। এবার তিনজনই পাশাপাশি, কেউ কাউকে ছেড়ে দিচ্ছেন না। জোড়া গোলে বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ড নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলেন মেসি। তার পিছু ছুটতে থাকা কিলিয়াম এমবাপেও জোড়া গোলে রাঙালেন রাত। এরপর আর্লিং হলান্ড আবার দুই গোলে জানান দিলেন নিজের অস্তিত্ব। তিন তারকা মিলে আবার উপহার দিলেন বিশ্বকাপে বিশ্ব কাঁপানো একটি দিন।

আগের ম্যাচের হ্যাটট্রিক এখনও একটু এগিয়ে রেখেছে মেসিকে। সেদিনের পুনরাবৃত্তির সুযোগ ছিল তার। পেনাল্টি কাজে লাগাতে পারলেই হয়তো টানা দুই ম্যাচে হ্যাটট্রিক হয়ে যেত জাদুকরের। কিন্তু বলটি কিঞ্চিত বাইরে মেরে দেন তিনি। বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে পেনাল্টি কাজে লাগাতে পারলেন না এই নিয়ে তিনবার, বিশ্বকাপ ইতিহাসে যা রেকর্ড। অনাকাঙ্ক্ষিত সেই রেকর্ডের পরে যথারীতি ঘোর লাগিয়ে দিয়েছেন মেসি। পেনাল্টিতে ব্যর্থতার পর দুই গোল করে নিজের ‘অতিমানব’ রূপটি মেলে ধরেছেন আবার।

মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকেই। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুই গোলে রেকর্ডটি শুধু একার করে নেননি, নতুন উচ্চতায়ও তুলে নিয়েছেন। এই ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা (২৮টি), সবচেয়ে বেশি জয় (১৮) ও সবচেয়ে বেশি মিনিট (২ হাজার ৪৮৯) খেলার রেকর্ডও গড়েছেন মেসি।

এসব রেকর্ড ছুঁতে এখনও অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে এমবাপেকে। তবে গোলের রেকর্ডে মেসির পিছু পিছুই ছুটছেন এমবাপে। গত দুই বিশ্বকাপে দেখিয়েছেন, নিজের সেরাটা জমা রাখেন তিনি বিশ্ব আসরের জন্য। এবারও ব্যতিক্রম নয়। প্রথম ম্যাচে দুই গোলের পর সোমবার ইরাকের বিপক্ষে যোগ করেছেন আরও দুটি। সেই দুটির প্রথমটি দর্শনীয়। বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের বাঁকানো গোলায় সেই গোলটি এখনও পর্যন্ত এবারের আসরের সেরা গোলগুলির একটি। পরেরটি ছিল প্রতিপক্ষের ভুল থেকে পাওয়া উপহার। বিশ্বকাপে মেসির গোল ২৮ ম্যাচে ১৮টি। এমবাপের ১৬ গোল হয়ে গেল ১৬ ম্যাচেই। এবার হোক বা সামনে, গোলের তালিকায় এক সময় যে তিনিই যে চূড়ায় থাকবেন, তা নিয়ে সংশয় আছে সামান্যই।

এদিকে বয়স, অভিজ্ঞতা, অর্জন, সবকিছুই কম হলান্ডের। তবে গোল করার সামর্থ্য যে কম নেই, সেই প্রমাণ দিয়েই চলেছেন তিনি। মেসির এটি ষষ্ঠ বিশ্বকাপ, এমবাপের তৃতীয়, হলান্ডের প্রথম। কিন্তু প্রথম দুই ম্যাচেই নিজের জাত চিনিয়ে দিয়েছেন নরওয়ের এই ফরোয়ার্ড। দলের সবচেয়ে বড় তারকা তিনি। প্রত্যাশার ভারও তার ওপরই ছিল সবচেয়ে বেশি। কিন্তু প্রথম বিশ্বকাপ অভিযানে সবকিছু যেন তুড়ি মেরে উড়িয়েই ছুটে চলেছেন ২৫ বছর বয়সী তারকা।

বিশ্বকাপ অভিষেকে ইরাকের বিপক্ষে হলান্ড গোল করেছিলেন দুটি। সেনেগালের বিপক্ষেও সোমবার জোড়া গোলে জেতান নরওয়েকে। বিশ্বকাপে মোট গোলের লড়াইয়ে তিনি মেসিএমবাপের পিছু নিতে পারবেন কিনা, সেটি বলবে সময়। তবে এবারের আসরে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে থাকছেন ভালোভাবেই। আপাতত ত্রিমুখী এই লড়াইয়ের সামনে তাকিয়ে হলান্ডকে একটু পিছিয়ে রাখতে হবে দলের কারণে। নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে ফেললেও বিশ্বকাপের ফেভারিটদের মধ্যে নেই তার দল। কোয়ার্টারফাইনাল খেলতে পারাও তাদের জন্য হবে বেশ বড় অর্জন।

যদিও মাঠের লড়াই শেষ হওয়ার আগে শেষ কথা বলে কিছু নেই, তবে সাধারণ সমীকরণে তাদের বেশি দূর যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে যে পর্যন্ত নরওয়ে টিকে থাকবে, হলান্ডকে নিয়ে বাজি ধরাই যায়। মেসি ও এমবাপের দল তো অনেক দূর যাবে বলে আশা করাই যায়। তাদের গোলের রথও আটকে রাখা হবে ভীষণ কঠিন। সব মিলিয়ে গোলের রোমাঞ্চকর এক লড়াই অপেক্ষায়। শিরোপার লড়াই জমে উঠবে আরও পরে, আসরের শেষের দিকে। কিন্তু গোল্ডেন বুটের লড়াই তুমুল জমে উঠেছে একদম শুরু থেকেই।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ‘পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত’
পরবর্তী নিবন্ধটেকনাফে ব্রিজের রেলিং ভেঙে খাদে মিনিবাস